শুক্রবার, ০৭ আগস্ট ২০২৬ , ০৬:১৭ পিএম
সবুজ রঙের এক কাপ পানীয় এখন শুধু ক্যাফের মেনুতেই নয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনায়। ‘মাচা’ নামে পরিচিত এই জাপানি গ্রিন টি এখন চা, কফি, কেক, পেস্ট্রি, আইসক্রিমসহ নানা খাবারে ব্যবহৃত হচ্ছে। একসময় জাপানের ঐতিহ্যবাহী চা হিসেবে পরিচিত থাকলেও বর্তমানে স্বাস্থ্যসচেতন মানুষ ও তরুণ প্রজন্মের কাছে এটি বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।
![]()
জাপানি ভাষায় ‘মাচা’ শব্দের অর্থ ‘গুঁড়া চা’। এটি উজ্জ্বল সবুজ রঙের সূক্ষ্ম গুঁড়া, যা গরম পানিতে ভালোভাবে ফেটিয়ে পান করা হয়। অনেকেই এর সঙ্গে দুধ মিশিয়ে ‘মাচা ল্যাটে’ তৈরি করে পান করেন।
ইতিহাস বলছে, নবম শতাব্দীর শুরুতে চীন থেকে জাপানে সবুজ চায়ের প্রচলন হয়। সে সময় এটি মূলত ওষুধ বা শরীর সুস্থ রাখার উপাদান হিসেবে ব্যবহৃত হতো। তবে আধুনিক মাচার জনপ্রিয়তার ভিত্তি গড়ে ওঠে অনেক পরে।

ষোড়শ শতাব্দীতে জাপানের কিয়োটোর বিখ্যাত চা-গুরু সেন নো রিকিউ ঐতিহ্যবাহী চা-অনুষ্ঠানের মাধ্যমে মাচাকে নতুন পরিচিতি দেন। তিনি বিশেষ পদ্ধতিতে গরম পানিতে মাচার গুঁড়া ফেটিয়ে চা তৈরি করতেন এবং চা পানকে শুধুমাত্র পানীয় গ্রহণ নয়, বরং ধ্যান, মনোযোগ ও মানসিক প্রশান্তির অংশ হিসেবে তুলে ধরেন। তার দর্শন ও চা তৈরির পদ্ধতি দ্রুত জাপানজুড়ে জনপ্রিয়তা লাভ করে।

বর্তমানে বাজারে বিভিন্ন ধরনের মাচা পাওয়া যায়। এর মধ্যে উচ্চমানের সেরিমোনিয়াল গ্রেড মাচা মূলত চা হিসেবে পান করার জন্য ব্যবহৃত হয়। অন্যদিকে কুলিনারি গ্রেড মাচা কেক, পেস্ট্রি, আইসক্রিম, স্মুদি ও অন্যান্য খাবার তৈরিতে ব্যবহার করা হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অ্যান্টিঅক্সিডেন্টসমৃদ্ধ হওয়ায় মাচা স্বাস্থ্যসচেতন মানুষের কাছে জনপ্রিয়তা পেয়েছে। পাশাপাশি এর আকর্ষণীয় সবুজ রং, অনন্য স্বাদ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রচারের কারণে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এর চাহিদা দ্রুত বেড়েছে। বর্তমানে জাপানের গণ্ডি পেরিয়ে মাচা বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয় এক পানীয় ও খাদ্য উপাদানে পরিণত হয়েছে।
আরটিভি/এসকে