images

জাতীয় / শিল্প-সাহিত্য

বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হচ্ছে অমর একুশে বইমেলা

বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ , ০৭:৪২ পিএম

বাঙালির প্রাণের উৎসব ‘অমর একুশে বইমেলা ২০২৬’ বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হতে যাচ্ছে। এবারের মেলার মূল প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘বহুমাত্রিক বাংলাদেশ’। 

আগামীকাল বৃহস্পতিবার বেলা ২টায় বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এই জ্ঞান ও সৃজনশীলতার মহোৎসবের শুভ উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এসময় উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার ২০২৫ প্রদান করবেন তিনি।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাংলা একাডেমির সভাপতি অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হকের সভাপতিত্বে স্বাগত বক্তৃতা করবেন একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন সংস্কৃতি মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী এবং সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম। 

এছাড়াও শুভেচ্ছা বক্তৃতা করবেন সংস্কৃতি সচিব মো. মফিদুর রহমান এবং বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতির সভাপতি মো. রেজাউল করিম বাদশা। এবারের মেলা আগামী ১৫ মার্চ পর্যন্ত ছুটির দিন ব্যতীত প্রতিদিন বেলা ২টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত উন্মুক্ত থাকবে। তবে রাত সাড়ে ৮টার পর নতুন করে কোনো দর্শনার্থী মেলা প্রাঙ্গণে প্রবেশ করতে পারবেন না। ছুটির দিনে মেলা চলবে বেলা ১১টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত।

এবারের বইমেলায় মোট ৫৪৯টি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করছে। এর মধ্যে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে ৮১টি এবং সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশে ৪৬৮টি প্রতিষ্ঠানকে স্টল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে মোট ইউনিটের সংখ্যা ১ হাজার ১৮টি। 

বরাবরের মতো এবারও পাঠক ও দর্শনার্থীদের জন্য বই কেনায় ২৫ শতাংশ কমিশন নিশ্চিত করা হয়েছে। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের লিটল ম্যাগাজিন চত্বরে ৮৭টি লিটলম্যাগকে জায়গা দেওয়া হয়েছে। মেট্রোরেল স্টেশনের অবস্থানের কারণে এবার বাহির-পথ কিছুটা পরিবর্তন করে মন্দির-গেটের কাছাকাছি নেওয়া হয়েছে। এছাড়া টিএসসি, দোয়েল চত্বর এবং ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউশন সংলগ্ন মোট চারটি প্রবেশ ও বাহির-পথ থাকবে।

আরও পড়ুন
EC0

বগুড়া-৬ ও শেরপুর-৩ আসনে উপনির্বাচন ঘিরে ইসির বিশেষ আদেশ

এবারের মেলার অন্যতম বিশেষত্ব হলো ‘জিরো ওয়েস্ট বইমেলা’ ও পরিবেশবান্ধব আয়োজন। মেলা প্রাঙ্গণকে সম্পূর্ণ পলিথিন ও ধূমপানমুক্ত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আয়োজক পক্ষ থেকে সব স্টল ও খাবারের দোকানগুলোতে পাট, কাপড় ও কাগজের মতো পুনঃব্যবহারযোগ্য উপকরণ ব্যবহারের জন্য সচেতন করা হয়েছে। ধুলোবালি নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত পানি ছিটানো এবং মশক নিধনের বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এছাড়া রমজান মাসের পবিত্রতা রক্ষায় সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশে মুসল্লিদের জন্য সুরা তারাবি ও নামাজের বিশেষ সুব্যবস্থা, ওয়াশরুম এবং প্রয়োজনীয় পরিষেবা নিশ্চিত করা হয়েছে।

শিশুদের জন্য মেলায় রাখা হয়েছে বিশেষ ‘শিশুচত্বর’, যেখানে ৬৩টি প্রতিষ্ঠান অংশ নিচ্ছে। প্রতি শুক্র ও শনিবার বেলা ১১টা থেকে ১টা পর্যন্ত থাকবে ‘শিশুপ্রহর’, যা শিশুদের বই পড়ার প্রতি আগ্রহী করে তুলবে। প্রতিদিন বিকেলে মূল মঞ্চে সেমিনার ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন থাকবে। 

মেলার নিরাপত্তায় পুলিশ, র‍্যাব ও আনসারের পাশাপাশি পর্যাপ্ত ক্লোজসার্কিট ক্যামেরার মাধ্যমে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে। গুণগত মান বিচারে সেরা বই ও স্টল সজ্জার জন্য বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে পুরস্কারের পাশাপাশি এবার নতুন করে ‘সরদার জয়েনউদ্দীন স্মৃতি পুরস্কার’ প্রবর্তন করা হয়েছে।

আরটিভি/এআর