বৃহস্পতিবার, ০৬ আগস্ট ২০২৬ , ১২:২৯ পিএম
সকালে ঘুম থেকে উঠে এবং রাতে ঘুমানোর আগে দাঁত মাজা আমাদের প্রতিদিনের অভ্যাস। তবে এই সাধারণ অভ্যাস নিয়েই নতুন প্রশ্ন তুলেছে সাম্প্রতিক গবেষণা। গবেষকদের দাবি, দাঁত মাজার সময় টুথব্রাশের ব্রিসল (ব্রাশের মাথায় থাকা প্লাস্টিকের ছোট, শক্ত এবং কর্কশ আঁশ) থেকে মাইক্রোপ্লাস্টিক বের হয়ে মুখের ভেতরে যেতে পারে।
গবেষণা বলছে, বর্তমানে বাজারে থাকা বেশিরভাগ টুথব্রাশের ব্রিসল খনিজ তেলভিত্তিক নাইলন দিয়ে তৈরি। দাঁত মাজার সময় ব্রিসলের সঙ্গে দাঁতের ঘর্ষণে সেখান থেকে অতি সূক্ষ্ম মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা আলাদা হয়ে যেতে পারে। এক গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতিবার দাঁত মাজার সময় প্রায় ৩০ থেকে ১২০টি পর্যন্ত মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা বের হতে পারে। বছরের হিসাবে একটি টুথব্রাশ থেকে প্রায় ২৩ লাখ মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব কণার বেশিরভাগই দাঁত মাজার সময় গিলে ফেলা হয়। তবে এগুলোর কতটা শরীরে শোষিত হয় এবং দীর্ঘমেয়াদে কী ধরনের প্রভাব ফেলে, তা নিয়ে এখনো গবেষণা চলছে।
অনেকেই মনে করেন, বাঁশের টুথব্রাশ ব্যবহার করলে এই ঝুঁকি থাকে না। কিন্তু গবেষকদের মতে, এটি একটি প্রচলিত ভুল ধারণা। কারণ বাজারে থাকা প্রায় সব বাঁশের টুথব্রাশের ব্রিসলও একই ধরনের খনিজ তেলভিত্তিক নাইলন দিয়ে তৈরি। ফলে প্লাস্টিকের টুথব্রাশ ও বাঁশের টুথব্রাশ— উভয় ক্ষেত্রেই মাইক্রোপ্লাস্টিক ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি প্রায় একই। তবে নিমের ডালের ব্রাশ দিয়ে দাঁত মাজা স্বাস্থ্যের জন্য ভাল।
গবেষণায় আরও উঠে এসেছে, মাইক্রোপ্লাস্টিক ইতোমধ্যে মানুষের রক্ত, ফুসফুস এবং গর্ভফুলে শনাক্ত হয়েছে। ২০২৪ সালের একটি গবেষণায় ধমনির চর্বির স্তরেও মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া যায়। যাদের ধমনিতে মাইক্রোপ্লাস্টিক ছিল, তাদের হৃদ্রোগ, মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ বা মৃত্যুর ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি দেখা গেছে। তবে টুথব্রাশ থেকে আসা মাইক্রোপ্লাস্টিক এই ঝুঁকিতে কতটা ভূমিকা রাখে, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায়নি।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিষয়টি নিয়ে অযথা আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই। তবে টুথব্রাশ তৈরির উপাদান সম্পর্কে সচেতন হওয়া জরুরি। বর্তমানে কিছু প্রতিষ্ঠান খনিজ তেলভিত্তিক নাইলনের পরিবর্তে রেড়ির বীজের তেল থেকে তৈরি উদ্ভিদভিত্তিক নাইলনের ব্রিসল ব্যবহার করছে। এতে জীবাশ্ম জ্বালানিনির্ভর কাঁচামালের ব্যবহার কমে। তবে এই ধরনের ব্রিসল থেকেও কতটা মাইক্রোপ্লাস্টিক বের হয়, সে বিষয়ে এখনো পর্যাপ্ত বৈজ্ঞানিক গবেষণা প্রকাশিত হয়নি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে নিশ্চিতভাবে মাইক্রোপ্লাস্টিকমুক্ত কোনো টুথব্রাশের দাবি করা যায় না। প্রাকৃতিক পশমের ব্রিসল (ব্রাশের মাথায় থাকা প্লাস্টিকের ছোট, শক্ত এবং কর্কশ আঁশ)
থাকলেও সেগুলোর পরিচ্ছন্নতা ও ব্যবহার নিয়ে নানা সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তাই কোন উপাদান সবচেয়ে নিরাপদ, সে বিষয়ে আরও গবেষণা প্রয়োজন।
তাদের পরামর্শ, প্রতিদিনের জীবনে অপ্রয়োজনীয় প্লাস্টিকের ব্যবহার কমানো, বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত তথ্যের ওপর ভরসা করা এবং নতুন গবেষণার ফলাফল সম্পর্কে সচেতন থাকাই সবচেয়ে ভালো সিদ্ধান্ত।
আরটিভি/জেএমএ