শনিবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০২৫ , ০৭:১৮ পিএম
দীর্ঘ ভ্রমণ শেষে যখন ক্লান্ত হয়ে ঘরে ফেরা হয়, তখন অনেক সময় বাসায় ঢোকার পরই নতুন করে চাপ তৈরি হতে পারে। অগোছালো বিছানা, এলোমেলো ঘর বা অস্বস্তিকর পরিবেশ ফিরে আসার সেই আনন্দকে ম্লান করে দেয়।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের ভ্রমণ-বিষয়ক লেখক ওয়েন্ডি রোজ গুল্ড রিয়েলসিম্পল ডটকম-এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানান, একটি ছোট অভ্যাস সেই ক্লান্তি ও মানসিক চাপকে সহজেই আনন্দে রূপান্তর করতে পারে।
ভ্রমণের আগে তিনি নিয়মিত একটি কাজ করেন—বিছানার চাদর ধুয়ে পরিষ্কার করে নতুনভাবে বিছানা গুছিয়ে রাখেন। এই অভ্যাস আপাতদৃষ্টিতে সাধারণ হলেও, এটি মন ও শরীরের ওপর গভীর প্রভাব ফেলে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, পরিষ্কার বিছানায় ঘুম ভ্রমণ–পরবর্তী ক্লান্তি দূর করতে এবং ঘুমের মান উন্নত করতে কার্যকর ভূমিকা রাখে। যে পরিবেশে গন্ধ কম এবং পরিচ্ছন্নতা বেশি, সেখানে ঘুমের স্থায়িত্ব ও গুণগত মান বাড়ে।
ওয়েন্ডি রোজ গুল্ড তার লেখায় জানিয়েছেন, ভ্রমণের আগের দিন বা যাত্রার সকালে তিনি বিছানার সমস্ত চাদর, বালিশের খোল ধুয়ে শুকিয়ে নেন। একইসঙ্গে ঘর হালকা ঝাড়পোঁছ করেন এবং অপ্রয়োজনীয় জিনিস সরিয়ে রাখেন।
তিনি এই অভ্যাসকে ‘নিজের ভবিষ্যৎকে একটি ছোট উপহার দেওয়া’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
পরিষ্কার বিছানা গোছানোর পাশাপাশি তিনি ঘরকে দুর্গন্ধমুক্ত রাখার জন্য আরও কিছু প্রস্তুতি নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন, যেমন—ভ্রমণের আগে বাসন ধুয়ে রাখা, ময়লা ফেলে আসা, ফ্রিজ পরিষ্কার করা এবং পোষা প্রাণীর যত্ন নিশ্চিত করা। তবে সবচেয়ে কার্যকর কাজটি হল নতুন করে বিছানা গুছিয়ে রাখা।
ওয়েন্ডির কথায়, ভ্রমণ শেষে বিমান দেরিতে নামলে, লম্বা সারিতে দাঁড়াতে হলে কিংবা বাসায় পৌঁছাতে রাত হয়ে গেলে ঘরে প্রবেশের প্রথম মুহূর্তে এক অদ্ভুত ক্লান্তি ভর করে। ঠিক তখন পরিষ্কার বিছানা যেন আশীর্বাদ হয়ে দাঁড়ায়।
তিনি বলেন, টাটকা বিছানায় মাথা রাখার সঙ্গে সঙ্গেই টানা আট ঘণ্টা ঘুমিয়ে পড়া যায়, যা দীর্ঘ যাত্রার ধকল থেকে মুক্তি দেয়। এমনকি, ভ্রমণ শেষে ফিরে আসার যে মন খারাপ কাজ করে, নতুন চাদরের গন্ধ আর নরম বালিশের স্পর্শ সেই দুঃখ কিছুটা হলেও দূর করে দেয়।
আরটিভি/এএইচ