বৃহস্পতিবার, ০৫ মার্চ ২০২৬ , ০৭:০৬ পিএম
জাতীয় পর্যায়ে গৌরবোজ্জ্বল ও কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ এ বছর ২০ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে ‘স্বাধীনতা পুরস্কার ২০২৬’ প্রদানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (কমিটি ও অর্থনৈতিক) হুমায়ুন কবিরের সই করা এক প্রজ্ঞাপনে এই তালিকা প্রকাশ করা হয়। এবারের পুরস্কারের তালিকায় সবচেয়ে আলোচিত নামগুলোর মধ্যে রয়েছে উত্তরা মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় প্রাণ হারানো বীর শিক্ষিকা মাহেরীন চৌধুরী এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। উভয়েই মরণোত্তর এই সম্মাননায় ভূষিত হচ্ছেন।
২০২৫ সালের জুলাই মাসে উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে ক্লাস চলাকালীন একটি প্রশিক্ষণ বিমান ভবনে আছড়ে পড়লে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের সৃষ্টি হয়। সেই বিভীষিকাময় মুহূর্তে নিজের জীবনের তোয়াক্কা না করে শিশু শিক্ষার্থীদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে গিয়ে অগ্নিদগ্ধ হন শিক্ষিকা মাহেরীন চৌধুরী। ওই রাতেই জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার বগুলাগাড়ি চৌধুরীপাড়ার এই কৃতি সন্তানকে তার অসামান্য ত্যাগের জন্য সমাজসেবা বা জনসেবা ক্ষেত্রে এই সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মাননা দেওয়া হচ্ছে।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, এ বছর ১৫ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি এবং ৫টি প্রতিষ্ঠানকে বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের জন্য মনোনীত করা হয়েছে। স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র রক্ষাসহ দেশগঠনে অসামান্য অবদানের জন্য সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে মরণোত্তর সম্মাননা প্রদান করা হচ্ছে। এছাড়া মুক্তিযুদ্ধ ক্ষেত্রে অসামান্য বীরত্বের জন্য মরণোত্তর সম্মাননা পাচ্ছেন মেজর মোহাম্মদ আবুল জলিল এবং প্রতিষ্ঠান হিসেবে ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজ।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি খাতে অধ্যাপক ড. জহুরুল করিম এবং চিকিৎসাবিদ্যায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালকে এই পুরস্কারের জন্য মনোনীত করা হয়েছে। সংস্কৃতি অঙ্গনে জনপ্রিয় উপস্থাপক ও নির্মাতা এ কে এম হানিফ (হানিফ সংকেত) এবং মরণোত্তর সম্মাননায় কণ্ঠশিল্পী বশির আহমেদকে নির্বাচিত করা হয়েছে। সাহিত্যে ড. আশরাফ সিদ্দিকী (মরণোত্তর) এবং ক্রীড়া ক্ষেত্রে কিংবদন্তি টেবিল টেনিস খেলোয়াড় জোবেরা রহমান লিনু পাচ্ছেন এই পদক।
সমাজসেবা ও জনসেবা ক্ষেত্রে মাহেরীন চৌধুরীর পাশাপাশি আরও বেশ কয়েকজন বিশিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে সম্মাননা জানানো হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছেন ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী (মরণোত্তর), মো. সাইদুল হক, এস ও এস চিলড্রেন ভিলেজ ইন্টারন্যাশনাল ইন বাংলাদেশ এবং গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র। গবেষণা ও প্রশিক্ষণে অবদানের জন্য মোহাম্মদ আবদুল বাকী (পিএইচডি), অধ্যাপক ড. এম এ রহিম এবং অধ্যাপক ড. সুকোমল বড়ুয়াকে মনোনীত করা হয়েছে।
এছাড়া জনপ্রশাসনে কাজী ফজলুর রহমান (মরণোত্তর), পল্লী উন্নয়নে পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ) এবং পরিবেশ সংরক্ষণে মুকিত মজুমদার বাবু এই রাষ্ট্রীয় পদক পেতে যাচ্ছেন।
স্বাধীনতা পুরস্কার বাংলাদেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক রাষ্ট্রীয় সম্মাননা। প্রতিবছর ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে এই পদক তুলে দেওয়া হয়। পুরস্কারপ্রাপ্তদের সাধারণত একটি স্বর্ণপদক, একটি সম্মাননা সনদ এবং নগদ অর্থ প্রদান করা হয়।
আরটিভি/এআর