মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারি ২০২৬ , ১১:৪৯ এএম
জমি রেজিস্ট্রির পর দলিলের মূল কপি ও নকল সংগ্রহে আর দীর্ঘদিন অপেক্ষা করতে হবে না। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই দলিল সরবরাহ করা হবে। সেবাপ্রার্থী চাইলে নির্দিষ্ট একটি নম্বরে ফোন করে দলিলের বর্তমান অবস্থা এবং সরবরাহের সম্ভাব্য সময় জানতে পারবেন।
ঢাকা জেলার সব সাবরেজিস্ট্রি অফিসে প্রথমবারের মতো এই সেবাভিত্তিক উদ্যোগ চালু করা হয়েছে। পাশাপাশি জমি বা সম্পত্তি ক্রেতার মোবাইল ফোনে কল বা মেসেজের মাধ্যমে দলিল পাওয়ার সম্ভাব্য তারিখ জানিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থাও গ্রহণ করা হয়েছে।
ঢাকা জেলা সাবরেজিস্ট্রার অহিদুল ইসলাম সোমবার গণমাধ্যমকে জানান, দ্বিতীয় ধাপে আগামী বছরের ১ জানুয়ারি থেকে এই কার্যক্রম পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি বলেন, জমি রেজিস্ট্রির পর দেওয়া রসিদে একটি নির্দিষ্ট মোবাইল নম্বর সিল দিয়ে উল্লেখ করা হচ্ছে। সেবাপ্রার্থী সেই নম্বরে যোগাযোগ করে জানতে পারবেন কখন দলিল সরবরাহ করা হবে। ভবিষ্যতে গ্রহীতার মোবাইল নম্বর সংরক্ষণ করা হবে। দলিল প্রস্তুত হলে প্রথমে মেসেজ, এরপর ফোন করে সরবরাহের তারিখ জানানো হবে।
ঢাকা জেলা রেজিস্ট্রারের কার্যালয়সহ জেলার অন্তর্ভুক্ত ২৩টি সাবরেজিস্ট্রি অফিসে কোন কর্মকর্তা বা কর্মচারী ফোন রিসিভ করবেন, সে বিষয়ে নাম, পদবি ও নম্বরসহ একটি নির্দেশনাপত্র জারি করা হয়েছে।
অহিদুল ইসলাম আরও জানান, জানুয়ারি থেকে দলিল রেজিস্ট্রির ফরম্যাটে ভোটার আইডির নিচে গ্রহীতার মোবাইল নম্বর যুক্ত করা হবে। তবে কেউ ব্যক্তিগত গোপনীয়তার কারণে নম্বর দিতে না চাইলে সেখানে ‘দিতে আগ্রহী নন’ উল্লেখ করা থাকবে।
সূত্র জানায়, জমি রেজিস্ট্রেশনের ১১৫ বছরের ইতিহাসে এই প্রথম এমন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ১৯০৮ সালে দলিল নিবন্ধন প্রথা চালু হলেও দীর্ঘদিন ধরে এই খাতে হয়রানি ও জটিলতার অভিযোগ ছিল।
ভোগান্তি কমাতে ইতোমধ্যে রেজিস্ট্রেশন কমপ্লেক্সে হেল্প ডেস্ক, বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা এবং নিয়মিত গণশুনানির আয়োজন করা হয়েছে। প্রতি মঙ্গলবার গণশুনানি হলেও বাস্তবে প্রায় প্রতিদিনই সাধারণ মানুষের অভিযোগ শোনা হচ্ছে।
এ ছাড়া তিনি সপ্তাহে অন্তত তিন দিন আকস্মিক পরিদর্শনে সাবরেজিস্ট্রি অফিসগুলো ঘুরে দেখছেন এবং তাৎক্ষণিক সমাধানের নির্দেশ দিচ্ছেন।
পুরোনো দলিল সংরক্ষণের জন্য ভবন সম্প্রসারণের অনুমোদন পাওয়া গেছে জানিয়ে তিনি বলেন, বালাম বই স্ক্যান করে ডিজিটাল পদ্ধতিতে সংরক্ষণের জন্য আলাদা প্রকল্প নেওয়ার উদ্যোগ চলছে।
অহিদুল ইসলাম বলেন, এখনো আমরা প্রত্যাশা অনুযায়ী শতভাগ সেবা দিতে পারছি না। তবে সাবরেজিস্ট্রি অফিস নিয়ে দীর্ঘদিনের নেতিবাচক ধারণা পরিবর্তনে আমরা কাজ করছি। ধীরে হলেও পরিবর্তন শুরু হয়েছে।
আরটিভি/এএ