শনিবার, ২৩ আগস্ট ২০২৫ , ০২:৩৮ পিএম
কৃষি উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী জানিয়েছেন আলুর দাম নির্ধারণ করে কৃষকের কাছ থেকে আলু ক্রয় এবং কোল্ড স্টোরেজ পর্যায়ে আলুর দামও নির্ধারণ করে দেবে সরকার।
শনিবার (২৩ আগস্ট) দুপুরে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশনের (বিএডিসি) হিমাগার পরিদর্শন শেষে মিরপুর বিভাগের দারুসসালাম থানা পরিদর্শনে গিয়ে সাংবাদিকদের একথা বলেন তিনি।
উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, আলু বেচাকেনায় মিডলম্যানরাই বেশি টাকা পায়, কিন্তু কৃষক পায় না। সেজন্য কোল্ড স্টোরেজ পর্যায়ে আলুর দামও নির্ধারণ করে দেবে সরকার।
স্বরাষ্ট্রের পাশাপাশি কৃষি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা উপদেষ্টা বলেন, আমাদের বিদেশ থেকে আলু বীজ আমদানি করতে হয়। আমদানিতে খরচও বেশি। আমরা এখন চেষ্টা করতেছি ভবিষ্যতে আলু বীজ যেন আমদানি করতে না হয়। শুধু আলু বীজ না, আনারস, খেজুরও যেন দেশেই উন্নতমানের বীজ উৎপাদন করা যায়। সৌদি আরব থেকে যেন খেজুর আমদানি করতে না হয় সেই ব্যবস্থাও আমরা করবো।
কৃষি উপদেষ্টা বলেন, বিদেশ থেকে আলু বীজ আমদানিতে অনেক খরচ হয়ে যাচ্ছে। আমরা যদি নিজেরাই বীজ উৎপাদন করতে পারি তাহলে কৃষকরা অল্প দামেই আলু বীজ নিতে পারবে।
তিনি বলেন, এবার কিন্তু কৃষকরা আলুর দাম পায়নি। দাম না পাওয়ায় হয়তো ভবিষ্যতে কৃষক আর আলু বুনতেই চাইবে না, এমন শঙ্কা দেখা দিয়েছে। তাই আমরা চিন্তাভাবনা করছি, সরকারি পর্যায়ে আলুর দাম নির্ধারণ করে কৃষকদের কাছ থেকে আলু ক্রয় করবো। যেহেতু মিডলম্যানরাই বেশি টাকা পায়, কিন্তু কৃষক টাকা পায় না, সেজন্য আমরা আলুর দামও নির্ধারণ করে দেবো কোল্ড স্টোরেজ পর্যায়ে।
পাটের বীজ পুরোটাই ইন্ডিয়া থেকে আমদানি করতে হয়। পাট গবেষণা ইন্সটিটিউট বলছে যদি তারা জমি পায় তাহলে বাংলাদেশেই উৎপাদিত বীজেই চাহিদা মেটানো সম্ভব। এসম্পর্কে জানতে চাইলে কৃষি উপদেষ্টা বলেন, কৃষকরা সেখানেই যাবে, যেখানে লাভ বেশি। আর পাট যখন কাটা হয় তখন তো ফুলই আসে না। পাটের বীজ/ফল সংরক্ষণ করতে হলে পাটের যে ফল হয় সেটা পাকাতে পুরোটা সময় রেখে দিতে হবে। এতে করে সারাবছর চলে যায়। এই সময়ে তিনবার ধান করে ফেলতে পারে কৃষকরা। এজন্য কৃষকরা অনেক সময় পাটের বীজ উৎপাদন করতে চায় না। পাটের বীজ উৎপাদন করতে গেলে পাট গাছের যে আঁশ হয়, সেটাও নষ্ট হয় বা মান থাকে না। আর আমাদের পর্যাপ্ত জায়গা ছিল। এখন তা কমেছে। তাই বীজ আমদানি করলেই সুবিধা।
দারুসসালাম থানা পরিদর্শন সম্পর্কে উপদেষ্টা বলেন, রাজধানীর সবচেয়ে অপরাধপ্রবণ এলাকার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে মোহাম্মদপুর ও মিরপুর। এই দুই এলাকায় অপরাধ, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড একটু বেশিই। কীভাবে এই দুই এলাকা নিয়ন্ত্রণে রাখা যায় সেজন্যই পরিদর্শন করছি। এজন্য গণমাধ্যমের সহযোগিতাও চান তিনি। ‘আমরা আশা করছি, আমাদের চেষ্টা আর আপনাদের লেখালেখিতে দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আসবে’—যোগ করেন তিনি।
ডিএমপির ৫০ থানার মধ্যে ২৫ থানার কার্যক্রম ভাড়া ভবনে চলছে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, আমরা আরও আটটা থানা এই সেপ্টেম্বরের মধ্যেই নিজস্ব ভবনে নিতে পারবো।
আরটিভি/এমএ