শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারি ২০২৬ , ০৫:২৩ পিএম
শীতকালীন সবজির বাজারে ওলকপি বেশ পরিচিত একটি নাম। বাঁধাকপি পরিবারের এই সদস্যটি স্বাদে যেমন অনন্য, পুষ্টিতেও তেমনি ভরপুর। কাঁচা অবস্থায় এটি অনেকটা পেঁপের মতো কচকচে হলেও রান্না করলে বেশ নরম ও মিষ্টি হয়ে ওঠে।
জার্মান শালগম নামে পরিচিত এই সবজিটি সবুজ, বেগুনি, সাদা বা লাল—নানা রঙের হতে পারে। এক কাপ কাঁচা ওলকপিতে মাত্র ৩৬ ক্যালরি থাকলেও এতে উচ্চমাত্রায় ভিটামিন সি এবং পটাশিয়াম রয়েছে, যা শরীরের দৈনিক চাহিদার একটি বড় অংশ পূরণ করে।
এছাড়া এতে পর্যাপ্ত পরিমাণে ফাইবার ও ভিটামিন বি৬ পাওয়া যায়।
ওলকপির অন্যতম বড় গুণ হলো এটি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেয়। প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি থাকায় এটি সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করে এবং শরীরে আয়রন শোষণে সহায়তা করে।
এর পাতা ও মূলে থাকা অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট উপাদানগুলো বিভিন্ন দীর্ঘমেয়াদি রোগ এমনকি ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতেও ভূমিকা রাখে।
হজমশক্তির উন্নতির জন্যও ওলকপি বেশ কার্যকর। এতে থাকা প্রচুর ফাইবার কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে এবং অন্ত্রের উপকারী ব্যাকটেরিয়া বৃদ্ধিতে সহায়তা করে, যা সামগ্রিক পরিপাকতন্ত্রকে সুস্থ রাখে।
হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতেও চিকিৎসকরা ওলকপি খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন। এটি রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখার পাশাপাশি শরীরের খারাপ কোলেস্টেরল বা এলডিএল কমাতে সাহায্য করে। বিশেষ করে লাল বা বেগুনি জাতের ওলকপিতে থাকা অ্যানথোসায়ানিন এবং পটাশিয়াম হার্টের স্বাস্থ্য রক্ষায় বিশেষ ভূমিকা রাখে।
তবে ওলকপি খাওয়ার ক্ষেত্রে কিছু সতর্কতাও প্রয়োজন। অতিরিক্ত ওলকপি খেলে গ্যাস বা পেট ফাঁপার সমস্যা হতে পারে। আবার যারা রক্ত পাতলা করার ওষুধ সেবন করেন, তাদের ওলকপিতে থাকা ভিটামিন কে-এর কারণে এটি পরিমিতভাবে খাওয়া উচিত।
সালাদ, সুপ, ভাজি কিংবা সাধারণ তরকারি হিসেবে নিয়মিত খাদ্যতালিকায় ওলকপি রাখা শরীরের জন্য অত্যন্ত উপকারী। সূত্র: ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিক
আরটিভি/এএইচ