শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ , ১২:২৬ পিএম
ঢাকা-৬ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য এবং নতুন সরকারের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন তার নির্বাচনি এলাকার উন্নয়নে ১০ দিনের কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন।
বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি রমজান মাসকে কেন্দ্র করে প্রথম ১০ দিনের অগ্রাধিকারভিত্তিক কর্মসূচি এবং ঈদের আগে-পরের ধারাবাহিক কার্যক্রমের রূপরেখা তুলে ধরেন।
তার প্রথম ১০ দিনের তাৎক্ষণিক কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে গ্যাস-সংকট ব্যবস্থাপনা, আইনশৃঙ্খলা জোরদার, মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণ ও যানজট নিরসন।
আইনশৃঙ্খলার প্রশ্নে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করে ইশরাক হোসেন জানিয়েছেন, স্থানীয় থানাগুলোর কর্মকর্তাদের সঙ্গে সমন্বয় সভা করে পাড়া-মহল্লায় পুলিশি টহল বৃদ্ধি এবং নিষ্ক্রিয় পুলিশ ফাঁড়িগুলো দ্রুত সচল করা হবে। বিশেষ করে ছিনতাই, চুরি ও সড়ক অপরাধ দমনে তিনি কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন।
মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে ইশরাক হোসেন বলেন, এলাকার সব মাদক স্পট বন্ধ করা হবে এবং এর মূল হোতা বা গডফাদারদের আইনের আওতায় আনা হবে। এমনকি বিদেশে পালিয়ে থাকা মাদক কারবারিদের ইন্টারপোলের মাধ্যমে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি।
নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখতে তিনি গোয়েন্দা নজরদারি এবং আকস্মিক পরিদর্শনের ওপর জোর দিয়েছেন। মজুদদারদের বিরুদ্ধে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ম্যাজিস্ট্রেটদের নিয়ে যৌথ অভিযান পরিচালনা এবং ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে নিয়মিত বৈঠকের মাধ্যমে দ্রব্যমূল্য স্বাভাবিক রাখার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
পাশাপাশি ডিএমপি ট্রাফিক বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলো যানজটমুক্ত রাখা, অবৈধ পার্কিং উচ্ছেদ এবং ফুটপাত দখলমুক্ত করার মাধ্যমে মানুষের চলাচল সহজ করার পরিকল্পনাও রয়েছে তার তালিকায়।
ঈদের আগে ও পরের সময়ের জন্য ইশরাক হোসেন প্রাধান্য স্তর-২ নামে আরও একটি পরিকল্পনা সাজিয়েছেন। এই পর্যায়ে প্রতিটি ওয়ার্ডের সড়ক সংস্কার, ড্রেনেজ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে।
আন্ডারগ্রাউন্ড ড্রেনগুলো ক্যামেরার মাধ্যমে পরীক্ষা করে ময়লা অপসারণ এবং এলাকা পরিষ্কার রাখতে নিয়মিত পানি ছিটানোর কার্যক্রম চালু করা হবে। ওয়াসা ও তিতাস গ্যাসের মতো সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সার্বক্ষণিক সমন্বয় করে ঢাকা-৬ আসনকে একটি আধুনিক ও বাসযোগ্য এলাকা হিসেবে গড়ে তোলাই তার মূল লক্ষ্য।
আরটিভি/এআর