বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬ , ১১:১২ এএম
নারীদের জীবনে একটি স্বাভাবিক জৈবিক পরিবর্তনের নাম মাসিক স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়া। এটি সাধারণত ৫০ থেকে ৫২ বছর বয়সের মধ্যে ঘটে। তবে এর আগে কয়েক বছর ধরে শরীরে নানা ধরনের পরিবর্তন দেখা দিতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব পরিবর্তন সম্পর্কে আগে থেকেই জানলে এই সময়টিকে অনেক সহজভাবে সামাল দেওয়া সম্ভব।
কীভাবে শুরু হয় এই পরিবর্তন?
মাসিক হঠাৎ করে বন্ধ হয় না। এর আগে কয়েক বছর ধরে শরীরে হরমোনের পরিবর্তন শুরু হয়। এ সময় মাসিক অনিয়মিত হতে পারে। কখনও বেশি, কখনও কম রক্তপাত হতে পারে। এই সময়কে মাসিক বন্ধের আগের ধাপ বলা হয়।
টানা ১২ মাস মাসিক না হলে সেটিকে স্থায়ীভাবে মাসিক বন্ধ হওয়ার পর্যায় হিসেবে ধরা হয়। এরপর শুরু হয় পরবর্তী জীবনপর্ব।
যেসব লক্ষণ দেখা দিতে পারে
এই সময় একেক নারীর অভিজ্ঞতা একেক রকম হতে পারে। কারও উপসর্গ খুব কম থাকে, আবার কারও ক্ষেত্রে বেশ তীব্র হতে পারে।
সাধারণ লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে—
এছাড়া মানসিক পরিবর্তনের মধ্যেও থাকতে পারে—
কেন হয়?
বিশেষজ্ঞদের মতে, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শরীরে নারী হরমোনের মাত্রা কমতে থাকে। এর ফলে ডিম্বাশয় ধীরে ধীরে ডিম্বাণু তৈরি বন্ধ করে দেয়। এ কারণেই মাসিক স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে যায়।
তবে কিছু ক্ষেত্রে ক্যানসারের চিকিৎসা, ডিম্বাশয় অপসারণের অস্ত্রোপচার, বিকিরণ চিকিৎসা বা অন্য কিছু চিকিৎসাজনিত কারণেও স্বাভাবিক সময়ের আগেই মাসিক বন্ধ হতে পারে।
কীভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়?
মাসিক অনিয়মিত হওয়ার পাশাপাশি এসব লক্ষণ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। প্রয়োজন হলে রক্ত পরীক্ষা করে হরমোনের মাত্রা দেখা হয়। পাশাপাশি একই ধরনের উপসর্গের অন্য কোনো কারণ আছে কি না, তাও পরীক্ষা করা হতে পারে।
উপসর্গ কমাতে কী করবেন?
বিশেষজ্ঞদের মতে, উপসর্গের ধরন অনুযায়ী চিকিৎসা দেওয়া হয়। প্রয়োজন হলে হরমোনভিত্তিক চিকিৎসা, কিছু ওষুধ, শুষ্কতা কমানোর জন্য বিশেষ ময়েশ্চারাইজার বা সহবাসের সময় ব্যবহারের জন্য পিচ্ছিলকারী ব্যবহার করা যেতে পারে।
তবে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনো ওষুধ বা হরমোন গ্রহণ করা উচিত নয়।
জীবনযাপনে যেসব পরিবর্তন উপকারী
এই সময় কিছু অভ্যাস পরিবর্তন করলে উপসর্গ অনেকটাই কমানো সম্ভব।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মাসিক বন্ধ হওয়া কোনো রোগ নয়, বরং জীবনের একটি স্বাভাবিক পরিবর্তন। তবে উপসর্গ তীব্র হলে বা দৈনন্দিন জীবন ব্যাহত হলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। সঠিক চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের মাধ্যমে এই সময়টিও স্বাভাবিক ও স্বস্তিতে কাটানো সম্ভব।
সূত্র: হেলথ লাইন
আরটিভি/জেএমএ