সোমবার, ২২ ডিসেম্বর ২০২৫ , ০১:৫১ পিএম
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সম্মুখযোদ্ধা, ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা-৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদিকে ‘শহীদ’ ঘোষণা করে সরকারি গেজেট প্রকাশ, হত্যাকারীদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার ও হত্যাকাণ্ডে প্রশাসনের ভূমিকা তদন্তের দাবিতে আজ সংবাদ সম্মেলন করেছে মঞ্চ ২৪।
সোমবার (২২ ডিসেম্বর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) মধুর ক্যান্টিন প্রাঙ্গণে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এসব দাবি তোলেন মঞ্চ ২৪-এর আহ্বায়ক ফাহিম ফারুকী।
তিনি বলেন, চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের পর থেকেই দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে বাংলাদেশের গণতন্ত্র ধ্বংসের অপচেষ্টা চলছে। এসব ষড়যন্ত্র রুখে দিতে এবং বিপ্লবকে বাঁচিয়ে রাখতে রাজপথে লড়াই করে গেছেন ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদি। তার স্বপ্ন বাস্তবায়নে জুলাই যোদ্ধারা ঐক্যবদ্ধ।
তিনি আরও বলেন, হাদি কোনো নির্দিষ্ট সংগঠনের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিলেন না, তিনি ছিলেন বাংলাদেশের। তিনি ফ্যাসিবাদ ও ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে যে লড়াই শুরু করেছিলেন, তা সবাই মিলে এগিয়ে নেওয়া হবে।
সংবাদ সম্মেলনে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে সমালোচনা করা হয়। বলা হয়, পূর্ববর্তী সরকারের রেখে যাওয়া কাঠামো এখনও বহাল রয়েছে এবং খুনিদের জবাবদিহির আওতায় আনা হয়নি। দিনের আলোতে ওসমান বিন হাদিকে গুলি করে হত্যা করা হলেও এখন পর্যন্ত খুনিকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।
লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, ১২ ডিসেম্বর রাজধানীতে প্রকাশ্যে গুলি করার ঘটনার পরও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি দেখা যায়নি।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার ভূমিকা নিয়ে সমালোচনা করে বলা হয়, হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে স্পষ্ট আপডেট না দিয়ে দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টাকে দায়িত্ব নিয়ে পদত্যাগ করার আহ্বান জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলন থেকে মঞ্চ ২৪-এর পক্ষ থেকে কয়েকটি দাবি উত্থাপন করা হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—
একটি গণতদন্ত কমিশন গঠন, কথিত অনুসন্ধানী সাংবাদিকদের জিজ্ঞাসাবাদের আওতায় আনা, হত্যাকাণ্ড নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করা গণমাধ্যমকর্মীদের জিজ্ঞাসাবাদ, দেশের সব গোয়েন্দা সংস্থার প্রধানদের জবাবদিহির আওতায় আনা এবং ডিজিএফআইয়ের প্রধানকে জবাবদিহির মুখোমুখি করা।
এ ছাড়া হাদিকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘শহীদ’ ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশ এবং প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পাঠ্যপুস্তকে তার ভারতীয় আধিপত্যবাদবিরোধী সংগ্রাম অন্তর্ভুক্ত করার দাবিও জানানো হয়।
প্রসঙ্গত, গত ১২ ডিসেম্বর নির্বাচনী প্রচারণাকালে রাজধানীর পুরানা পল্টনের বক্স কালভার্ট সড়কে চলন্ত মোটরসাইকেল থেকে দুর্বৃত্তরা রিকশায় থাকা ওসমান হাদিকে মাথায় গুলি করে। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় দ্রুত তাকে ঢাকা মেডিকেলের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়।
এরপর পরিবারের ইচ্ছায় তাকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। পরে ১৫ ডিসেম্বর দুপুরে উন্নত চিকিৎসার জন্য এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয় ওসমান হাদিকে। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর তিনি মারা যান।
এরপর শুক্রবার তার মরদেহ ঢাকায় আনা হয় ও শনিবার বাদ জোহর জানাজা শেষে তাকে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধির পাশে সমাহিত করা হয়।
আরটিভি/আইএম