শুক্রবার, ০৫ ডিসেম্বর ২০২৫ , ০২:৫২ পিএম
ভারতের সঙ্গে নতুন করে সম্পর্কের ভিত্তি স্থাপনের বার্তা দিয়েছিলেন ভারতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মুহাম্মদ রিয়াজ হামিদুল্লাহ। তার মতে, নতুন সম্পর্কের পটভূমি হতে পারে অর্থনীতি ও সংস্কৃতি।
বুধবার (৩ ডিসেম্বর) ভারতের পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতায় মার্চেন্টস চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এমসিসিআই) আয়োজিত ইন্টারঅ্যাকটিভ সেশনে এক আলোচনা সভায় এ কথা বলেন তিনি।
রিয়াজ হামিদুল্লাহ বলেন, নতুন এক ‘ক্যানভাস’ বা পটভূমি তৈরি করার প্রচেষ্টা চলছে, যেখানে আমরা একটি যৌথ ভবিষ্যতের দিকে নজর দিতে পারি।
এই গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্যটি এমন সময়ে এলো যখন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী গুরুতর অসুস্থ বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার দ্রুত আরোগ্যের জন্য সব ধরনের সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছেন, যা নয়াদিল্লি ও ঢাকার মধ্যে জমে থাকা বরফ গলার ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে।
সম্প্রতি বাংলাদেশের পক্ষ থেকেও স্পষ্ট জানানো হয়েছিল, ঢাকার সঙ্গে দিল্লির সম্পর্ক কোনো একটি নির্দিষ্ট বিষয়ে আটকে থাকবে না। হাইকমিশনার হামিদুল্লাহ ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্ককে ‘অর্গানিক’ (অকৃত্রিম) এবং ‘পারস্পরিক আন্তঃনির্ভরশীলতা’ এর ওপর প্রতিষ্ঠিত বলে অভিহিত করেন।
তিনি স্বীকার করেন, আলোচনায় দ্বিমত এবং সংবেদনশীল বিষয় রয়েছে, কিন্তু এগুলো একটি সম্পর্কের স্বাভাবিক অংশ। তিনি বলেন, সম্পর্কের কোনো একটি বিশেষ দিক তুলে ধরলে সামগ্রিক প্রেক্ষাপটের প্রতি সুবিচার করা হবে না।
হামিদুল্লাহ দু’দেশের দ্রুত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ওপর জোর দিয়ে জানান, পর্যটনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্র বিবেচনা করলে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে অর্থনৈতিক সম্পৃক্ততা বর্তমানে ২৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারেরও বেশি।
তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের আমদানি প্রোফাইল এবং বন্দর ও লজিস্টিকসে নতুন সক্ষমতা যুক্ত হওয়ার সুযোগ দেখলে এই ইঙ্গিত স্পষ্ট হয়। এছাড়া, তিনি জানান, বাংলাদেশ ভারতীয়দের বাংলাদেশে চলাচলে কোনো বাধা সৃষ্টি করেনি। রিজার্ভ ব্যাংক অফ ইন্ডিয়ার ২০২৫ সালের আগস্ট মাসের একটি রিপোর্ট অনুযায়ী, দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যে ১২ শতাংশ বৃদ্ধির ইঙ্গিত পাওয়া গেছে বলে তিনি জানান।

দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও মজবুত করতে ঢাকা এখন সাংস্কৃতিক কূটনীতি ও জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানোর দিকে ঝুঁকছে। হাইকমিশনার জানান, আগামী বছর নয়াদিল্লিতে একটি বাংলা চলচ্চিত্র উৎসব আয়োজনের পরিকল্পনা চলছে।
তিনি ভারত ও পশ্চিমবঙ্গের মানুষের জন্য বাংলাদেশে তাদের পৈতৃক ভিটা পরিদর্শনের সুবিধা দেয়ারও প্রস্তাব করেছেন। হামিদুল্লাহর এই পদক্ষেপগুলো স্পষ্টতই ইঙ্গিত দেয়, উভয় দেশই যখন সংবেদনশীল একটি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক পার করছে, তখন বাংলাদেশ বৃহত্তর পরিসরে অর্থনৈতিক একীকরণ, পর্যটন সুবিধা প্রদান এবং সাংস্কৃতিক আদান-প্রদানের মাধ্যমে সম্পর্কের পরিধি প্রসারিত করতে চাইছে।
আরটিভি/এসআর