বুধবার, ১৯ নভেম্বর ২০২৫ , ১১:৩৫ পিএম
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো ও নাগরিক প্ল্যাটফর্মের আহ্বায়ক অর্থনীতিবিদ দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য মন্তব্য করেছেন যে, বাংলাদেশের জনগণ এখন রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তন চায় এবং নির্বাচনের ব্যয় নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে দুর্নীতি কমানো প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়বে।
বুধবার (১৯ নভেম্বর) বরিশাল নগরীর একটি হোটেলে নাগরিক প্ল্যাটফর্ম আয়োজিত প্রাক-নির্বাচনী আঞ্চলিক পরামর্শ সভায় তিনি এ কথা বলেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা ও দাবি জানতে এই সংলাপের আয়োজন করা হয়।
দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, দেশের মানুষ এখন এমন একটি রাজনৈতিক সংস্কৃতি দেখতে চায়, যেখানে জনপ্রতিনিধিরা শুধু বলবেন না, জনগণের কথাও মনোযোগ দিয়ে শুনবেন। আগামী নির্বাচনকে ঘিরে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশার মধ্যে স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে—একটি নির্বাচন, যেখানে প্রকৃত জনপ্রতিনিধিরা নির্বাচিত হবেন। জনগণ এখন নির্বাচনের ব্যয় নিয়ন্ত্রণ, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের অপব্যবহার রোধ এবং দলগুলোর যোগ্য প্রার্থী মনোনয়নের বিষয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, নির্বাচনের ব্যয় কমানো সম্ভব না হলে দুর্নীতি কমানোও প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়বে।
তিনি জনপ্রতিনিধিদের জবাবদিহির ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, মানুষ চায় প্রতিটি নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি তার কাজের বার্ষিক হিসাব দেবেন। এই জবাবদিহির সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা করা জরুরি।
বরিশাল অঞ্চলের বিশেষ সমস্যা হিসেবে তিনি ভোলার গ্যাসের সঠিক ব্যবহার না হওয়া, কৃষিভিত্তিক শিল্পে স্থবিরতা এবং যোগাযোগব্যবস্থায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতির অভাবের কথা উল্লেখ করেন।
এই অর্থনীতিবিদ আরও জানান, আলোচনায় নিরাপত্তাহীনতার প্রসঙ্গটি সবচেয়ে জোরালোভাবে উঠে এসেছে। তার মতে, এই নিরাপত্তা কেবল অর্থনৈতিক নয়; এর সঙ্গে সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ব্যাবসায়িক নিরাপত্তাও যুক্ত। তিনি বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, সুশাসন ও প্রশাসনের দক্ষতার ঘাটতিকে নিরাপত্তা সংকটের গভীর হওয়ার কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন এবং বলেন, সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনও কঠিন হবে।
বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বিগত দেড় দশককে দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য ‘অলিগার্ক উত্থানের দশক’ হিসেবে অভিহিত করেন। তার ভাষায়, একটি গোষ্ঠী রাষ্ট্রকে প্রভাবিত করে নিজেদের স্বার্থে নীতি প্রণয়ন করেছে। তারা ব্যাংক, জ্বালানি, পুঁজিবাজার থেকে শুরু করে অফশোর ব্যাংকিং ও অবৈধ অর্থপাচার—সব ক্ষেত্রেই জড়িয়ে পড়েছে এবং দেশের দুই ফুসফুস, আর্থিক খাত ও জ্বালানি খাতকে ক্ষয় করেছে।
উক্ত সংলাপে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি, শিক্ষক, ছাত্র, সাংবাদিক, উন্নয়নকর্মী, কৃষক ও সাংস্কৃতিক কর্মীসহ নানা শ্রেণির মানুষ অংশ নেয়। এ সময় পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা ভূমি হারানোর আশঙ্কা এবং কর্মসংস্থানে বৈষম্যের অভিযোগ তোলেন। একজন রাজনৈতিক কর্মী অভিযোগ করেন, প্রশাসন দলীয়করণে আক্রান্ত এবং পুলিশ কর্মকর্তারাও রাজনৈতিক পরিচয়ে আচরণ করেন।
আরটিভি/এএইচ