বুধবার, ০৪ মার্চ ২০২৬ , ০৬:৫৫ পিএম
চাঁদাবাজ ও অস্ত্রধারী দাগি আসামিদের বিরুদ্ধে ঢাকাসহ সারাদেশে সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করা হবে বলে ঘোষণা করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
বুধবার (৪ মার্চ) বেলা ১১টায় ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এ ঘোষণা দেন তিনি।
ঢাকা থেকে এই সাঁড়াশি অভিযান শুরু হবে উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সারাদেশেই চাঁদাবাজ ও অস্ত্রধারী, দাগি আসামিদের তালিকা করা হচ্ছে। নির্মোহ তালিকা করে অভিযান পরিচালনা করে তাদের আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে।
এরপর জনগণের উদ্দেশে তিনি বলেন, আমরা প্রত্যাশা করি দেশের সব জনগণ সহযোগিতা করবেন। আমরা জনগণকে আশ্বস্ত করতে চাই, দেশের শান্তিশৃঙ্খলা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিশ্চিত করা হবে। আশা করি আমরা খুব শিগগিরই পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করতে পারি।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, আমি আজকে ডিএমপি হেডকোয়ার্টার পরিদর্শনে এসেছিলাম। ডিএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, এডিশনাল কমিশনার, যুগ্ম কমিশনার, ডিসি, এডিসি এবং ৫০ থানার ওসিদের সবার সঙ্গে কথা বলেছি। তাদের সমস্যা শুনেছি এবং আমাদের যে ইনস্ট্রাকশন সেগুলো আমরা জানিয়েছি।
তিনি বলেন, আমাদের মূল উদ্দেশ্য ও বর্তমান সরকারের প্রধানতম অগ্রাধিকার হচ্ছে আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নত করা এবং জনগণে স্বস্তি প্রদান করা এবং দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা। সেজন্য পুলিশের ভূমিকা অগ্রগণ্য। আমরা সবাই জানি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যেহেতু বাংলাদেশ বিগত সময়ে একটা ফ্যাসিস্ট সরকার ব্যবস্থার মধ্যে ছিল। সেই সময় অন্যান্য সব প্রতিষ্ঠানের মতো পুলিশের এই প্রতিষ্ঠানটিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেই জায়গা থেকে আমরা ক্রমান্বয়ে আজকের এই পর্যায়ে এসেছি। জনমনে যাতে আস্থাটা আমরা সৃষ্টি করতে পারি।
তিনি বলেন, পুলিশের যে ঐতিহাসিক ভূমিকা ছিল, সেই ভূমিকায় আমরা আবার অবতীর্ণ হয়েছি এবং মানুষ যাতে মনে করে পুলিশ সত্যিকারভাবে জনগণের বন্ধু এবং সেই হিসেবে আমরা পুলিশ ফোর্সকে পরিচালিত করবো। আমি সবার মধ্যে তাদের বডি ল্যাঙ্গুয়েজ দেখতে পেয়েছি তারা সবাই সংকল্পবদ্ধ। দেশ ও জাতির কল্যাণে তারা যে কোনো ত্যাগ স্বীকার করতে প্রস্তুত এবং তাদের প্রতিষ্ঠান হিসেবে তাদের কপালে যে অতীতে কালিমা লেপন করে দেওয়া হয়েছিল সেজন্য তারা নিজেরা দায়ী নয়। একটা ফ্যাসিবাদী রেজিমের কারণে কিছু সংখ্যক লোক সেই কর্মকাণ্ড চালিয়েছে। যার দোষটা প্রতিষ্ঠান হিসেবে এই প্রতিষ্ঠানের উপরে এসে পড়েছে। সেজন্য প্রতিষ্ঠান দায়ী নয়।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, এই পুলিশ প্রতিষ্ঠানকে আমাদের এমনভাবে দাঁড় করাতে হবে যাতে প্রাতিষ্ঠানিক সিস্টেমে সবাই কাজ করে, এখানে যেন কোনো ব্যক্তি সিস্টেম গড়ে না ওঠে। রুল অব ল’ আমরা প্রতিষ্ঠা করবো এবং পুলিশ আইনানুগভাবেই চলবে। এখানে কোনো ব্যক্তির স্বৈরতান্ত্রিক কোনো নির্দেশ পালিত হবে না। আইন যেভাবে বলে সেভাবেই যাবে এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সেভাবে দায়িত্ব ও জবাবদিহিতার সঙ্গে স্ব স্ব বিভাগ পরিচালিত করবে। তারা সেই সংকল্প আজকে প্রকাশ করেছে। আমি তাদের জনগণের পক্ষে বর্তমান সরকারের যে আইন শাসন প্রতিষ্ঠার বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি সেগুলো স্মরণ করে দিয়েছি। তাদের কাছে আমি আশা করি, তারা জনগণের পক্ষে দেশের পক্ষে সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করে তাদের কাজ চালিয়ে যাবে।
মতবিনিময় সভায় পুলিশের বিভিন্ন সমস্যার কথা শোনেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। এ ব্যাপারে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আজকে দুইটা বিষয়েই আমি অনুশাসন দিয়েছি। আমরা খুব শিগগিরই দেশব্যাপী বিশেষ করে ঢাকা থেকে আমরা অভিযান শুরু করবো। আমরা চাঁদাবাজদের তালিকা প্রস্তুত করে তাদের আইনে আওতায় নিয়ে আসার ব্যবস্থা করবো, খুব শিগগিরই। দ্বিতীয়ত যারা অস্ত্রধারী, সন্ত্রাসী, দাগী আসামি। যারা সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে তাদের একটি তালিকা প্রণয়ন করা হচ্ছে। সেটা নির্মোহভাবে তালিকা প্রণয়ন করা হচ্ছে। আনবায়াস্ট তালিকা স্ক্রুটিনি (খুঁটিনাটি বা বিস্তারিত পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা) করে তাদের আইনের আওতায় নিয়ে আসার ব্যবস্থা করবো। এই দুইটা বিষয় আমরা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নিয়েছি। আশা করি এদেশের সব জনগণ আপনারা সবাই সেটাতে আমরা সহযোগিতা দেবেন এবং সহযোগিতা পাবো। আমরা সেই দিকেই যাচ্ছি।
আরটিভি/এসএইচএম