মঙ্গলবার, ০৪ আগস্ট ২০২৬ , ০৯:১৩ এএম
পাতলা পায়খানা বা ডায়রিয়া খুবই সাধারণ একটি স্বাস্থ্যসমস্যা। শিশু থেকে শুরু করে প্রাপ্তবয়স্ক—যেকোনো বয়সের মানুষেরই এটি হতে পারে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে কয়েক দিনের মধ্যেই ডায়রিয়া ভালো হয়ে যায়। তবে কখনও কখনও এটি শরীরে পানিশূন্যতা তৈরি করে গুরুতর জটিলতার কারণ হতে পারে। তাই ডায়রিয়ার লক্ষণ, কারণ ও করণীয় সম্পর্কে সবার সচেতন থাকা জরুরি।
ডায়রিয়া কী?
ডায়রিয়া হলো এমন একটি অবস্থা, যখন স্বাভাবিকের তুলনায় বারবার পাতলা বা পানির মতো পায়খানা হয়। সাধারণত ভাইরাসজনিত সংক্রমণের কারণে এটি বেশি দেখা যায়। তবে ব্যাকটেরিয়া, পরজীবী, দূষিত খাবার, কিছু ওষুধ কিংবা হজমের সমস্যার কারণেও ডায়রিয়া হতে পারে।
ডায়রিয়ার ধরন
ডায়রিয়া সাধারণত তিন ধরনের হতে পারে।
স্বল্পমেয়াদি: এক থেকে দুই দিনের মধ্যে সেরে যায়।
দীর্ঘস্থায়ী: দুই থেকে চার সপ্তাহ পর্যন্ত থাকতে পারে।
অতি দীর্ঘস্থায়ী: চার সপ্তাহের বেশি স্থায়ী হলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ প্রয়োজন।
কেন হয় ডায়রিয়া?
ডায়রিয়ার পেছনে নানা কারণ থাকতে পারে। যেমন—
যেসব লক্ষণে সতর্ক হবেন
ডায়রিয়ার সঙ্গে সাধারণত দেখা দিতে পারে— পাতলা পায়খানা, পেটে ব্যথা বা মোচড়, পেট ফাঁপা, বারবার পায়খানার চাপ, বমিভাব।
তবে নিচের লক্ষণগুলো দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি— উচ্চ জ্বর, তীব্র পেটব্যথা, বারবার বমি, পায়খানার সঙ্গে রক্ত বা অতিরিক্ত শ্লেষ্মা, দ্রুত ওজন কমে যাওয়া, শরীরে পানিশূন্যতার লক্ষণ।
পানিশূন্যতার লক্ষণ
ডায়রিয়ায় শরীর থেকে দ্রুত পানি ও প্রয়োজনীয় খনিজ বের হয়ে যায়। ফলে দেখা দিতে পারে— অতিরিক্ত তৃষ্ণা, মুখ শুকিয়ে যাওয়া, মাথা ঘোরা, গা দুর্বল লাগা, প্রস্রাব কম হওয়া বা গাঢ় রঙের হওয়া।
শিশুদের ক্ষেত্রে চোখ বসে যাওয়া, কান্নার সময় চোখে পানি না আসা এবং প্রস্রাব কম হওয়া পানিশূন্যতার গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ।
ঘরে বসে কী করবেন?
হালকা ডায়রিয়ায় কিছু নিয়ম মেনে চললে দ্রুত সুস্থ হওয়া সম্ভব।
১. পর্যাপ্ত বিশুদ্ধ পানি পান করুন।
২. খাবার স্যালাইন বা চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী পানিশূন্যতা পূরণ করুন।
৩. অল্প অল্প করে বারবার তরল খাবার গ্রহণ করুন।
৪. সহজপাচ্য খাবার যেমন কলা, সাদা ভাত, টোস্ট, আলু ও হালকা স্যুপ খেতে পারেন।
৫. অতিরিক্ত তেল-মসলাযুক্ত খাবার, কোমল পানীয়, মদ্যপান ও অতিরিক্ত ক্যাফেইন এড়িয়ে চলুন।
শিশুর ডায়রিয়ায় করণীয়
শিশুর ডায়রিয়া হলে বুকের দুধ খাওয়ানো বন্ধ করা যাবে না। প্রয়োজন হলে অল্প অল্প করে বারবার খাওয়াতে হবে। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী খাবার স্যালাইন দেওয়া যেতে পারে। তবে শিশুদের ক্ষেত্রে নিজের সিদ্ধান্তে কোনো ওষুধ খাওয়ানো উচিত নয়।
কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন?
ডায়রিয়া কয়েক দিনের বেশি স্থায়ী হলে, জ্বর বা রক্তমিশ্রিত পায়খানা হলে, তীব্র দুর্বলতা বা পানিশূন্যতার লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
ডায়রিয়া প্রতিরোধে যা করবেন
ডায়রিয়ার ঝুঁকি কমাতে কয়েকটি সহজ অভ্যাস গড়ে তুলুন—
১. নিয়মিত সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে নিন।
২. বিশুদ্ধ পানি পান করুন।
৩. ভালোভাবে রান্না করা খাবার খান।
৪. নষ্ট বা দূষিত খাবার এড়িয়ে চলুন।
৫. ভ্রমণে নিরাপদ খাবার ও বোতলজাত পানি ব্যবহার করুন।
৬. শিশুদের প্রয়োজনীয় টিকা সময়মতো নিশ্চিত করুন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বেশির ভাগ ডায়রিয়া কয়েক দিনের মধ্যেই সেরে যায়। তবে শরীরে পানিশূন্যতা যেন না হয়, সেদিকে বিশেষ নজর রাখা জরুরি। সময়মতো সঠিক যত্ন ও প্রয়োজন হলে চিকিৎসা নিলে ডায়রিয়ার জটিলতা সহজেই এড়ানো সম্ভব।
সূত্র: ক্লেভেল এন্ড ক্লিনিক অর্গানাইজেশন
আরটিভি/জেএমএ