শনিবার, ০১ আগস্ট ২০২৬ , ০৮:৩২ এএম
ছোট-বড় সবারই পছন্দের খাবারের তালিকায় আইসক্রিমের নাম থাকে। গরমে এক স্কুপ আইসক্রিম যেমন স্বস্তি দেয়, তেমনি অনেকের কাছে এটি আনন্দেরও একটি অংশ। তবে নিয়মিত আইসক্রিম খাওয়া শরীরের জন্য কতটা ভালো, তা নিয়ে অনেকেরই প্রশ্ন রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিমিত পরিমাণে খেলে কিছু উপকার মিললেও অতিরিক্ত খেলে নানা স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
আইসক্রিম সাধারণত দুধ, ক্রিম, চিনি এবং বিভিন্ন স্বাদের উপাদান দিয়ে তৈরি করা হয়। এতে দুধ থাকায় ক্যালসিয়াম, ফসফরাস, ভিটামিন এ, ডি ও বি-১২-এর মতো কিছু প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান পাওয়া যায়।
আইসক্রিম খাওয়ার সম্ভাব্য উপকারিতা
পরিমিত পরিমাণে আইসক্রিম খেলে শরীর কিছুটা দ্রুত শক্তি পেতে পারে। এতে থাকা ক্যালসিয়াম হাড় ও দাঁত মজবুত রাখতে সাহায্য করে। দুধ থেকে পাওয়া প্রোটিন শরীরের কোষ গঠন ও মেরামতে ভূমিকা রাখে।
অনেকের ক্ষেত্রে পছন্দের আইসক্রিম খেলে মন ভালো হয়ে যায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি শরীরে আনন্দ অনুভবের সঙ্গে সম্পর্কিত হরমোন নিঃসরণে সহায়তা করতে পারে।
বর্তমানে কম চর্বিযুক্ত, কম চিনি এবং দুধবিহীন আইসক্রিমও পাওয়া যায়। ফলে প্রয়োজন অনুযায়ী তুলনামূলক স্বাস্থ্যকর বিকল্প বেছে নেওয়া সম্ভব।
অতিরিক্ত আইসক্রিম খেলে যেসব ঝুঁকি থাকে
বিশেষজ্ঞদের মতে, আইসক্রিমে চিনি, চর্বি ও ক্যালোরির পরিমাণ বেশি থাকে। তাই বেশি খেলে ওজন বাড়তে পারে এবং রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে যেতে পারে।
নিয়মিত অতিরিক্ত আইসক্রিম খাওয়ার ফলে দাঁতের ক্ষয়, হৃদরোগের ঝুঁকি এবং দীর্ঘমেয়াদে ডায়াবেটিসের আশঙ্কাও বাড়তে পারে।
যাদের দুধ হজমে সমস্যা রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে আইসক্রিম খেলে পেট ফাঁপা, পেট ব্যথা, গ্যাস বা পাতলা পায়খানার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।
এছাড়া অতিরিক্ত মিষ্টি ও চর্বিযুক্ত খাবারের প্রতি নির্ভরশীলতা তৈরি হলে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস ব্যাহত হতে পারে।
যাদের আইসক্রিম খাওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা উচিত
ল্যাকটোজ অসহিষ্ণুতা, দুধে অ্যালার্জি, ডায়াবেটিস, উচ্চ কোলেস্টেরল বা ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকা ব্যক্তিদের আইসক্রিম খাওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে হবে। প্রয়োজন হলে কম চিনি, কম চর্বিযুক্ত বা দুধবিহীন বিকল্প বেছে নেওয়া যেতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, আইসক্রিম পুরোপুরি বাদ দেওয়ার প্রয়োজন নেই। তবে এটি যেন প্রতিদিনের খাবার না হয়ে মাঝে মাঝে পরিমিত পরিমাণে খাওয়ার আনন্দদায়ক খাবার হিসেবেই থাকে। পাশাপাশি সুষম খাদ্যাভ্যাস ও নিয়মিত শরীরচর্চা বজায় রাখাও জরুরি।
সূত্র: ওএনসিকিউইউইএসটি ল্যাবরেটরিজ
আরটিভি/জেএমএ