শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ , ০৩:৩২ এএম
সারাদেশে উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল বহুল কাঙ্ক্ষিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং গণভোট।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ২৯৯টি সংসদীয় আসনে বিরতিহীনভাবে ভোটগ্রহণ চলে। দীর্ঘ কয়েক দশকের নির্বাচনি সংস্কৃতির বিপরীতে এবারের নির্বাচনে একটি অনন্য রেকর্ডও হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৯১ সালের পর এই প্রথম ভোটগ্রহণের দিন নির্বাচনি সহিংসতায় একজন মানুষেরও প্রাণহানি ঘটেনি।
ভোটের দিন সারাদেশে নির্বাচনি কার্যক্রম চলাকালীন ভোটকেন্দ্রের ভেতরে ও আশেপাশে মোট সাতজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও প্রাথমিক অনুসন্ধানে নিশ্চিত হওয়া গেছে, এই মৃত্যুর ঘটনাগুলোর প্রায় প্রতিটিই ছিল স্বাভাবিক কিংবা বার্ধক্যজনিত।
এর মধ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় দায়িত্ব পালনকালে ৫০ বছর বয়সী পোলিং অফিসার মো. মুজাহিদুল ইসলাম মৃত্যুবরণ করেন। অন্যদিকে খুলনার একটি কেন্দ্রে বাকবিতণ্ডার পর সাবেক বিএনপি নেতা মহিবুজ্জামান কোচি মারা যান। যদিও বিএনপি নেতারা তাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ করেছেন, তবে জামায়াত প্রতিনিধিরা তা অস্বীকার করেছেন। তদন্ত শেষে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই মৃত্যুর সঙ্গে নির্বাচনি সহিংসতার কোনো সরাসরি সম্পর্ক ছিল না।
বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মৃতদের মধ্যে পাঁচজন ঢাকা, চট্টগ্রাম, গাইবান্ধা, কিশোরগঞ্জ এবং মানিকগঞ্জে ভোট প্রদানের সময় কিংবা কেন্দ্রের কাছে অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। ঢাকার যাত্রাবাড়ীর একটি কেন্দ্রে ৫৩ বছর বয়সী আলী আবু সাঈদ সরকার হঠাৎ অচেতন হয়ে পড়লে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়, যেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। একইভাবে গাইবান্ধা ও মানিকগঞ্জে বশির আলী ও বাবু মিয়া নামে দুই প্রবীণ ভোটার ভোট দেওয়ার লাইনে দাঁড়িয়ে অসুস্থ হয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।
কিশোরগঞ্জের ভৈরবে ৬৭ বছর বয়সী রজ্জাক মিয়া তার নির্ধারিত কেন্দ্রে পৌঁছানোর পরপরই অসুস্থ বোধ করেন এবং কিছুক্ষণ পর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। চিকিৎসকদের মতে, এই মৃত্যুগুলো মূলত হৃদরোগ কিংবা বার্ধক্যজনিত শারীরিক জটিলতার কারণেই ঘটেছে।
বিশৃঙ্খলাহীন এই নির্বাচন বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় এক নতুন মানদণ্ড স্থাপন করেছে। যেখানে অস্ত্রের ঝনঝনানি বা প্রাণহানির বদলে ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণই ছিল মূল আকর্ষণ। এখন সারাদেশ অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণার জন্য, যা পর্যায়ক্রমে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কার্যালয় থেকে জানানো হচ্ছে।
আরটিভি/এমআই