বুধবার, ২৫ মার্চ ২০২৬ , ০৫:২১ পিএম
ছাত্র-জনতার আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে তৈরি ‘জুলাই সুরক্ষা’ সংক্রান্ত চারটি অধ্যাদেশ নিয়ে বিশেষ কমিটির সব সদস্য একমত পোষণ করেছেন এবং এগুলো হুবহু সংসদে উপস্থাপন করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ।
বুধবার (২৫ মার্চ) বিশেষ কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এই তথ্য জানান তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে জারি হওয়া ১৩৩টি অধ্যাদেশ পর্যালোচনার কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে ররেছে। কমিটির বৈঠকে ১৩৩টি অধ্যাদেশকে তিনটি ভাগে ভাগ করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। প্রথমত, কিছু অধ্যাদেশ বর্তমান রূপেই সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বিল আকারে এনে পাস করবে। দ্বিতীয়ত, প্রয়োজনীয় সংশোধনীসহ বিল উত্থাপন করা হবে। আর তৃতীয়ত, যেসব বিষয়ে একমত হওয়া যাবে না, সেগুলো এই অধিবেশনে ‘ল্যাপস’ বা বাতিল হয়ে যাবে; যা প্রয়োজনে পরবর্তী অধিবেশনে নতুন বিল হিসেবে আসবে।
অধ্যাদেশ পর্যালোচনার ক্ষেত্রে ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ এবং ‘সাংবিধানিকতা’– এই দুই বিষয়কে মূল ভিত্তি হিসেবে ধরা হচ্ছে বলে জানান মন্ত্রী। সালাউদ্দিন আহমেদ বলেন, “আমরা জুলাই জাতীয় সনদকে এখানে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিচ্ছি। সাংবিধানিকতা রক্ষা এবং জনপ্রত্যাশা অনুযায়ী প্রতিটি বিল অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা হচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, সংসদীয় নিয়ম অনুযায়ী নতুন বিল পাসের আগে পুরনো অধ্যাদেশগুলো অনুমোদন করিয়ে নেওয়া জরুরি, যাতে ভবিষ্যতে কোনো আইনি জটিলতা তৈরি না হয়।
বৈঠকে অধিকাংশ অধ্যাদেশ নিয়ে আলোচনা শেষ হলেও দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) আইন এবং মানবাধিকার কমিশন আইনসহ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আরও বিশদ পর্যালোচনার প্রয়োজন রয়েছে। এসব বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে আগামী ২৯ মার্চ রাত ৮টা ৩০ মিনিটে পরবর্তী সভার সময় নির্ধারণ করা হয়েছে।
‘জুলাই সুরক্ষা’ সংক্রান্ত অধ্যাদেশগুলোর বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, এটি গত বৈঠকেই সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়েছে। জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারীদের আইনি ও সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এই বিশেষ অধ্যাদেশগুলো জারি করা হয়েছিল। বিশেষ কমিটির সব সদস্য একমত হওয়ায় এতে কোনো সংশোধনীর প্রয়োজন পড়ছে না।
আরটিভি/এআর