images

জাতীয়

২০২৫ সালে সড়কে ৬ হাজার ৭২৯ দুর্ঘটনা, ঝরেছে ৯ হাজারের বেশি প্রাণ

রোববার, ০৪ জানুয়ারি ২০২৬ , ০১:৫৪ পিএম

সদ্য বিদায়ী ২০২৫ সালে দেশজুড়ে  ৬ হাজার ৭২৯টি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে উল্লেখ করেছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি। এসব দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ৯ হাজার ১১১ জন মানুষ। সেইসঙ্গে আহত হয়েছেন ১৪ হাজার ৮১২ জন।

এর মধ্যে শুধু মোটর সাইকেল দুর্ঘটনাই ঘটেছে ২ হাজার ৪৯৩টি, যা মোট দুর্ঘটনার ৩৭.০৪ শতাংশ। আর এসব দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে ২ হাজার ৯৮৩ জনের এবং আহত হয়েছেন ২ হাজার ২১৯ জন।

রোববার (৪ জানুয়ারি) দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য সামনে এনেছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি। 

সংগঠনটি বলছে, ২০২৫ সালে সড়কে দুর্ঘটনা আগের বছরের তুলনায় ৬.৯৪ শতাংশ, নিহত ৫.৭৯ শতাংশ এবং আহত ১৪.৮৭ শতাংশ বেড়েছে।

বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির তথ্য অনুযায়ী, সড়ক, রেল ও নৌ-পথ মিলিয়ে সর্বমোট ৭ হাজার ৩৬৯টি দুর্ঘটনায় ৯ হাজার ৭৫৪ জনের মৃত্যু হয়েছে ২০২৫ সালে। আর আহত হয়েছেন ১৫ হাজার ৯৬ জন।

এর মধ্যে রেলপথে ৫১৩টি দুর্ঘটনায় ৪৮৫ জন নিহত ও ১৪৫ জন আহত হয়েছেন। আর নৌ-পথে ১২৭টি দুর্ঘটনায় ১৫৮ জন নিহত ও ১৩৯ জন আহত হয়েছেন। 

গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ পর্যালোচনা করে প্রতিবছরের ন্যায় এই প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে জানিয়েছেন সংগঠনটির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী। তিনি বলেছেন, এসব দুর্ঘটনায় বছরে আর্থিক ক্ষতি ৬০ হাজার কোটি টাকার বেশি।

দুর্ঘটনায় প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি কমাতে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী সব রাজনৈতিক দলের নির্বাচনি ইশতেহারে অঙ্গীকার দাবি করেন তিনি।

আরও পড়ুন
riz

আইপিএলের সম্প্রচার বন্ধের পদক্ষেপ নিয়ে যা বললেন তথ্য উপদেষ্টা

সংগঠনের পর্যালোচনা অনুযায়ী মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, এ সময়ে সংগঠিত দুর্ঘটনায় সর্বমোট ১ হাজার ২৮৮টি যানবাহনের পরিচয় মিলেছে। এর মধ্যে ১৪.৪৯ শতাংশ বাস, ২২.৬০ শতাংশ ট্রাক-পিকাপ-কাভার্ডভ্যান ও লরি, ৫.৮৫ শতাংশ কার-জিপ-মাইক্রোবাস, ৬.৬৩ শতাংশ সিএনজিচালিত অটোরিকশা, ২৮.৪৮ শতাংশ মোটরসাইকেল, ১৩.৫৪ শতাংশ ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ইজিবাইক, ৮.৩৮ শতাংশ নছিমন-করিমন-মাহিন্দ্রা-ট্রাক্টর ও লেগুনা।

মোটরসাইকেল ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার দুর্ঘটনা ভয়াবহ বেড়েছে দাবি করে তিনি আরও বলেন, এসব সংবাদ গণমাধ্যমে কম আসছে বলে প্রকৃত চিত্র তুলে আনা যাচ্ছে না।

মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরীর ভাষ্য, সংগঠিত মোট দুর্ঘটনার ৪৮.৮৪ শতাংশ পথচারীকে গাড়ি চাপা, ২৬ শতাংশ যানবাহনের মুখোমুখি সংঘর্ষ, ১৮.৬৩ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে, ৫.৩৭ শতাংশ অন্যান্য কারণে, ০.৪৪ শতাংশ যানবাহনের চাকায় ওড়না পেঁচিয়ে এবং ০.৬৮ শতাংশ ট্রেন-যানবাহন সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

দুর্ঘটনার ধরন বিশ্লেষণ করে যাত্রী কল্যাণ সমিতি আরও বলছে, দুর্ঘটনার ৩৮.২২ শতাংশ জাতীয় মহাসড়কে, ২৭.১৩ শতাংশ আঞ্চলিক মহাসড়কে, ২৮.৮৩ শতাংশ ফিডার রোডে সংগটিত হয়েছে। এছাড়াও দেশে সংঘটিত মোট দুর্ঘটনার ৪.২২ শতাংশ ঢাকা মহানগরীতে, ০.৯০ শতাংশ চট্টগ্রাম মহানগরীতে, ০.৬৮ শতাংশ রেলক্রসিংয়ে হয়েছে।

বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব বলেন, বিদায়ী বছরে ছোট যানবাহনের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় ও এসব যানবাহন অবাধে চলাচলের কারণে জাতীয় মহাসড়কে ২.৫৫ শতাংশ, আঞ্চলিক মহাসড়কে ৫.৪৭ শতাংশ সড়ক দুর্ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে।

আরটিভি/এসএইচএম