শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারি ২০২৬ , ০৫:৩৪ পিএম
দুই বছর বয়স পার হওয়ার পর অনেক শিশুর মধ্যেই হঠাৎ জেদ বা একগুঁয়েমি দেখা দেয়। বিশেষ করে ২ থেকে ৫ বছর বয়সী শিশুদের সামলানো বাবা-মায়ের জন্য বেশ চ্যালেঞ্জিং হয়ে পড়ে।
অনেক সময় সন্তানের এই আচরণের পেছনে অভিভাবকদের অসচেতনতাও দায়ী থাকে।
সঠিক সময়ে এই অভ্যাস নিয়ন্ত্রণ করা না হলে ভবিষ্যতে শিশু বড় ধরনের আচরণগত সমস্যায় পড়তে পারে। তাই শিশুর জেদ ও রাগ নিয়ন্ত্রণে বিশেষজ্ঞদের কিছু কার্যকরী পরামর্শ গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
সন্তান যখন কোনো বিষয়ে অতিরিক্ত জেদ করে, তখন তাকে তাৎক্ষণিকভাবে অন্য কোনো আকর্ষণীয় বা উত্তেজনাপূর্ণ কাজে ব্যস্ত রাখা বুদ্ধিমত্তার পরিচয়। এতে তার মনোযোগ বিক্ষিপ্ত হয় এবং জেদের তীব্রতা কমে আসে।
তবে শুধু মনোযোগ সরানোই যথেষ্ট নয়, শিশু কী বলতে চায় তা অত্যন্ত ধৈর্য ও মনোযোগ দিয়ে শোনা জরুরি। শিশুর মনস্তত্ত্ব বোঝার চেষ্টা করতে হবে এবং তাকে বুঝিয়ে বলতে হবে যে একগুঁয়েমি কোনো ভালো গুণ নয়।
মনে রাখতে হবে, শিশুর জেদ একদিনে দূর হয় না, এর জন্য নিরন্তর প্রচেষ্টার প্রয়োজন।
আধুনিক জীবনে বাবা-মায়ের ব্যস্ততা শিশুদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। সন্তানকে পর্যাপ্ত সময় না দিলে তাদের মধ্যে একাকীত্ব এবং আচরণগত সমস্যা দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। বিশেষ করে যেসব শিশু দীর্ঘক্ষণ গৃহকর্মী বা একা থাকে, তাদের মধ্যে জেদি হওয়ার প্রবণতা বেশি।
তাই কর্মব্যস্ততার মাঝেও বাড়িতে ফেরার পর শিশুকে গুণগত সময় দেওয়া অত্যন্ত প্রয়োজন। পাশাপাশি শিশুদের সামনে ঘরের পরিবেশ শান্ত রাখা বাঞ্ছনীয়। শিশুরা অনুকরণের মাধ্যমে শেখে, তাই তাদের সামনে চিৎকার বা উচ্চস্বরে কথা বলা থেকে বিরত থাকতে হবে।
বর্তমান সময়ে অনেক পরিবারে একটি মাত্র সন্তান হওয়ায় বাবা-মায়েরা তাদের সব আবদার পূরণ করেন। এই প্রবণতা শিশুকে আরও বেশি জেদি করে তোলে। সব চাওয়া পূরণ না হলে তারা খিটখিটে ও রাগী হয়ে ওঠে।
তাই শিশুর প্রতিটি অনুরোধ পূরণ না করে বরং তাকে অর্থের গুরুত্ব এবং নৈতিক মূল্যবোধ সম্পর্কে শিক্ষা দেওয়া জরুরি। শিশুর সব কাজে ‘না’ না বলে ইতিবাচক উপায়ে তাকে সঠিক ও ভুলের পার্থক্য বোঝাতে পারলে তার আচরণের পরিবর্তন আনা সম্ভব।
আরটিভি/এএইচ