images

জাতীয়

মন্ত্রণালয় ও বিভাগ পুনর্বিন্যাসের প্রস্তাব জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশনের

বুধবার, ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ , ০৪:০৬ পিএম

সরকার ব্যবস্থাপনা কাঠোমোতে বিদ্যমান মন্ত্রণালয় ও বিভাগ পুনর্বিন্যাসের সুপারিশ করেছে জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন। এতে মন্ত্রণালয়ের সংখ্যা ৪৩টি থেকে কমিয়ে ২৫টি এবং বিভাগের সংখ্যা ৬১টি থেকে কমিয়ে ৪০টি করার প্রস্তাব রেখেছে তারা। 

বুধবার (৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে জনপ্রশাসন সংস্কার প্রতিবেদন জমা দেন কমিশন প্রধান আব্দুল মুয়ীদ চৌধুরীসহ অন্য সদস্যরা। সেই প্রতিবেদন সূত্রেই জানা গেছে এ তথ্য।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে মোট ৪৩টি মন্ত্রণালয় এবং ৬১টি বিভাগ রয়েছে। মন্ত্রণালয়গুলোকে যুক্তিসংগতভাবে হ্রাস করে মোট ২৫টি মন্ত্রণালয় ও ৪০টি বিভাগে পুনর্বিন্যাস করার সুপারিশ করা হলো।

এছাড়া মন্ত্রণালয়গুলোকে পাঁচটি গুচ্ছে বিভক্ত করার প্রস্তাবও দিয়েছে কমিশন। প্রস্তাবে বলা হয়েছে, কমিশন সব মন্ত্রণালয়কে সমপ্রকৃতির পাঁচটি স্বল্পমেয়াদি গুচ্ছে বিভক্ত করার সুপারিশ করছে। মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোকে পাঁচটি গুচ্ছে বিন্যস্ত করা যেতে পারে— (ক) বিধিবদ্ধ প্রশাসন; (খ) অর্থ, শিল্প ও বাণিজ্য, (গ) ভৌত অবকাঠামো ও যোগাযোগ; (ঘ) কৃষি ও পরিবেশ; (ঙ) মানব সম্পদ ও সামাজিক উন্নয়ন।

মন্ত্রণালয়, বিভাগ, অধিদপ্তর, পরিদপ্তর ও মাঠ পর্যায়ের দপ্তরগুলোর সাংগঠনিক ও মধ্য জনবল কাঠামো সংস্কারের বিষয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা বিভাগের উদ্যোগে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে মেয়াদি আলোচনা করে অধিদপ্তর, পরিদপ্তর, মাঠ পর্যায়ের দপ্তরগুলোর সাংগঠনিক ও জনবল কাঠামো পর্যালোচনা করতে হবে। তারা তাদের সুপারিশ বা প্রস্তাব স্থায়ী জনপ্রশাসন সংস্কার কমিটির কাছে পাঠাবে এবং কমিশন তা পর্যালোচনা করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের মাধ্যমে চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য সরকার প্রধানের কাছে পেশ করবে।

মন্ত্রণালয়ে নীতি ও পরিকল্পনা ইউনিট শক্তিশালী করার বিষয়ে প্রস্তাবে বলা হয়েছে, বিদ্যমান বিভিন্ন মন্ত্রণালয় বা বিভাগে মধ্য পরিকল্পনা কোষ রয়েছে। মন্ত্রণালয়ে বিভিন্ন নীতি ও পরিকল্পনা প্রণয়নের কাজটি যাতে মেয়াদি আরও কার্যকরভাবে সম্পাদন করা যায় সেজন্য প্রতিটি মন্ত্রণালয় বা বিভাগে নীতি এবং পরিকল্পনা অধিশাখা বা অনুবিভাগ গঠন করে দক্ষ ও বিশেষজ্ঞ জনবল নিয়োগ করতে পারে।

মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটকে ডায়নামিক করার বিষয়েও সুপারিশ করা হয়েছে সংস্কার প্রতিবেদনে। এতে বলা হয়েছে, প্রতিটি মন্ত্রণালয় বা বিভাগের অধীনস্ত বিভিন্ন স্বল্প মেয়াদি কার্যক্রম ও প্রকল্পের বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার জন্য বিস্তারিত হালনাগাদ তথ্যাদি মন্ত্রণালয় বা বিভাগের ওয়েবসাইটে আপলোড করবে এবং তাতে নাগরিকদের মতামত (ফিডব্যাক) দেওয়ার অপশন রাখতে হবে।

উল্লেখ্য, বুধবার বিচারবিভাগ ও জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদন হাতে পেয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। এদিন দুপুর ১টার দিকে এ দুই সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদন হস্তান্তর করা হয় তার কাছে। রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় বিচারবিভাগ সংস্কার কমিশনের প্রধান সাবেক বিচারপতি শাহ আবু নাঈম মমিনুর রহমান ও জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশনের প্রধান আব্দুল মুয়ীদ চৌধুরী প্রতিবেদনগুলো হস্তান্তর করেন।

আরটিভি/এসএইচএম/এআর