শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারি ২০২৬ , ০৭:৫৭ পিএম
চিকিৎসাবিজ্ঞানে দীর্ঘদিন ধরে এমন ধারণা প্রচলিত ছিল যে, হার্ট অ্যাটাকের পর মানুষের হৃৎপিণ্ড আর নতুন কোষ তৈরি করতে পারে না। তবে অস্ট্রেলিয়ার এক সাম্প্রতিক গবেষণায় সেই ধারণাকে চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে।
গবেষণায় দেখা গেছে, হৃদ্আঘাতের পর মানুষের হৃৎপিণ্ড সীমিত পরিসরে হলেও নতুন পেশিকোষ বা কার্ডিওমায়োসাইট তৈরি করতে পারে।
গবেষকেরা জানান, হার্ট অ্যাটাকের পর হৃৎপিণ্ডের দাগ (স্কার টিস্যু) তৈরি হলেও একই সঙ্গে নতুন কোষ তৈরির একটি প্রক্রিয়াও চলতে থাকে। অর্থাৎ ক্ষতির পাশাপাশি কিছুটা পুনর্গঠনও হয়।
গবেষণার ফলাফল যুক্তরাষ্ট্রের আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশনের জার্নাল 'সার্কুলেশন রিসার্চ'-এ প্রকাশিত হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পুনর্জন্মের হার সীমিত হলেও তা ভবিষ্যতে হার্ট ফেইলিওর ঝুঁকিতে থাকা রোগীদের জন্য নতুন চিকিৎসা পদ্ধতির পথ খুলে দিতে পারে।
কারণ হার্ট অ্যাটাকে হৃৎপিণ্ডের উল্লেখযোগ্য অংশের কোষ নষ্ট হয়ে যায়, যার প্রভাব দীর্ঘমেয়াদে হৃদ্যন্ত্রের কার্যকারিতায় পড়ে।
এদিকে সারা বিশ্বের বিজ্ঞানীরা এখন এমন চিকিৎসা পদ্ধতির দিকে ঝুঁকছেন, যা শুধু ক্ষতি ঠেকানো নয়, বরং হৃৎপিণ্ড কে পুনরুদ্ধারে সহায়তা করবে।
যুক্তরাষ্ট্রের এমআইটির মতো প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে হার্ট অ্যাটাকের পর হৃৎপিণ্ড সারাতে ওষুধ সরবরাহকারী বিশেষ প্যাচের মতো প্রযুক্তি নিয়ে গবেষণা চালাচ্ছে।
গবেষকদের মতে, অস্ট্রেলিয়ার এই আবিষ্কার হৃৎপিণ্ডের প্রাকৃতিক মেরামত ক্ষমতা নিয়ে নতুন করে ভাবার সুযোগ তৈরি করেছে।
সীমিত হলেও এই পুনর্জন্ম প্রক্রিয়া ভবিষ্যতে ক্ষতিগ্রস্ত হৃৎপিণ্ডকে আরও শক্তিশালী করার চিকিৎসার ভিত্তি হতে পারে।
সূত্রঃ মেডিক্যাল এক্সপ্রেস
আরটিভি/এমআই