শুক্রবার, ০৭ আগস্ট ২০২৬ , ১১:৪৯ এএম
চুলের যত্ন নিয়ে নানা পরামর্শ এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিয়মিতই দেখা যায়। তবে সব পরামর্শ যে চুলের জন্য উপকারী, এমন নয়। অনেক দৈনন্দিন অভ্যাসই অজান্তে চুল ভেঙে যাওয়া, রুক্ষ হয়ে পড়া কিংবা মাথার ত্বকের বিভিন্ন সমস্যার কারণ হতে পারে। তাই কোন অভ্যাস ভালো আর কোনটি এড়িয়ে চলা উচিত, তা জানা জরুরি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, চুলের যত্নে সবচেয়ে ক্ষতিকর অভ্যাসগুলোর একটি হলো ভেজা চুল নিয়ে ঘুমানো। তাদের ভাষ্য, ভেজা মাথার ত্বক ছত্রাক ও অন্যান্য জীবাণুর বৃদ্ধির জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করতে পারে। এতে খুশকি, চুলকানি এবং মাথার ত্বকে জ্বালাভাবের ঝুঁকি বেড়ে যায়। তাই রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে চুল ভালোভাবে শুকিয়ে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।
চুল ধোয়ার সময় দুইবার শ্যাম্পু করা অনেকের জন্য উপকারী হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, যারা নিয়মিত তেল ব্যবহার করেন, বেশি ঘামেন, ধুলাবালির মধ্যে থাকেন বা চুলে বিভিন্ন ধরনের প্রসাধনী ব্যবহার করেন, তাদের ক্ষেত্রে দুইবার শ্যাম্পু করলে মাথার ত্বক আরও ভালোভাবে পরিষ্কার হয়। তবে যাঁদের চুলে অতিরিক্ত ময়লা জমে না, তাঁদের প্রতিবার দুইবার শ্যাম্পু করার প্রয়োজন নেই। কারণ এতে মাথার ত্বকের প্রাকৃতিক তেল কমে যেতে পারে।
ভেজা চুলে ব্রাশ বা চিরুনি ব্যবহার না করার পরামর্শও দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, ভেজা অবস্থায় চুল সবচেয়ে দুর্বল থাকে। এ সময় জোরে আঁচড়ালে চুল সহজেই ভেঙে বা ছিঁড়ে যেতে পারে। তাই চুল কিছুটা শুকিয়ে গেলে অথবা বড় দাঁতের চিরুনি দিয়ে ধীরে ধীরে আঁচড়ানোই ভালো।
চুলে তেল লাগিয়ে হালকা করে মাথার ত্বকে মালিশ করাও উপকারী হতে পারে। এতে মাথার ত্বকে রক্ত চলাচল বাড়তে সাহায্য করে এবং ব্যবহৃত পরিচর্যার উপকরণ ভালোভাবে ছড়িয়ে পড়ে। পাশাপাশি এটি মাথাকে আরামও দেয়। তবে অতিরিক্ত চাপ দিয়ে মালিশ করলে উল্টো মাথার ত্বকের ক্ষতি হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা।
চুলের ডগা নিয়মিত ছাঁটার অভ্যাসও চুলের জন্য উপকারী। এতে চুল দ্রুত বড় হয় না, তবে ফাটা ডগা ছড়িয়ে পড়া রোধ হয়। ফলে চুল দেখতে আরও স্বাস্থ্যোজ্জ্বল, মসৃণ ও পরিচ্ছন্ন লাগে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ঘুমের সময় বালিশের কভারও চুলের ওপর প্রভাব ফেলে। মসৃণ কাপড়ের বালিশের কভার ব্যবহার করলে চুলের সঙ্গে ঘর্ষণ কম হয়। এতে চুল কম জট বাঁধে, রুক্ষভাব কমে এবং ভেঙে যাওয়ার ঝুঁকিও হ্রাস পায়।
চুল সুস্থ রাখতে নিয়মিত যত্নের পাশাপাশি সঠিক অভ্যাস গড়ে তোলার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, ছোট ছোট কিছু পরিবর্তনই দীর্ঘমেয়াদে চুলকে সুস্থ, মজবুত ও সুন্দর রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
আরটিভি/জেএমএ