সোমবার, ১৫ মে ২০১৭ , ০১:৫৩ পিএম
বিলবোর্ড মাস্তানদের দৌরাত্মে সিটির উন্নয়নে হাত দেয়া যেত না। তাদের তাড়িয়ে সেই ঢাকাকে আমরা পরিষ্কার করেছি। বললেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আনিসুল হক।
সোমবার দুপুরে রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ের ‘ঢাকা উত্তর সিটি, প্রচেষ্টার ২ বছর’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
আনিসুল হক বলেন, উত্তর সিটি করপোরেশনের ২০ হাজার বিলবোর্ডে পরিষ্কার করেছি। ১ লাখ ৭৫ হাজার অবৈধ ব্যানার ও ফেস্টুন ফেলে দিয়েছি। রাজনৈতিক নেতাদের বাসায় বাসায় গিয়ে হাত ধরে বলেছি। এখন অনেক কমে গেছে।
রাজধানীতে একসময় বিলবোর্ড ও ঠিকাদারি নিয়ন্ত্রণ মাস্তানদের হাতে ছিল। তাদের তাড়িয়ে দিয়েছি। যাদের কারণে আমাদের বিলবোর্ডে হাত দেয়া যেত না। রাজধানীর সড়কে ব্যানার পোস্টার ও ফেস্টুন লাগানোর কারণে অনেক নেতাদের বিরুদ্ধে মামলা করেছি।
মেয়র বলেন, আমরা দু’বছরে অনেক কাজ করেছি তা না, তবে একটা পরিকল্পনায় পৌঁছেছি। এই ২ বছরে আমি ডিএনসিসিকে চিনেছি, কাউন্সিলর ও কর্মকর্তাদের চিনেছি। ঢাকা ভিন্ন ধরনের শহর। বলা হয়, এটি পৃথিবীর খারাপ শহরগুলোর মধ্যে প্রথম।
তিনি বলেন, ঢাকা শহর আসলে কত বড়? সিঙ্গাপুরের আয়তন ৭১৮ স্কয়ার ফুট, টোকিওর আয়তন ২ হাজার ১৮৮ কিলোমিটার। যেখানে বাস করছেন ১ কোটি ২২ হাজার মানুষ। ক্যানবোলার আয়তন ৮১৪ স্কয়ার কিলোমিটার। বাস করছেন ৩ লাখ ৫৬ হাজার মানুষ। মস্কোর আয়তন ২ হাজার ১৮৩ কিলোমিটার। লোক সংখ্যা ১ কোটি ১৯ লাখ ৩২ হাজার। সেখানে ঢাকার আয়তন মাত্র ৮৩ কিলোমিটার। এতে বাস করেন ৯০ লাখ মানুষ।
ডিএনসিসি মেয়র বলেন, এখন পর্যন্ত সর্বমোট ৫৪টি স্থায়ী স্থাপনা, ৪৫০টি স্থায়ী অবকাঠামো, ২ হাজার ৭৬৭ অস্থায়ী অবকাঠামো উচ্ছেদ করা হয়েছে। জমি, ফুটপাত ও ভূমি উদ্ধার করা হয়েছে ৩ লাখ ৩৪ হাজার বর্গফুট। আমরা বুঝে না বুঝেই কিছু সাহসী কাজ করে ফেলেছি। ১০টি স্থানে অবৈধ পার্কিং বন্ধ করেছি। বিভিন্ন দূতাবাসের দখলে থাকা ফুটপাত উদ্ধার করছি।
এ দেশে গবির হকারদের পাশাপাশি বড়লোক হকারও আছেন। যারা জনগণের জায়গা দখল করে রেখেছিলেন। আমরা অনেক জমি ও ফুটপাত উদ্ধার করেছি। ফাইভ স্টার হোটেলের মতো ১২টি পাবলিক টয়লেট তৈরি করেছি।
তিনি আরো বলেন, ঢাকা উত্তর সিটির উন্নয়নে নগর অ্যাপ করেছি। এখানে সবকিছু রয়েছে। আপনি চাইলে কোথায় কী আছে তা সহজেই জানতে পারবেন। এর সঙ্গে পুলিশের একটা সংযোগ থাকবে। চাইলেই এর মাধ্যমে আপনাকে ট্র্যাক করতে পারবেন।
ডিসেম্বরের মধ্যে ১১টি ইউলোপ স্থাপন ও নতুন আরো এক হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ১৩শ’ রাস্তার উন্নয়ন কাজ করা হবে। এছাড়া রাস্তায় ৪ হাজার আধুনিক বাস নামানো হবে। ২৬৪টি ভেজাল বিরোধী অভিযানে ৭৭ লাখ টাকা জরিমানা আদায়সহ ১ হাজার সিসি টিভি লাগানো হয়েছে।
এইচটি/সি