images

জাতীয়

পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে ফোন করলেন মধ্যপ্রাচ্যের তিন মন্ত্রী, দিলেন যে বার্তা

সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬ , ০৯:৫৪ পিএম

ইরানের সঙ্গে ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের সংঘাত ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধাবস্থার ম‌ধ্যে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানকে ফোন করেছেন কুয়েত ও বাহরাইনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও কাতারের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। 

সোমবার (২ মার্চ) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এ তথ্য জানান খোদ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান।

সাংবাদিকদেরকে তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান পরিস্থিতিতে আমাকে কুয়েত ও বাহরাইনের পররাষ্ট্র মন্ত্রী ও কাতারের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী টেলিফোন করেছেন। তাদের সঙ্গে আমার প্রবাসী বাংলাদেশিদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তারা আমাদের প্রবাসীদের নিরাপত্তার আশ্বাস দিয়েছেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, আমরা আশা করি, আর কেউ নিহত আহত হবেন না। যারা আটকে পড়েছেন, বিমান চলাচল শুরু হলে দ্রুততম সময়ের মধ‍্যে তাদের ফিরিয়ে আনা হবে। যুদ্ধ কোনো সমাধান, এটা বাংলাদেশ মনে করে না।

আরও পড়ুন
paul-kapoor

তিনদিনের সফরে ঢাকায় আসছেন যুক্তরাষ্ট্রের সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী

প্রসঙ্গত, পারমাণবিক কর্মসূচি বিষয়ক আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর গত শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) ইরানের ওপর একযোগে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। এই হামলায় মারা যান ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি। হামলায় পুরোপুরি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয় খামেনির প্রাসাদ। ওইদিন খামেনি ছাড়াও নিহত হন তার মেয়ে, নাতি, পুত্রবধূ এবং জামাই।

এদিকে খামেনির মৃত্যু হলেও ইরানে নিজের মিশন শেষ হয়নি বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একইসঙ্গে সম্পূর্ণ লক্ষ্য অর্জন না হওয়া পর্যন্ত ইসরায়েলের সঙ্গে মিলে ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের এ যৌথ হামলা চলতে থাকবে বলেও বার্তা দিয়েছেন তিনি।

সে ধারাবাহিকতায় এখনও ইরানে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল, আর এসব হামলায় কমপক্ষে ৫৫৫ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে ইরানের রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি। সেই সঙ্গে ১৩১টি ইরানি কাউন্টি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

তবে, একেবারে কোণঠাসা হয়ে পড়েনি ইরান। সমানতালে জবাব দিয়ে যাচ্ছে তারাও। সর্বশক্তি দিয়ে খামেনি হত্যার প্রতিশোধ নেওয়া হবে ঘোষণা করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। রোববার (১ মার্চ) ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক ভাষণে তিনি বলেন, এই হত্যাকাণ্ডের প্রতিশোধ নেওয়া ইসলামি প্রজাতন্ত্রের জন্য এখন একটি বৈধ অধিকার এবং পবিত্র দায়িত্ব। এই অপরাধের জবাব দিতে ইরান তার কাছে থাকা সব ধরণের শক্তি ও সামর্থ্য নিয়োগ করবে।

সে অনুযায়ী, ইসরায়েলের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিগুলোতে একের পর এক হামলা করে যাচ্ছে দেশটি। এরই মধ্যে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ঘটনায় সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইনে দুই বাংলাদেশি নাগরিক নিহত হয়েছেন। এছাড়া, বাহরাইন ও কাতারে মোট ৭ জন বাংলাদেশি আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

আরটিভি/এসএইচএম