বুধবার, ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ , ০৬:৫০ পিএম
সাবেক প্রধানমন্ত্রী, গণতন্ত্রের আপসহীন নেত্রী এবং বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার জানাজায় অংশ নিতে ঢাকায় আসা বিভিন্ন দেশের বিশিষ্ট ব্যক্তি ও উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের একাধিক উপদেষ্টার সৌজন্য সাক্ষাৎ হয়েছে।
বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) জাতীয় সংসদ ভবনে আগত বিদেশি অতিথিদের সঙ্গে একাধিক উপদেষ্টার এই সাক্ষাৎ হয়।
আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল ও জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান জাতীয় সংসদ ভবনে সফররত ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর, পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের স্পিকার সরদার আয়াজ সাদিক, নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বালা নন্দ শর্মা এবং ভুটানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডি এন ধুঙ্গিয়েলের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
বিদেশি এসব অতিথিরা মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) খালেদা জিয়াকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে ঢাকায় আসেন। এসময় উপদেষ্টারা তাদের উপস্থিতি এবং জাতীয় শোকের এই সময়ে বাংলাদেশের জনগণের প্রতি সংহতি প্রকাশের জন্য সফররত অতিথিদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।
এদিকে, বিকেল তিনটায় সংসদ ভবনের মাঠ ও সংলগ্ন মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ এলাকায় রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় খালেদা জিয়ার জানাজা নামাজ সম্পন্ন হয়। জানাজায় অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসসহ দেশ-বিদেশের গন্যমান্য ব্যক্তিসহ লাখ লাখ মানুষ অংশ নেয়।
এরপর বিশেষ একটি বাহনে করে খালেদা জিয়ার মরদেহ সাবেক রাষ্ট্রপতি ও তার স্বামী জিয়াউর রহমানের সমাধির কাছে নেওয়া হয়। সেখানে রাষ্ট্রীয় মর্যাদার পর জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে খালেদা জিয়াকে দাফন করা হয়।
উল্লেখ্য, আওয়ামী লীগের দীর্ঘ ১৬ বছরের শাসনামলে দীর্ঘদিন নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন খালেদা জিয়া, কারাভোগ করেছেন। চিকিৎসার সুযোগও দেওয়া হয়নি। ধীরে ধীরে অসুস্থ হয়ে পড়েন বেগম জিয়া। এরপর করোনার কারণে শর্তসাপেক্ষে মুক্তি দিলেও গুলশানের ভাড়া বাসা ‘ফিরোজা’য় বন্দি রাখা হয়।
আওয়ামী লীগের শাসনামলে চিকিৎসা না পাওয়ায় ধীরে ধীরে হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, আর্থ্রাইটিস, লিভার সিরোসিস, কিডনির জটিলতাসহ নানা শারীরিক অসুস্থতা দেখা দেয় খালেদা জিয়ার।
এরমধ্যে ২০২৪ সালের জুলাইতে কোটা সংস্কার আন্দোলন দাবিতে দেশজুড়ে শুরু হয় আন্দোলন, যা শেষ পর্যন্ত সরকার পতনের আন্দোলনে গড়ায়। টানা ৩৫ দিনের রক্তক্ষয়ী আন্দোলনে পর ৫ আগস্ট দেশ ছেড়ে ভারতে পালিয়ে যায় শেখ হাসিনা। পরদিন ৬ আগস্ট খালেদা জিয়াকে মুক্তি দেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।
এরপর উন্নত চিকিৎসার জন্য চলতি বছরের ৭ জানুয়ারি লন্ডনে যান খালেদা জিয়া। ১১৭ দিন লন্ডনে অবস্থান শেষে গত ৬ মে তিনি দেশে ফেরেন। তার স্বাস্থ্যের অনেকটা উন্নতি হয়েছিল। তবে নানা রোগে জটিলতা ও শরীর–মনে ধকল সহ্য করে তিনি দুর্বল হয়ে পড়েছিলেন। বয়সও ছিল প্রতিকূল। প্রায়ই গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়তেন। হাসপাতালে ভর্তি করানো হতো।
সবশেষে গত ২৩ নভেম্বর তাকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়। এক মাসের কিছু বেশি সময় তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন থেকে মঙ্গলবার সকাল ৬টায় খালেদা জিয়া মৃত্যুবরণ করেন।
আরটিভি/আরএ