images

লাইফস্টাইল / স্বাস্থ্য পরামর্শ / পরামর্শ

পাঁচ বছরের আগেই শিশুর সুস্থ বিকাশে জরুরি যেসব অভ্যাস

রোববার, ০২ আগস্ট ২০২৬ , ১১:১৬ এএম

শিশুর সুস্থ বৃদ্ধি, মস্তিষ্কের বিকাশ এবং মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য প্রতিদিন নিয়মিত শরীরচর্চা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষজ্ঞদের মতে, পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের প্রতিদিন নড়াচড়া ও খেলাধুলার সুযোগ করে দেওয়া উচিত। হালকা কিংবা বেশি পরিশ্রমের—সব ধরনের শারীরিক কর্মকাণ্ডই তাদের সুস্থ বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

এক বছরের কম বয়সী শিশুর জন্য কী করবেন?

এক বছরের কম বয়সী শিশুকে প্রতিদিন যতটা সম্ভব নড়াচড়া করতে উৎসাহিত করতে হবে। হামাগুড়ি দেওয়া, হাত বাড়িয়ে কিছু ধরার চেষ্টা, হাত-পা নাড়ানো, মাথা ঘোরানো এবং মেঝেতে নিরাপদ পরিবেশে খেলাধুলা তার শারীরিক বিকাশে সহায়তা করে।

যেসব শিশু এখনও হামাগুড়ি দিতে পারে না, তাদেরও প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট উপুড় হয়ে খেলতে দেওয়া উচিত। তবে এটি একটানা না করে দিনের বিভিন্ন সময়ে ভাগ করে করানো ভালো।

এক থেকে দুই বছরের শিশুর কতটা শরীরচর্চা দরকার?

এই বয়সী শিশুদের প্রতিদিন অন্তত তিন ঘণ্টা সক্রিয় থাকতে হবে। এর মধ্যে হাঁটা, দৌড়ানো, লাফানো, বল নিয়ে খেলা, সাইকেল চালানো, পানিতে খেলা কিংবা খেলার মাঠে সময় কাটানোর মতো বিভিন্ন কর্মকাণ্ড থাকতে পারে।

আরও পড়ুন
Web-Image

গ্যাস নেই? ইনডাকশন চুলায় রান্নার ৫ জরুরি নিয়ম

তিন থেকে চার বছরের শিশুদের জন্য কী প্রয়োজন?

তিন থেকে চার বছরের শিশুদেরও প্রতিদিন অন্তত তিন ঘণ্টা বিভিন্ন ধরনের শারীরিক কর্মকাণ্ডে অংশ নেওয়া উচিত। এর মধ্যে অন্তত এক ঘণ্টা তুলনামূলক বেশি পরিশ্রমের খেলাধুলা বা শরীরচর্চা থাকা প্রয়োজন। বাইরে খেলাধুলা করলে শিশুর শারীরিক ও মানসিক বিকাশ আরও ভালো হয়।

দীর্ঘ সময় বসে থাকা ক্ষতিকর

বিশেষজ্ঞদের মতে, পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের দীর্ঘ সময় নিষ্ক্রিয় রাখা উচিত নয়। ঘুমের সময় ছাড়া টেলিভিশন দেখা, দীর্ঘ সময় গাড়িতে বসে থাকা বা এক জায়গায় আটকে রাখা শিশুর স্বাভাবিক বিকাশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

অতিরিক্ত ওজনের শিশুরাও উপকৃত হয়

যেসব শিশুর ওজন বেশি, তাদের জন্যও নিয়মিত শরীরচর্চা এবং স্বাস্থ্যকর খাবার খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এতে তাদের সামগ্রিক স্বাস্থ্য ভালো থাকে, এমনকি ওজন দ্রুত না কমলেও শরীর সুস্থ থাকে।

প্রতিবন্ধী শিশুর ক্ষেত্রেও প্রয়োজন নিয়মিত নড়াচড়া

দীর্ঘমেয়াদি অসুস্থতা বা প্রতিবন্ধকতা থাকলেও চিকিৎসকের ভিন্ন পরামর্শ না থাকলে শিশুকে নিয়মিত সক্রিয় রাখা উচিত। প্রয়োজন অনুযায়ী খেলাধুলা বা শরীরচর্চার ধরন পরিবর্তন করা যেতে পারে। এতে শিশুর আত্মবিশ্বাস, মানসিক স্বাস্থ্য এবং শারীরিক বিকাশে ইতিবাচক প্রভাব পড়ে।

যেসব খেলাধুলা শিশুর জন্য উপকারী

শিশুকে সক্রিয় রাখতে প্রতিদিন বিভিন্ন ধরনের খেলাধুলায় অংশ নিতে দেওয়া যেতে পারে। যেমন— ব্লক দিয়ে খেলা, লাফানো, হাঁটা, নাচ, সাঁতার, খেলার মাঠে সময় কাটানো, ওঠানামা করা, দড়ি লাফ, লুকোচুরি, বল ছোড়া ও ধরা, সাইকেল চালানো এবং খোলা জায়গায় খেলাধুলা।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, ছোটবেলা থেকেই নিয়মিত নড়াচড়া ও খেলাধুলার অভ্যাস গড়ে তুললে শিশুর শরীর সুস্থ থাকার পাশাপাশি তার মেধা, আত্মবিশ্বাস এবং সামাজিক দক্ষতারও ইতিবাচক বিকাশ ঘটে।


আরটিভি/জেএমএ