রোববার, ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ , ০৫:৪০ পিএম
বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যকার দীর্ঘদিনের ভ্রাতৃত্বপূর্ণ ও কৌশলগত সম্পর্ক এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। ২০২৫ সালে বাংলাদেশিদের জন্য সাড়ে সাত লাখ কাজের ভিসাসহ সর্বমোট ১৪ লাখ ভিসা ইস্যু করে এক অনন্য রেকর্ড গড়েছে সৌদি সরকার।
রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সঙ্গে তার কার্যালয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে ঢাকায় নিযুক্ত সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত ড. আবদুল্লাহ জাফর এইচ বিন আবিয়া এই তথ্য জানান।
সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রদূত দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও সুসংহত করার দৃঢ় প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান রাষ্ট্রদূতকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানিয়ে সৌদি আরবকে বাংলাদেশের ইতিহাসের অন্যতম বিশ্বস্ত ও দীর্ঘদিনের অকৃত্রিম অংশীদার হিসেবে অভিহিত করেন।
তিনি শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন, ১৯৭৬ সালে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময়কালেই সৌদি আরবে বাংলাদেশ দূতাবাস প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়েছিল। রাষ্ট্রপতি জিয়া ১৯৭৭ সালে সৌদি আরবে একটি ঐতিহাসিক সফর করেছিলেন, যা মুসলিম উম্মাহর ঐক্য ও দুই দেশের ভ্রাতৃত্ব বৃদ্ধিতে অনবদ্য ভূমিকা রেখেছিল। রাষ্ট্রদূতও জিয়াউর রহমানের ঐতিহাসিক অবদানের কথা গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্বীকার করেন।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বজুড়ে শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় সৌদি আরবের বলিষ্ঠ নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বিশেষ করে সৌদি আরবে বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশি শ্রমিকের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করায় কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, উভয় দেশের ভূ-কৌশলগত অবস্থানকে কাজে লাগিয়ে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জ্বালানি এবং অন্যান্য জরুরি খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধির ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। সৌদি আরবের উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় বাংলাদেশের দক্ষ ও আধা-দক্ষ কর্মীরা গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে কাজ করছে এবং ভবিষ্যতে এই ধারা আরও ত্বরান্বিত হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে সৌদি আরবের ঐতিহাসিক ভূমিকার কথা উল্লেখ করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের বিশেষ অনুরোধে ১৯৭৯ সালে প্রায় দুই লাখ রোহিঙ্গার প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় সৌদি আরব ব্যাপক সহায়তা করেছিল। বর্তমানে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গার জন্য সৌদি আরবের নিরবচ্ছিন্ন মানবিক সহায়তার প্রশংসা করে তিনি মিয়ানমারে তাদের দ্রুত ও টেকসই প্রত্যাবাসনের জন্য সৌদি সরকারের সক্রিয় সমর্থন কামনা করেন।
জবাবে রাষ্ট্রদূত বর্তমান সরকারের প্রতি পূর্ণ সমর্থন জ্ঞাপন করে বলেন, সৌদি আরব বাংলাদেশের সাথে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে একটি পূর্ণাঙ্গ ও বিস্তৃত অংশীদারিত্বের দিকে এগিয়ে নিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
আরটিভি/এআর