images

লাইফস্টাইল / স্বাস্থ্য পরামর্শ / পরামর্শ

চিয়া, ফ্ল্যাক্স সিড নাকি ইসবগুলের ভুসি? কোনটি আপনার জন্য সেরা 

বৃহস্পতিবার, ০৬ আগস্ট ২০২৬ , ১২:০৯ পিএম

সুস্থ থাকতে প্রতিদিনের খাবারে আঁশের পরিমাণ বাড়ানোর প্রবণতা এখন অনেকের মধ্যেই দেখা যাচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, পর্যাপ্ত আঁশ খেলে হজম ভালো থাকে, রক্তে শর্করা ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে এবং ওজন নিয়ন্ত্রণেও ভূমিকা রাখে। তবে অনেকেরই প্রশ্ন— চিয়া সিড, ফ্ল্যাক্স সিড নাকি ইসবগুল, কোনটি বেশি উপকারী?

বিশেষজ্ঞরা জানান, আঁশ মূলত দুই ধরনের— দ্রবণীয় ও অদ্রবণীয়। দ্রবণীয় আঁশ পানিতে মিশে জেলজাতীয় পদার্থ তৈরি করে। এটি হজমের গতি ধীর করে এবং অন্ত্রকে সুরক্ষা দিতে সাহায্য করে। অন্যদিকে অদ্রবণীয় আঁশ হজমের গতি বাড়ায় এবং কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতে কার্যকর ভূমিকা রাখে।

চিয়া সিড পানিতে ভিজিয়ে রাখলে ফুলে গিয়ে জেল তৈরি করে। এতে থাকা দ্রবণীয় আঁশ দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখে। ফলে বারবার খাওয়ার ইচ্ছা কমে। পাশাপাশি এটি হজম ভালো রাখতে এবং রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। তাই ওজন কমাতে চাইলে চিয়া সিড ভালো একটি পছন্দ হতে পারে।

আরও পড়ুন
Web-Image

শরীরে পানিশূন্যতা? পানি ছাড়াও উপকার মিলবে এই ৭ খাবারে

ফ্ল্যাক্স সিডেও (তিসির বীজ) রয়েছে প্রচুর দ্রবণীয় আঁশ। এছাড়া এতে থাকা ওমেগা-৩ ধরনের উপকারী চর্বি, প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে। এতে থাকা প্রাকৃতিক উপাদান হরমোনের ভারসাম্য বজায় রাখতে এবং রক্তে ক্ষতিকর কোলেস্টেরল কমাতে ভূমিকা রাখতে পারে। যাঁদের ফ্ল্যাক্স সিড হজমে সমস্যা হয়, তাঁরা এটি গুঁড়ো করে খেতে পারেন।

অন্যদিকে ইসবগুলের ভুসি প্রচুর পানি শোষণ করে এবং মল নরম করতে সাহায্য করে। তাই কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যায় এটি সবচেয়ে কার্যকর বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। পাশাপাশি এটি রক্তে শর্করা ও কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণেও সহায়ক হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রয়োজন অনুযায়ী খাবার বেছে নেওয়াই সবচেয়ে ভালো। ওজন কমাতে চাইলে চিয়া সিড, হৃদ্‌স্বাস্থ্য ভালো রাখতে চাইলে ফ্ল্যাক্স সিড এবং কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা থাকলে ইসবগুল বেশি উপকারী হতে পারে।

তিনটি একসঙ্গে খাওয়াও সম্ভব। যেমন সকালে চিয়া সিড, দুপুরে ফ্ল্যাক্স সিড এবং রাতে ইসবগুল খাওয়া যেতে পারে। তবে এসব আঁশযুক্ত খাবারের সঙ্গে অবশ্যই পর্যাপ্ত পানি পান করতে হবে। প্রতিদিন অন্তত আড়াই থেকে তিন লিটার পানি পান করার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। অন্যথায় উল্টো কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যাই বাড়তে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের অংশ হিসেবে পরিমিত পরিমাণে এসব বীজ ও দানাশস্য খেলে শরীরের নানা উপকার পাওয়া যেতে পারে। তবে নিজের শারীরিক প্রয়োজন বুঝে সঠিক খাবার বেছে নেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।


আরটিভি/জেএমএ