শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারি ২০২৬ , ০৯:২৭ পিএম
দীর্ঘদিন একই রকম সাজানো বাড়িতে বসবাস করতে থাকলে মনে একঘেয়েমি আসা অত্যন্ত স্বাভাবিক। আমাদের মানসিক শক্তির বড় একটি অংশ আসে আমাদের বসবাসের পরিবেশ থেকে, তাই ঘরের পরিবেশ চনমনে রাখা জরুরি।
পুরোনো বাড়িতে নতুন আমেজ ফিরিয়ে আনতে বড় কোনো পরিবর্তনের চেয়ে ছোট ছোট কিছু বুদ্ধিমত্তা সম্পন্ন পদক্ষেপই যথেষ্ট।
ইন্টেরিয়র বিশেষজ্ঞদের মতে, ঘরের অন্দরে সৌন্দর্য ও নতুনত্ব আনতে আসবাবের বিন্যাস থেকে শুরু করে আলোর ব্যবহার পর্যন্ত সবকিছুতেই বৈচিত্র্য আনা প্রয়োজন।
ঘরের সৌন্দর্য বাড়াতে প্রথমেই আসবাবের ধরনে পরিবর্তন আনা যেতে পারে। সব আসবাব একই রকম না হয়ে যদি ভিন্ন ভিন্ন আকার ও নকশার হয়, তবে ঘরে একটি নান্দনিক আবহ তৈরি হয়। নিয়মিত বিরতিতে সেন্টার টেবিল, ডিভান বা শেলফের অবস্থান বদলে ফেললে চোখের আরাম হয়।
এছাড়া আলোর সঠিক ব্যবহার ঘরের পরিবেশ পুরোপুরি বদলে দিতে পারে। সাধারণ সাদা টিউবলাইটের বদলে ওয়ার্মলাইটের ব্যবহার ঘরে আভিজাত্য নিয়ে আসে। বসার ঘরে স্ট্যান্ডিং ল্যাম্প কিংবা ডাইনিং টেবিলের ওপর পেন্ডেন্ট লাইট বা ঝুলন্ত আলো ব্যবহার করলে ঘরকে অনেক বেশি আধুনিক ও আরামদায়ক মনে হয়।
পরিবেশবান্ধব সামগ্রী ও সবুজের স্পর্শ ঘরের ক্লান্তি দূর করতে অব্যর্থ ভূমিকা পালন করে। কাঠ, বাঁশ, বেত বা পাথরের তৈরি জিনিসপত্রের পাশাপাশি ঘরের কোণায় ইনডোর প্ল্যান্ট রাখলে সজীবতা ফিরে আসে। তবে গাছের সঠিক পরিচর্যা ও নিয়মিত পাতা পরিষ্কার রাখা জরুরি। জানালার পর্দার ক্ষেত্রেও সচেতন হওয়া প্রয়োজন।
পর্দার ঔজ্জ্বল্য কমে গেলে ঘরের উজ্জ্বলতাও কমে যায়, তাই হালকা ও উজ্জ্বল রঙের মানসম্মত পর্দা ব্যবহার করা উচিত। এছাড়া দেয়ালের রং পুরোনো বা মলিন হয়ে গেলে হালকা রঙের প্রলেপ দিলে ঘর বড় এবং আলোকিত দেখায়।
ঘরকে আরও পরিপাটি দেখাতে প্লাস্টিকের পুরোনো জিনিসপত্র সরিয়ে কাচ, চিনামাটি বা স্টিলের আসবাব ব্যবহারের পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা। ছোট পাপোশের বদলে বড় ও চওড়া কার্পেট ব্যবহার করলে ঘরে একটি রাজকীয় ভাব আসে।
সবশেষে, আসবাবপত্র মাঝে মাঝে ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে রাখা কিংবা ছোট আলমারির বদলে বড় ক্লোজেট ব্যবহার করলে ঘর অনেক বেশি গোছানো লাগে। এই সামান্য কিছু অদল-বদলই আপনার প্রিয় আবাসে ফিরিয়ে আনতে পারে হারানো প্রাণচাঞ্চল্য।
আরটিভি/এএইচ