শুক্রবার, ০৬ অক্টোবর ২০১৭ , ০৯:১৩ পিএম
রাশিয়ায় ১৯১৭ সালের অক্টোবরে যে বিপ্লব হয়েছিল, তার মধ্য দিয়ে সামাজিক সম্পর্ক ও সম্পদের মালিকানার মীমাংসা হয়েছে। সম্পদের মালিক কে হবে, পাঁচ শতাংশ মানুষ- নাকি পঁচানব্বই ভাগ মানুষ, সেটিকে মীমাংসা করেছে। রুশ বিপ্লব মানব মুক্তির ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ঘটনা। বললেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী।
শুক্রবার (৬ অক্টোবর) সন্ধ্যায় রাজধানীর শাহবাগে রাশিয়ায় লেনিনের নেতৃত্বে অক্টোবর বিপ্লবের শতবার্ষিকী উপলক্ষে সমাবেশে এসব কথা বলেন তিনি। ওই সমাবেশে ১২টি বামপন্থী রাজনৈতিক দল অংশ নেয়। অক্টোবর বিপ্লব শতবর্ষ উদযাপন জাতীয় কমিটির এ সমাবেশ আয়োজন করে।
সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, অনেকেই মনে করেন, রুশ বিপ্লবের পতনের পর সমাজতন্ত্রের পতন হয়েছে। আসলে সমাজতন্ত্রের পতন ঘটেনি, অনেক রাষ্ট্র সমাজতন্ত্র থেকে সরে গেছে। সমাজতন্ত্রের পতনের পর অধ্যাপকরা ভিক্ষুকে পরিণত হয়েছেন।
তিনি বলেন, অনেকেই দাবি করেন, জাতীয়তাবাদীরাই মুক্তিযুদ্ধ করেছে। কিন্তু এ দেশে শুধু বামপন্থীরাই কোনো বিদেশি সহায়তা ছাড়াই মুক্তিযুদ্ধের সময় দেশে অবহেলিত জনপদে পড়ে থেকে লড়েছেন। গেরিলা যুদ্ধের নেতৃত্ব দিয়েছেন।
বিকাল চারটায় বিভিন্ন সংগীত পরিবেশনের মধ্যদিয়ে সমাবেশ শুরু হয়।
উদ্বোধনী বক্তব্যে সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী চীন-রাশিয়া-ভারত ও মিয়ানমারের সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, সম্প্রতি মায়ানমারে যখন গণহত্যা চলছে, প্রাণভয়ে রোহিঙ্গারা পালিয়ে আসছে বাংলাদেশে, সেই সময় চীন দাঁড়িয়েছে পীড়নকারী মিয়ানমার সরকারের পক্ষে। রাশিয়ার আচরণও একইরকম। যে ভারত আমাদের মুক্তিযুদ্ধের সময় এক কোটি মানুষকে আশ্রয় দিয়েছে, সেও দাঁড়িয়েছে মিয়ানমারের পক্ষে। কারণ একই- পুঁজিবাদী স্বার্থ। সমাজতন্ত্রের অনিবার্যতা ও প্রাসঙ্গিকতা এভাবে বারবার সামনে আসছে।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, দেশের সব মানুষের আন্দোলনে, ছাত্র আন্দোলনে, সুন্দরবন রক্ষার আন্দোলনে, সব আন্দোলনে অক্টোবর বিপ্লবের চেতনা আছে। এটা বার্মার নির্যাতিত মুসলমান বা ভারতের নিপীড়িত মানুষের আন্দোলনে, সর্বত্র অক্টোবর বিপ্লবের চেতনা আছে।
সমাবেশে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম বলেন, ‘আওয়ামী লীগ নয়, দেশকে বাঁচাতে হবে। এ জন্য ছাত্র-যুব-কৃষক-শ্রমিকদের ঐক্যবদ্ধ সংগ্রাম জারি রাখতে হবে। সেক্ষেত্রে অক্টোবর বিপ্লব প্রাসঙ্গিক বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সমাবেশে আরো বক্তব্য রাখেন বাসদের সাধারণ সম্পাদক খালেকুজ্জামান, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, বাসদ (মার্কসবাদী) কেন্দ্রিয় নেতা শুভ্রাংশু চক্রবর্তী, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি, ইউনাইটেড কমিউনিস্ট লীগের সাধারণ সম্পাদক মোশাররফ হোসেন নান্নু, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির সাধারণ সম্পাদক কমরেড মোশরেফা মিশু, জাতীয় গণফ্রন্টের সমন্বয়ক টিপু বিশ্বাস, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনের আহ্বায়ক হামিদুল হক, বাসদ'র (মাহবুব) শওকত হোসেন, গরীব মুক্তি আন্দোলনের শামসুজ্জামান মিলন, গণমুক্তি ইউনিয়নের নাসিরউদ্দিন নাসু।
বক্তারা সাংস্কৃতিক গণজাগরণের মধ্যদিয়ে সারাদেশে রুশ বিপ্লবের অনুপ্রেরণা ছড়িয়ে দেয়ার ওপর জোর দেন।
এর আগে বামপন্থী নেতাকর্মীরা রুশ বিপ্লবের ওপর ফেস্টুন, ব্যানার, প্রতিকৃতিসহ মিছিল করেন। সমাবেশে মার্কস, এঙ্গেলস, লেনিন, মাওসেতুংয়ের প্রতিকৃতি নেতা-কর্মীদের হাতে দেখা যায়। সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে সমাবেশ শেষ হলে শুরু হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
উল্লেখ্য, পুরো অক্টোবর, নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসজুড়ে রুশ বিপ্লবের ওপর অনুষ্ঠান হবে। আগামী ৮ ডিসেম্বর 'মুক্তিযুদ্ধে বামপন্থীদের ভূমিকা' শীর্ষক আলোচনা সভার মধ্যদিয়ে উদযাপন আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হবে।
.jpg)
এসজে