মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬ , ১১:৩৯ এএম
বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতি (কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটি) প্রধানমন্ত্রী বরাবর দ্রুত নতুন জাতীয় পে স্কেল ঘোষণা ও গেজেট প্রকাশের জন্য স্মারকলিপি দিয়েছে।
স্মারকলিপিতে পাঁচটি মূল যুক্তি তুলে ধরা হয়েছে। সোমবার(২ মার্চ) সমিতির আহ্বায়ক আবদুল মালেক ও সদস্য সচিব আশিকুল ইসলামসহ ৮ সদস্যের প্রতিনিধি দল প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ে এ স্মারকলিপি জমা দেন।
স্মারকলিপিতে বলা হয়েছে, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা রাষ্ট্র পরিচালনার গুরুত্বপূর্ণ খাতে নিষ্ঠা, সততা ও দায়িত্বশীলতার সাথে কাজ করে দেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রা এগিয়ে নিচ্ছেন। প্রশাসন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, আইন-শৃঙ্খলা ও অবকাঠামো উন্নয়নসহ সকল সেবামূলক ক্ষেত্রে তারা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।
তবে, উল্লেখ করা হয়েছে যে, ২০১৫ সালে অষ্টম জাতীয় বেতন কাঠামো ঘোষণার পর প্রায় ১১ বছর অতিক্রান্ত হলেও নবম পে-স্কেল ঘোষণা করা হয়নি। এই দীর্ঘ সময়ে দেশের অর্থনৈতিক বাস্তবতা, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি এবং জীবনযাত্রার ব্যয় ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
ফলে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বর্তমান বেতন কাঠামোর মধ্যে জীবনযাপন করতে গিয়ে চরম আর্থিক সংকটে পড়ছেন। বর্তমানে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য, বাসাভাড়া, বিদ্যুৎ, গ্যাস, শিক্ষা ও চিকিৎসার খরচ অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে, কিন্তু বেতন কাঠামোতে কোনো মৌলিক পরিবর্তন হয়নি। এতে তাদের জীবনমান দিন দিন অবনতির দিকে যাচ্ছে।
নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নের পক্ষে তাদের যুক্তিসমূহ হলো-
১. দীর্ঘ সময় বেতন কাঠামো অপরিবর্তিত সাধারণত প্রতি ৫ বছর পর পর নতুন পে-স্কেল ঘোষণা করার প্রচলন থাকলেও প্রায় এক দশকের বেশি সময় ধরে নতুন পে-স্কেল ঘোষণা হয়নি। এতে সরকারি চাকরিজীবীদের ন্যায্য অধিকার ক্ষুণ্ন হয়েছে।
২. দ্রব্যমূল্যের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি ২০১৫ সালের তুলনায় বর্তমানে খাদ্যদ্রব্য, পরিবহন, বাসাভাড়া, চিকিৎসা ও শিক্ষা খাতে ব্যয় বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। অথচ সেই তুলনায় সরকারি কর্মচারীদের বেতন কাঠামো অপরিবর্তিত রয়েছে।
৩. সরকারি চাকরির মর্যাদা ও আকর্ষণ কমে যাওয়া বর্তমান বেতন কাঠামো বাস্তব জীবনের ব্যয়ের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ না হওয়ায় অনেক ক্ষেত্রে সরকারি চাকরির প্রতি আগ্রহ কমে যাচ্ছে এবং কর্মচারীদের মনোবলেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
৪. প্রশাসনিক কার্যকারিতা বৃদ্ধি যদি সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ন্যায্য বেতন নিশ্চিত করা হয়, তাহলে তাদের কর্মস্পৃহা ও দায়িত্ববোধ আরও বৃদ্ধি পাবে, যা রাষ্ট্রীয় সেবার মান উন্নত করতে সহায়ক হবে।
৫. সামাজিক নিরাপত্তা ও জীবনমান উন্নয়ন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা দেশের উন্নয়নের অন্যতম চালিকাশক্তি। তাদের জীবনমান উন্নত হলে তা রাষ্ট্রের সামগ্রিক উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
আরটিভি/এসকে