images

জাতীয়

প্রধানমন্ত্রীর প্রথম সংসদ অধিবেশন, বিরোধীদলীয় নেতাসহ ২২৫ এমপি নতুন

বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬ , ০১:২০ পিএম

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন চলছে। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) সকাল ১১টা ৫ মিনিটে শুরু হওয়া এ অধিবেশন অনেক দিক দিয়েই ব্যতিক্রমী। 

সাধারণত নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হয় বিদায়ী সংসদের স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকারের সভাপতিত্বে। নতুন স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন হয় তার সভাপতিত্বে। তবে এবার এর ব্যতিক্রম হয়েছে। দ্বাদশ সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে পদত্যাগ করার পর তাকে প্রকাশ্যে দেখা যায়নি। হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে বিদায়ী ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক (টুকু) কারাগারে। এমন পরিস্থিতিতে সংসদ কক্ষে স্পিকারের আসনটি ফাঁকা রেখেই শুরু হয় অধিবেশন।

নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জন্য এই অধিবেশন প্রথম অভিজ্ঞতা। সংসদ নেতা হিসেবে প্রথমবারের মতো জাতীয় সংসদে পা রেখেছেন তিনি।

অধিবেশনে শুধু প্রধানমন্ত্রীরই নয়, বিরোধী দল জামায়াতের আমির শফিকুর রহমানসহ ২২৫ জন এমপিই নতুন। প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের পরিবারের দ্বিতীয় প্রজন্মের সরকারপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব নেওয়া তারেক রহমানের জন্য এটি বিশেষ ঘটনা। এর আগে, তার মা খালেদা জিয়া ১৯৯১ সালে প্রথমবার এমপি হয়ে প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন।

তারেক রহমান ১৯৬৫ সালের ২০ নভেম্বর জন্মগ্রহণ করেন। নব্বইয়ের দশকে তার মা খালেদা জিয়ার সঙ্গে রাজপথের আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন। ১৯৮৮ সালে বগুড়ার গাবতলী উপজেলা ইউনিট থেকে সাধারণ সদস্য হিসেবে বিএনপিতে যোগ দেন। তিনি তৃণমূল থেকে জনগণকে সংগঠিত করেন এবং এরশাদ সরকারের পতনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। সেই সময়ে নির্বাচনী কৌশল নির্ধারণ, প্রার্থী মনোনয়ন এবং নতুন সরকারের মন্ত্রিসভা গঠনে তারেক রহমান নেপথ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ২০০১ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত বিএনপির নেতৃত্বাধীন সরকারের সময় তিনি ইউনিয়ন পর্যায়ে দলকে সংগঠিত করতে সম্মেলন আয়োজন করেন। ২০০২ সালে তার সাংগঠনিক অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ স্থায়ী কমিটি তাকে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক পদে মনোনীত করে।

২০০৭ সালে নবম সংসদের তফসিল ঘোষণা হলে তিনি বগুড়ার একটি আসন থেকে প্রার্থী হয়ে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয়ী হন। তবে, সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কারণে নির্বাচন বাতিল হয়। দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়ে ১৮ মাস কারাগারে থাকার পর ২০০৮ সালে মুক্তি পেয়ে লন্ডনে চলে যান। ২০০৯ সালে লন্ডনে দলের কাউন্সিলে সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে বিএনপির পুনর্গঠনে সক্রিয় ভূমিকা নেন।

দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসনের পর গত ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফিরে তিনি সংসদীয় ও দলীয় দায়িত্ব পালন শুরু করেছেন। অধিবেশন তারেক রহমানের জন্য শুধু সরকারি দায়িত্বেরই নয়, নতুন নেতৃত্ব এবং সংসদীয় কার্যক্রমে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হিসেবে বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে।

আরটিভি/এসএইচএম