মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ , ০১:১৫ পিএম
জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক আনিস আলমগীরকে মিথ্যা মামলায় দুই মাস ধরে কারাবন্দি রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তার পরিবার। পরিবারের দাবি, দেশের মুক্তিযুদ্ধ ও গণতন্ত্রের পক্ষে মত প্রকাশ করায় তাকে লক্ষ্য করে মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা দায়ের করা হয়েছে।
আনিস আলমগীরের সহধর্মিণী শাহনাজ চৌধুরী বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় কোনো সাংবাদিককে মত প্রকাশের জন্য জেলে যেতে হয়নি এমন দাবিটি মিথ্যা। শুধু মত প্রকাশের কারণে সাংবাদিককে দুই মাসের বেশি কারাবন্দি রাখা হয়েছে।
ধারণা করা হচ্ছে, আনিস আলমগীরকে আটক করে সরকারের ভিন্নমত দমনের কৌশল নেওয়া হয়েছে। ১৫ ডিসেম্বর রাজধানীর ধানমণ্ডি থেকে তাকে আটক করে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। পরে রাতেই উত্তরা পশ্চিম থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দায়ের করা হয়। এরপর দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মাধ্যমে আরেকটি মামলা দায়ের করা হয়, যেখানে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও মানি লন্ডারিং অভিযোগ আনা হয়।
তার আইনজীবী আসলাম মিয়া বলেন, উভয় অভিযোগই মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। প্রকৃতপক্ষে তিনি দেশপ্রেমিক সাংবাদিক, সব সময় মুক্তিযুদ্ধ ও গণতন্ত্রের পক্ষে সোচ্চার ছিলেন। তাকে আটক করার সময় মামলা দায়েরের আগে আটক করা হয়েছিল। ফেসবুকে লিখিত বিষয়গুলো সন্ত্রাসবিরোধী আইনের আওতায় পড়ে না।
দুদক দাবি করেছে, আনিস আলমগীরের ঘোষিত আয়ের তুলনায় প্রায় ৩ কোটি ২৬ লাখ টাকা বেশি সম্পদ পাওয়া গেছে। তবে আইনজীবী জানিয়েছেন, সম্প্রতি তিনি একটি সম্পত্তি বিক্রি করেছিলেন এবং লেনদেন ব্যাংকিং চ্যানেলে হওয়ায় তা ‘জ্ঞাত আয়বহির্ভূত’ হিসেবে দেখানো হয়েছে।
এদিকে, তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান ১৫ ফেব্রুয়ারি বলেছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় কোনো সাংবাদিককে মত প্রকাশের জন্য জেলে যেতে হয়নি। কিন্তু সংবাদমাধ্যমের এবং সামাজিক মাধ্যমে সরকারের কঠোর সমালোচনার পরিপ্রেক্ষিতে আনিস আলমগীরকে আটক করা হয়েছিল বলে সূত্রের দাবি।
আনিস আলমগীর একসময় জনপ্রিয় বাংলা দৈনিক আজকের কাগজে সাংবাদিক হিসেবে কাজ করেছিলেন এবং ২০০৩ সালে ইরাক যুদ্ধ কভার করতে গিয়ে দেশজুড়ে পরিচিতি পান। আটক হওয়ার আগে তিনি টেলিভিশন টক শো ও সামাজিক মাধ্যমে অন্তর্বর্তী সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের সমালোচনা করে আলোচনায় আসেন।
পরিবার ও আইনজীবীরা তার অবিলম্বে মুক্তির দাবি জানিয়েছেন।
আরটিভি/এসকে