images

পরামর্শ

তরুণদের স্মৃতিভ্রমের ঝুঁকি বাড়ায় ৫ ভুল

রোববার, ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫ , ০১:০৯ পিএম

চেনা মুখগুলো অচেনা লাগছে, ভুলে যাচ্ছেন নিজের ঠিকানা বা সকালে কী খেলেন। স্মৃতিভ্রমের এমন ভয়ংকর পরিস্থিতিতে নিজেকে কল্পনা করাও কষ্টকর। অথচ জীবনযাত্রায় কয়েকটি সাধারণ ভুলের কারণে এই ঝুঁকি বাড়াতে পারে যেকোনো বয়সের মানুষ। বিশেষ করে তরুণ বয়সে যেসব অভ্যাস মস্তিষ্কের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে, পরবর্তী জীবনে তা মারাত্মক স্মৃতিভ্রমের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

আমেরিকান একাডেমি অব নিউরোলজির তথ্যমতে, তারুণ্যে এড়িয়ে চলতে হবে এমন পাঁচটি অভ্যাস এখানে তুলে ধরা হলো।

এই অভ্যাসগুলোর মধ্যে প্রথমেই রয়েছে পরিমিত ঘুমের অভাব। পড়াশোনা, সামাজিক যোগাযোগ কিংবা বিনোদনের জন্য রাত জেগে থাকা এখনকার তরুণদের কাছে স্বাভাবিক বিষয়। কিন্তু সুস্থ থাকতে দৈনিক ৭ থেকে ৯ ঘণ্টা ঘুমের বিকল্প নেই। ঘুমের সঙ্গে আপস করলে তা কেবল শরীর নয়, মস্তিষ্কের ওপরও মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলে এবং স্মৃতিভ্রমের ঝুঁকি বহুগুণে বাড়িয়ে দেয়। ঘুমকে কখনোই বাদ দিয়ে অন্য কিছুকে প্রাধান্য দেওয়া উচিত নয়।

একইভাবে, ধূমপান ও অ্যালকোহল সেবনের মতো অভ্যাসও মস্তিষ্ককে সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত করে। এই দুটি অভ্যাস শরীরের অন্যান্য সমস্যার পাশাপাশি স্মৃতিশক্তির ওপরও ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে, তাই দেহ ও মস্তিষ্কের সুস্থতা নিশ্চিত করতে এগুলো সম্পূর্ণরূপে এড়িয়ে চলা আবশ্যক।

আয়েশি ও অলস জীবনযাপনও মস্তিষ্কের জন্য হুমকি। শরীরচর্চা না করা কিংবা দীর্ঘ সময় ধরে শুয়ে বা বসে থাকার প্রবণতা স্মৃতিভ্রমের ঝুঁকি বাড়ায়। শরীরচর্চা কেবল শরীরকে সচল রাখে না, বরং এটি মনের ওপরও ইতিবাচক প্রভাব ফেলে এবং মস্তিষ্কের কার্যকারিতা বাড়াতে সাহায্য করে। তাই ডেস্কে বসে কাজ বা পড়াশোনার ফাঁকে মাঝেমধ্যে বিরতি নিয়ে হাঁটা বা ফ্রি হ্যান্ড ব্যায়ামের মাধ্যমে শরীরকে সচল রাখা জরুরি।

আরও পড়ুন
651251521052

যেসব কাজ করলে ভ্রমণ শেষে আনন্দ জিইয়ে থাকবে মনে

একই সঙ্গে সামাজিক সংযুক্তি বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যারা মানুষের সঙ্গ এড়িয়ে চলেন বা একা থাকতে পছন্দ করেন, তাদের স্মৃতিশক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার প্রবণতা দেখা যায়। মস্তিষ্কের সুস্থতার জন্য প্রিয় মানুষদের সময় দেওয়া, সামাজিক যোগাযোগ বাড়ানো এবং স্বেচ্ছাসেবীর মতো কাজে যুক্ত থাকা অত্যন্ত উপকারী হতে পারে।স্মৃতিভ্রমের ঝুঁকি বাড়ানোর ক্ষেত্রে অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস একটি বড় কারণ। ফলমূল, শাকসবজি ও গোটা শস্য (হোল গ্রেইন) থেকে তৈরি খাবারগুলো স্মৃতি ধারণক্ষমতা ঠিক রাখতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখে, অথচ এই ধরনের পুষ্টিকর খাবার খাওয়ার প্রবণতা তরুণদের মধ্যে কম দেখা যায়।

অন্যদিকে, প্রক্রিয়াজাত বা পরিশোধিত (রিফাইনড) খাবার বেশি খাওয়া হলে স্মৃতিভ্রমের ঝুঁকি আরও বাড়ে। সুস্থ মস্তিষ্কের জন্য তাই তারুণ্য থেকেই স্বাস্থ্যকর ও সুষম খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলা অপরিহার্য।

আরটিভি/এএইচ