সোমবার, ০৫ জানুয়ারি ২০২৬ , ০৪:৫৫ পিএম
ভারী খাবার বা পেট ঠেসে খাওয়ার অভ্যাস আপনার হৃদযন্ত্রের জন্য বড় বিপদের কারণ হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন গবেষকরা।
আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশনের একটি সম্মেলনে উপস্থাপিত নতুন এক গবেষণায় দেখা গেছে, অতিরিক্ত ক্যালরি ও চর্বিযুক্ত খাবার খাওয়ার মাত্র দুই ঘণ্টার মধ্যে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি প্রায় চারগুণ পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে।
বিশেষ করে যারা আগে থেকেই হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস বা উচ্চ কোলেস্টেরলের সমস্যায় ভুগছেন, তাদের জন্য এই ঝুঁকি অনেক বেশি।
গবেষকদের মতে, অতিরিক্ত খাবার গ্রহণ করলে শরীর অনেকটা তীব্র মানসিক চাপ বা প্রচণ্ড শারীরিক পরিশ্রমের মতো প্রতিক্রিয়া দেখায়। যখন প্রচুর পরিমাণে চর্বিযুক্ত খাবার পাকস্থলীতে পৌঁছায়, তখন তা হজম করার জন্য শরীরকে অতিরিক্ত পরিশ্রম করতে হয়। এই প্রক্রিয়ায় হজমে সহায়তার জন্য শরীরের অধিকাংশ রক্ত অন্ত্রের দিকে প্রবাহিত হয়।
ফলে হৃদপিণ্ডকে স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক দ্রুত ও জোরে স্পন্দিত হতে হয়, যা রক্তচাপকে বাড়িয়ে দেয়।
চিকিৎসকরা ব্যাখ্যা করেছেন যে, ভারী খাবার খাওয়ার ফলে রক্তনালিগুলো সংকুচিত হয়ে যেতে পারে, যা হৃদপিণ্ডে রক্ত সঞ্চালনের পথকে বাধাগ্রস্ত করে। বিশেষ করে স্যাচুরেটেড ফ্যাট সমৃদ্ধ খাবার, যেমন মাখনযুক্ত গ্রেভি বা অতিরিক্ত আমিষজাতীয় খাবার রক্তকে সাময়িকভাবে ঘন করে তোলে।
এর ফলে ধমনীর আস্তরণে কোলেস্টেরল জমা হওয়ার এবং রক্ত জমাট বাঁধার ঝুঁকি তৈরি হয়, যা হঠাৎ করেই হৃদপিণ্ডে রক্ত প্রবাহ বন্ধ করে হার্ট অ্যাটাক ঘটাতে পারে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, এই শারীরিক পরিবর্তনগুলো খাওয়ার পরপরই শুরু হয় এবং এর প্রভাব কয়েক ঘণ্টা পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। যদিও সুস্থ ব্যক্তিদের শরীর এই অতিরিক্ত চাপ সামলে নিতে সক্ষম, তবে যাদের হৃদযন্ত্র কিছুটা দুর্বল, তাদের জন্য এটি প্রাণঘাতী হতে পারে। তাই হৃদরোগ বিশেষজ্ঞরা সর্বদা পরিমিত ও সুষম খাবার খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন।
সুস্থ থাকতে হালকা খাবারের অভ্যাস করা, নিয়মিত ব্যায়াম করা এবং হৃদযন্ত্রের জন্য সহায়ক জীবনযাপন বজায় রাখার ওপর জোর দিয়েছেন তারা।
আরটিভি/এএইচ