মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬ , ০৮:৪২ এএম
সম্পর্ক ভাঙার সিদ্ধান্ত কখনোই সহজ নয়। তবে সেই কঠিন সময়ের আইনি প্রক্রিয়া সামলাতে এখন অনেক তরুণ-তরুণী আইনজীবীর বদলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর সাহায্য নিচ্ছেন। বিশেষ করে বর্তমান প্রজন্মের মধ্যে এই প্রবণতা দ্রুত বাড়ছে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
তথ্য অনুযায়ী, হাজার হাজার ডলার খরচ করে আইনজীবী নিয়োগের পরিবর্তে অনেকেই এখন এআই-এর সাহায্যে বিচ্ছেদের খসড়া চুক্তি তৈরি, প্রয়োজনীয় নথি প্রস্তুত এবং জটিল আইনি ভাষা সহজে বুঝে নেওয়ার চেষ্টা করছেন।
২৮ বছর বয়সী শিল্প নির্দেশক ব্রিটানি ব্রিনকা জানান, ২৪ বছর বয়সে বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর তিনি একটি ওয়েবসাইট এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক কথোপকথনের মাধ্যম ব্যবহার করে নিজেই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র তৈরি করেছিলেন। পরে স্থানীয় দপ্তরের সহায়তায় কোনো আইনজীবী ছাড়াই পুরো আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন।
পারিবারিক আইন নিয়ে কাজ করা আইনজীবীরা বলছেন, এখন অনেক তরুণ-তরুণী এআই-এর সাহায্যে নথির খসড়া তৈরি করে পরে তা যাচাইয়ের জন্য তাদের কাছে নিয়ে আসেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সন্তানের দায়িত্ব বণ্টনের সময়সূচি, আর্থিক তথ্য গুছিয়ে নেওয়া কিংবা জটিল আইনি ভাষা বোঝার ক্ষেত্রে এআই প্রাথমিকভাবে বেশ সহায়ক হতে পারে। তবে এটি এখনো অভিজ্ঞ আইনজীবীর বিকল্প নয়।
একটি সমীক্ষায় দেখা গেছে, বর্তমান প্রজন্মের প্রায় অর্ধেক তরুণ-তরুণী প্রেমের সম্পর্ক নিয়ে পরামর্শ পেতেও এআই-এর সাহায্য নেন। আবার ৪১ শতাংশ মানুষ সম্পর্ক ভাঙার সময়ও এই প্রযুক্তির ওপর নির্ভর করেছেন।
তবে আইনজীবীদের সতর্কবার্তা, এআই তথ্য সংগ্রহ ও প্রাথমিক প্রস্তুতিতে সহায়তা করলেও আইনের জটিল বিষয় বা গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞের পরামর্শই সবচেয়ে নিরাপদ।
নিজের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে ব্রিটানি ব্রিনকা বলেন, তার তৈরি নথি দেখে বিচারক সহজেই বুঝতে পেরেছিলেন যে সেগুলো এআই-এর সহায়তায় লেখা। তাই প্রযুক্তি কাজকে সহজ করলেও আইনি বিষয়ে মানবিক অভিজ্ঞতা ও পেশাদার পরামর্শের গুরুত্ব এখনও অপরিবর্তিত রয়েছে।
আরটিভি/জেএমএ