মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬ , ০২:৫৯ পিএম
বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি মানুষ ডিমেনশিয়ায় আক্রান্ত। বয়স বাড়ার সঙ্গে স্মৃতিশক্তি কমে যাওয়া, চিন্তাশক্তি দুর্বল হওয়া এবং দৈনন্দিন কাজকর্মে সমস্যা তৈরি হওয়া এই রোগের সাধারণ লক্ষণ। তবে আশার খবর হলো, গবেষকদের মতে, জীবনযাত্রায় কিছু পরিবর্তন আনতে পারলে প্রায় ৪৫ শতাংশ ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি কমানো সম্ভব।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালে বিশ্বে প্রায় ৫ কোটি ৭০ লাখ মানুষ ডিমেনশিয়ায় আক্রান্ত ছিলেন। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি দেখা যায় আলঝেইমার ধরনের ডিমেনশিয়া, যা মোট রোগীর প্রায় ৬০ থেকে ৭০ শতাংশের ক্ষেত্রে দায়ী।
সম্প্রতি প্রকাশিত গবেষণায় বলা হয়েছে, ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি বাড়ায় এমন ১৪টি পরিবর্তনযোগ্য কারণ রয়েছে। এগুলো নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারলে রোগের ঝুঁকিও অনেকটা কমানো সম্ভব। তবে শুধু ঝুঁকির কথা জানলেই হবে না, সেগুলো বাস্তবে মেনে চলাও জরুরি।
যেসব কারণে বাড়ে ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি
গবেষকদের মতে, অল্প বয়সে পর্যাপ্ত শিক্ষা না পাওয়া মস্তিষ্কের স্বাভাবিক বিকাশে প্রভাব ফেলে। তাই সারা জীবন নতুন কিছু শেখার অভ্যাস মস্তিষ্ককে সক্রিয় রাখতে সাহায্য করে।
মধ্য বয়সে শ্রবণশক্তি কমে গেলে তা দ্রুত শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। কারণ দীর্ঘদিন কানে কম শোনা মস্তিষ্কের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে এবং সামাজিক যোগাযোগও কমিয়ে দেয়।
রক্তে ক্ষতিকর চর্বির মাত্রা বেশি থাকলে মস্তিষ্কে রক্ত চলাচল বাধাগ্রস্ত হতে পারে। তাই সুষম খাদ্য, নিয়মিত শরীরচর্চা এবং প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ গ্রহণ জরুরি।
বিষণ্নতাও ডিমেনশিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ ঝুঁকির কারণ। তাই দীর্ঘদিন মন খারাপ, হতাশা বা মানসিক চাপ থাকলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া প্রয়োজন।
মাথায় আঘাত পাওয়া ভবিষ্যতে মস্তিষ্কের ক্ষতির ঝুঁকি বাড়াতে পারে। তাই খেলাধুলা বা চলাফেরার সময় নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্ব দিতে হবে।
উচ্চ রক্তচাপ দীর্ঘদিন নিয়ন্ত্রণে না থাকলে মস্তিষ্কের রক্তনালির ক্ষতি হতে পারে। তাই নিয়মিত রক্তচাপ পরীক্ষা ও নিয়ন্ত্রণে রাখা জরুরি।
শরীরচর্চার অভাবও ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি বাড়ায়। নিয়মিত হাঁটা বা ব্যায়াম মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা ভালো রাখতে সাহায্য করে।
ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে না থাকলে রক্তনালি ও মস্তিষ্কের কোষ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাই রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখা জরুরি।
ধূমপান শরীরে প্রদাহ ও রক্তনালির ক্ষতি বাড়ায়, যা মস্তিষ্কের স্বাস্থ্যের জন্যও ক্ষতিকর। তাই ধূমপান ছেড়ে দেওয়া সবচেয়ে ভালো সিদ্ধান্ত।
অতিরিক্ত ওজন হৃদ্রোগ, ডায়াবেটিস ও অন্যান্য জটিলতার ঝুঁকি বাড়িয়ে পরোক্ষভাবে ডিমেনশিয়ার সম্ভাবনাও বাড়ায়।
অতিরিক্ত মদ্যপান মস্তিষ্কের কোষের ক্ষতি করতে পারে। তাই এ অভ্যাস থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
বয়স বাড়ার সঙ্গে একাকীত্ব ও সামাজিক বিচ্ছিন্নতা মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা কমিয়ে দিতে পারে। তাই পরিবার, বন্ধু ও সমাজের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা জরুরি।
চোখের সমস্যা চিকিৎসা ছাড়া ফেলে রাখলেও ঝুঁকি বাড়তে পারে। কারণ এতে সামাজিক ও মানসিক সক্রিয়তা কমে যায়।
এছাড়া বায়ুদূষণের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাবও মস্তিষ্কের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে বলে বিভিন্ন গবেষণায় ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
একসঙ্গে সব দিকেই নজর দিতে হবে
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ঝুঁকিগুলো একে ওপরের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত। যেমন শরীরচর্চার অভাবে ওজন বাড়ে, ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি বাড়ে। আবার শ্রবণশক্তি কমে গেলে একাকীত্ব ও বিষণ্নতার সম্ভাবনাও বাড়তে পারে।
তাদের মতে, ডিমেনশিয়া প্রতিরোধে কোনো একটি বিষয় নয়, বরং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন, নিয়মিত শরীরচর্চা, সুষম খাদ্য, মানসিক সুস্থতা এবং সামাজিকভাবে সক্রিয় থাকা—সবকিছু মিলিয়েই সবচেয়ে কার্যকর ভূমিকা রাখে। ছোট ছোট ইতিবাচক পরিবর্তন ভবিষ্যতে ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি অনেকটাই কমিয়ে দিতে পারে।
সূত্র: হেলথলাইন
আরটিভি/জেএমএ