সোমবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২৫ , ০৩:১৪ পিএম
লিবিয়া থেকে আরও ১৭৩ জন বাংলাদেশি দেশে ফিরেছেন।
সোমবার (১ ডিসেম্বর) সকালে তারা বুরাক এয়ারলাইন্সের ইউজেড ২২২ ফ্লাইটে দেশে ফিরেছেন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, লিবিয়া থেকে আজ সকালে ১৭৩ বাংলাদেশিকে নাগরিক দেশে ফিরেছেন।
ত্রিপলীর তাজুরা ডিটেনশন সেন্টার থেকে ১৭৩ বাংলাদেশি নাগরিককে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম)-এর সহায়তায় রোববার (৩০ নভেম্বর) দেশে প্রত্যাবাসন করা হয়।
জানা গেছে, লিবিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল আবুল হাসনাত মুহাম্মদ খায়রুল বাশারের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল গত ২৬ নভেম্বর ত্রিপলির তাজুরা ডিটেনশন সেন্টার পরিদর্শন করেন। এ সময় দূতাবাসের প্রথম সচিব (শ্রম) উপস্থিত ছিলেন। রাষ্ট্রদূত পরিদর্শনের সময় ডিটেনশন সেন্টারে আটক বাংলাদেশি নাগরিকদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং তাদের সার্বিক অবস্থার খোঁজখবর নেন।
সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রদূত আটক বাংলাদেশিদের উদ্দেশে অবৈধ অভিবাসনের ঝুঁকি সম্পর্কে সতর্ক করেন। তিনি বলেন, অনেক অভিবাসী অবৈধ পথে বিদেশে পাড়ি দিতে গিয়ে চরম ঝুঁকির মুখে পড়েন এবং মানবপাচারকারীদের কারণে দুঃসহ অভিজ্ঞতার শিকার হন। তিনি আরও বলেন, আপনারা ভাগ্যবান যে আল্লাহর অসীম রহমতে সাগর থেকে জীবিত উদ্ধার হয়েছেন।
রাষ্ট্রদূত তাদের আশ্বস্ত করে জানান, দূতাবাস দ্রুত সময়ে সবাইকে দেশে ফেরত পাঠানোর লক্ষ্যে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে সবার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত করা হয়েছে এবং প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে আগামী ৩০ নভেম্বর আইওএম-এর সহায়তায় ১৭৫ জনকে দেশে ফেরতের প্রক্রিয়া শুরু করা সম্ভব হবে। তিনি আটক বাংলাদেশিদের দেশে ফিরে তাদের ভয়াবহ অভিজ্ঞতা অন্যদের সঙ্গে শেয়ার করে অবৈধ অভিবাসনের ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির আহ্বান জানান। একইসঙ্গে তিনি মানবপাচারকারী চক্রের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
রাষ্ট্রদূত জানান, আইওএম-এর সহায়তায় পর্যায়ক্রমে আটক সব বাংলাদেশিকে দেশে ফেরত পাঠানোর জন্য দূতাবাস নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এ সময় দূতাবাসের পক্ষ থেকে উপস্থিত অভিবাসীদের মধ্যে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়।
পরিদর্শনকালে রাষ্ট্রদূত তাজুরা ডিটেনশন সেন্টার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠক করেন এবং সাগর থেকে বাংলাদেশি নাগরিকদের উদ্ধারসহ মানবিক সহায়তা দেওয়ার জন্য তাদের আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানান।
আরটিভি/এমএ