images

জাতীয়

বৈশাখী ভাতা ও পেনশন নিয়ে বড় সুখবর পেতে যাচ্ছেন সরকারি চাকরিজীবীরা

বুধবার, ২১ জানুয়ারি ২০২৬ , ০৪:২৫ পিএম

দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য আসছে নতুন বেতন কাঠামো বা নবম পে-স্কেল। নতুন এই সুপারিশে মূল বেতনের পাশাপাশি বৈশাখী ভাতা এবং পেনশনের হারে বড় ধরনের পরিবর্তনের সুখবর দিয়েছে জাতীয় বেতন কমিশন।

বুধবার (২১ জানুয়ারি) বিকেলে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে এই সংক্রান্ত চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেবে কমিশন।

বর্তমানে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তাদের মূল বেতনের ২০ শতাংশ হারে বৈশাখী ভাতা পেয়ে থাকেন। নতুন পে-স্কেলে এই ভাতার হার কয়েক গুণ বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ করার জোরালো সুপারিশ করা হয়েছে। জীবনযাত্রার ব্যয় এবং উৎসবের গুরুত্ব বিবেচনা করে এই প্রস্তাবনা দিয়েছে সাবেক অর্থসচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বাধীন বেতন কমিশন।

এছাড়া, পেনশনভোগীদেরকেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে প্রতিবেদনে। যারা মাসে ২০ হাজার টাকার কম পেনশন পান, তাদের পেনশন ১০০ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। এছাড়া, ১০ম থেকে ২০তম গ্রেড পর্যন্ত যাতায়াত ভাতার আওতা বাড়ানো এবং নিম্ন ধাপের কর্মচারীদের জন্য বেশি হারে বাড়িভাড়ার সুপারিশও থাকছে এই প্রতিবেদনে।

আরও পড়ুন
ministry

বেতনকাঠামো নির্ধারণ করে মসজিদ ব্যবস্থাপনা নীতিমালার গেজেট প্রকাশ

কমিশন সূত্রে জানা গেছে, গ্রেডভেদে বেতন ১০০ শতাংশ থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ১৪৭ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধির সুপারিশ করা হয়েছে। এর ফলে, সর্বনিম্ন বেতন (২০তম গ্রেড) বর্তমানের ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বেড়ে দাঁড়াচ্ছে ২০ হাজার টাকায়। অন্যদিকে বর্তমানের ৭৮ হাজার টাকা থেকে বেড়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা হচ্ছে সর্বোচ্চ বেতন (১ম গ্রেড)।

কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে আংশিক এবং ১ জুলাই থেকে পূর্ণাঙ্গ বেতন কাঠামো কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে। তবে অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, প্রতিবেদন জমা হওয়ার পর এটি বিভিন্ন কমিটি দ্বারা যাচাই-বাছাই করা হবে। এই প্রক্রিয়ায় সাধারণত তিন থেকে চার মাস সময় লাগতে পারে।

উল্লেখ্য, ২০১৫ সালের পর দীর্ঘ ১০ বছর ধরে একই বেতন কাঠামোতে চলছিলেন প্রায় ১৫ লাখ সরকারি চাকরিজীবী। নতুন এই উদ্যোগের ফলে তাদের জীবনযাত্রার মান ও কর্মস্পৃহা বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

আরটিভি/এসএইচএম