মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬ , ০২:২০ পিএম
ধূমপানের তুলনায় নিরাপদ মনে করে অনেকেই এখন ভেপ ব্যবহার করছেন। কেউ কৌতূহল থেকে, কেউ বিভিন্ন স্বাদের আকর্ষণে, আবার কেউ ধূমপান ছাড়ার বিকল্প হিসেবে এটি বেছে নিচ্ছেন। তবে সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে, এই ধারণা পুরোপুরি সঠিক নয়। ভেপের বাষ্পে থাকা নিকোটিন, বিষাক্ত রাসায়নিক ও ভারী ধাতু দীর্ঘমেয়াদে ফুসফুস, হৃদ্যন্ত্রসহ শরীরের বিভিন্ন অঙ্গের ক্ষতি করতে পারে।
একসময় ভেপের ব্যবহার সীমিত থাকলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশ-বিদেশে এর জনপ্রিয়তা অনেক বেড়েছে। চলতি ভাষায় ভেপ বলা হলেও এর প্রকৃত নাম বৈদ্যুতিক সিগারেট। অনেকের বিশ্বাস, এটি সাধারণ সিগারেটের তুলনায় কম ক্ষতিকর। কিন্তু বিভিন্ন গবেষণায় উঠে এসেছে ভিন্ন তথ্য।
বিজ্ঞানবিষয়ক সাময়িকীর তথ্য অনুযায়ী, ইংল্যান্ডে বর্তমানে প্রায় ৪৫ লাখ মানুষ নিয়মিত বা অনিয়মিতভাবে ভেপ ব্যবহার করেন। যুক্তরাষ্ট্রেও তরুণদের মধ্যে এর ব্যবহার দ্রুত বেড়েছে। বাংলাদেশেও বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভেপের ব্যবহার বাড়ছে। এক গবেষণায় দেখা গেছে, প্রায় এক-তৃতীয়াংশ শিক্ষার্থী জীবনে অন্তত একবার ভেপ ব্যবহার করেছেন বা নিয়মিত ব্যবহার করেন। একই গবেষণায় আরও জানা যায়, অনেকেই ভেপের স্বাস্থ্যঝুঁকি সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা রাখেন না।
কীভাবে কাজ করে ভেপ
ভেপের ভেতরে থাকা বিশেষ তরল গরম হয়ে বাষ্পে পরিণত হয়। ব্যবহারকারী সেই বাষ্প শ্বাসের সঙ্গে ফুসফুসে টেনে নেন। এই তরলে সাধারণত নিকোটিন, বিভিন্ন স্বাদের উপাদান এবং অন্যান্য রাসায়নিক মিশ্রণ থাকে।
কেন বিপজ্জনক
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভেপে থাকা নিকোটিন একটি আসক্তিকর উপাদান। এটি হৃদ্স্পন্দন ও রক্তচাপ বাড়াতে পারে। দীর্ঘদিন ব্যবহার করলে হৃদ্যন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কাও থাকে।
এছাড়া ভেপে ব্যবহৃত বিভিন্ন স্বাদের রাসায়নিক উপাদান ফুসফুসের কোষে জ্বালাপোড়া সৃষ্টি করতে পারে। দীর্ঘদিন ব্যবহারে কাশি, শ্বাসকষ্ট, বুকব্যথা এবং ফুসফুসের কর্মক্ষমতা কমে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়ে।
গবেষণায় আরও দেখা গেছে, ভেপ ব্যবহারের সময় নিকেলসহ বিভিন্ন ভারী ধাতু শরীরে প্রবেশ করতে পারে। এসব ধাতু দীর্ঘমেয়াদে ফুসফুসের ক্ষতি এবং ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। এমনকি বেশি সময় ধরে ভেপ ব্যবহার করলে এই ক্ষতিকর ধাতুর পরিমাণও বেড়ে যায়।
ক্যানসারের ঝুঁকি নিয়ে যা বলছে গবেষণা
ভেপের সঙ্গে ক্যানসারের সম্পর্ক নিয়ে এখনও গবেষণা চলছে। প্রাণীর ওপর পরিচালিত এক গবেষণায় ভেপের বাষ্প গ্রহণকারীদের মধ্যে ফুসফুস ও মূত্রথলির ক্যানসারের প্রবণতা বেশি দেখা গেছে। তবে মানুষের ক্ষেত্রে একই ফল নিশ্চিত করতে আরও গবেষণার প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন গবেষকেরা।
ধূমপান ছাড়ার নিরাপদ উপায় কি
কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, ভেপ ব্যবহার করে কিছু মানুষ ধূমপান ছাড়তে সক্ষম হয়েছেন। আবার অনেকেই ভেপ ব্যবহার শুরু করার পর সিগারেটেও আসক্ত হয়েছেন। তাই চিকিৎসকদের মতে, ধূমপান ছাড়ার উপায় হিসেবে ভেপ ব্যবহার করতে হলে অবশ্যই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
সচেতনতাই সবচেয়ে বড় সুরক্ষা
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, ভেপকে নিরীহ বা নিরাপদ মনে করার সুযোগ নেই। নিকোটিননির্ভর এই পণ্যের দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি অনেক ক্ষেত্রে স্থায়ী হতে পারে। তাই সাময়িক স্বাদ বা বিনোদনের জন্য ভেপ ব্যবহার না করে সচেতন সিদ্ধান্ত নেওয়াই নিজের স্বাস্থ্য সুরক্ষার সবচেয়ে নিরাপদ পথ।
আরটিভি/জেএমএ