শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারি ২০২৬ , ০১:২৯ পিএম
শীতকাল এলেই দেশে অগ্নিকাণ্ডের প্রবণতা সাধারণত বেড়ে যায়। সাম্প্রতিক সময়ে দেশে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বেড়ে চলেছে। শিল্পপ্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে বসতবাড়ি কিংবা বাণিজ্যিক ভবন—সবখানেই আগুনের লেলিহান শিখায় সম্পদ ও প্রাণের হানি ঘটছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সামান্য অসাবধানতা বা অবহেলা থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। অথচ একটু সচেতন হলে এবং সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণ করলে এই ভয়াবহ বিপদ থেকে নিরাপদ থাকা সম্ভব।
অগ্নিকাণ্ডের অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে ত্রুটিপূর্ণ বৈদ্যুতিক সংযোগ বা শর্ট সার্কিটকে। এ ছাড়া ঘরবাড়িতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার একটি বড় অংশই সূত্রপাত হয় রান্নাঘর থেকে।
তাই নিরাপদ থাকতে রান্নাঘরের নিরাপত্তায় বিশেষ নজর দেওয়া জরুরি।
গ্যাস সিলিন্ডার বা পাইপলাইনের সংযোগ নিয়মিত পরীক্ষা করা অগ্নিকাণ্ড প্রতিরোধের প্রথম ধাপ। লিক শনাক্ত করতে সাবান-পানির ফেনা ব্যবহার করা সবচেয়ে নিরাপদ পদ্ধতি। ব্রাশ বা স্পঞ্জ দিয়ে ফেনা রেগুলেটর, পাইপ ও চুলার সংযোগস্থলে লাগালে যদি বুদবুদ ওঠে, তবে বুঝতে হবে গ্যাস লিক হচ্ছে।
এমন পরিস্থিতিতে দ্রুত রেগুলেটর বন্ধ করে বিশেষজ্ঞ মেকানিকের সহায়তা নিতে হবে। মনে রাখতে হবে, কখনোই দিয়াশলাই বা লাইটারের আগুন দিয়ে গ্যাস লিক পরীক্ষা করা যাবে না, যা মারাত্মক বিস্ফোরণ ঘটাতে পারে।
রান্নাঘরে ব্যবহৃত ইলেকট্রিক ওভেন, রাইস কুকার বা ব্লেন্ডারের মতো যন্ত্রগুলো ব্যবহারের পর প্লাগ খুলে রাখা নিরাপদ। ভেজা হাতে এসব যন্ত্র না ধরা এবং কোনো ত্রুটিপূর্ণ সকেট বা তার থাকলে তা দ্রুত বদলে নেওয়া উচিত। রান্নার সময় ঘরে শিশু থাকলে তাদের নিরাপদ দূরত্বে রাখতে হবে।
এছাড়া চুলার পাশে টিস্যু পেপার, পলিথিন, রান্নার তেল বা কাপড় রাখা আগুনের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। চুলার ওপর বা পাশে রাখা কাপড়ে অনেক সময় অসাবধানতাবশত আগুন ধরে যায়, যা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে।
তাই এসব দাহ্য বস্তু চুলা থেকে দূরে সরিয়ে রাখা আবশ্যক।
রান্নাঘরের এক্সস্ট ফ্যান বা চিমনি নিয়মিত পরিষ্কার রাখাও জরুরি। কারণ জমে থাকা তেলের আস্তরণ আগুনের সংস্পর্শে এলে দ্রুত জ্বলে ওঠে।
চুলার নিচের অংশ পরিষ্কার রাখা এবং সিলিন্ডার সবসময় শুকনো ও খোলা জায়গায় রাখা উচিত। গ্যাস সিলিন্ডার পরিবর্তনের সময় ঘরের সব আগুন নিভিয়ে রাখা নিশ্চিত করতে হবে। রান্নার শেষে চুলার চাবি ও রেগুলেটর বন্ধ করার অভ্যাস করতে হবে।
দুর্ঘটনা মোকাবিলায় প্রতিটি রান্নাঘরে ছোট একটি ফায়ার এক্সটিংগুইশার, বালুর বালতি বা অন্তত একটি মোটা ভেজা তোয়ালে রাখা বুদ্ধিমানের কাজ। যদি গ্যাসের মাধ্যমে আগুন লেগেই যায়, তবে আতঙ্কিত না হয়ে প্রথমে মূল সংযোগ বা রেগুলেটর বন্ধের চেষ্টা করতে হবে এবং পরিবারের সবাইকে দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে হবে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না এলে বিলম্ব না করে ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেওয়া জরুরি।
সামান্য সচেতনতাই পারে একটি বড় ধরনের জানমালের ক্ষয়ক্ষতি রুখে দিতে।
আরটিভি/এএইচ