রোববার, ২৯ মার্চ ২০২৬ , ০৬:৫০ পিএম
বর্তমান সরকার দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। এজন্য পুলিশসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হারানো ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধার ও সক্ষমতা বাড়াতে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে সরকার। এরই অংশ হিসেবে পুলিশের সংস্কার ও সক্ষমতা বাড়াতে ফ্রান্সের সহযোগিতা চেয়েছেন মন্ত্রী।
রোববার (২৯ মার্চ) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে নিজ কার্যালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত জ্যঁ-মার্ক সেরে-শার্লের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে এ সহযোগিতা কামনা করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
সাক্ষাতের শুরুতে ফরাসি রাষ্ট্রদূতকে স্বাগত জানান মন্ত্রী। এ সময় নতুন পোর্টফোলিওতে দায়িত্ব গ্রহণের জন্য মন্ত্রীকে অভিনন্দন জ্ঞাপন করেন রাষ্ট্রদূত।
সাক্ষাৎকালে দুই দেশের মধ্যে আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা ইস্যু, মব নিয়ন্ত্রণ, সন্ত্রাসবাদ দমন, পুলিশের সংস্কার ও সক্ষমতা বৃদ্ধি, র্যাবের সংস্কার ও পুনর্গঠন, ফরেনসিক খাতে সহযোগিতা, পারস্পরিক আইনগত সহায়তা চুক্তি এবং সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র শনাক্ত করাসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমরা পুলিশ সংস্কারে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে কাজ করছি। তবে এই উন্নয়ন রাতারাতি সম্ভব নয়, আমরা ধারাবাহিক বা পর্যায়ক্রমিক উন্নয়নের মাধ্যমে একটি জনবান্ধব পুলিশ বাহিনী গড়ে তুলতে চাই।
তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার দুর্বল থাকায় তারা মব নিয়ন্ত্রণে সফল হতে পারেনি, তবে বর্তমান নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে দু-একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া তেমন কোনো মবের ঘটনা ঘটেনি। সরকার কোনো ধরনের মব বা বিশৃঙ্খলা প্রশ্রয় দিচ্ছে না। তবে, রাজনৈতিক দলগুলো নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি না করে সভা-সমাবেশ ও গণতান্ত্রিক মতপ্রকাশ করতে পারবে।
র্যাবের সংস্কার প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, যে কোনো রাষ্ট্রীয় কাঠামোতে একটি এলিট ফোর্সের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। র্যাবের নাম সংশোধন এবং বিদ্যমান জনবল ও লজিস্টিকসকে কাজে লাগিয়ে আইনি পর্যালোচনার মাধ্যমে এই ফোর্সটি কার্যকরভাবে রাখা হবে।
এ সময় ফরাসি রাষ্ট্রদূত বলেন, ফ্রান্স বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় উন্নীত করতে চায়। সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র শনাক্ত করে দুই দেশের সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
জ্যঁ-মার্ক সেরে-শার্লে আরও বলেন, ফ্রান্স এরই মধ্যে সিআইডির ফরেনসিক ল্যাবের সক্ষমতা বাড়াতে সহযোগিতার পদক্ষেপ নিয়েছে।
সাক্ষাৎকালে ‘অ্যান্টি রায়ট ট্রুপ’ এর (দাঙ্গা প্রতিরোধ পুলিশ) সক্ষমতা বাড়াতেও ফ্রান্সের কারিগরি সহযোগিতা কামনা করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। এ লক্ষ্যে পুলিশের অ্যান্টি টেরোরিজম ইউনিট (এটিইউ) এবং ডিএমপির কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (স্টিটিসি) ইউনিটকে ফ্রান্স দূতাবাসের সঙ্গে সভা করে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি।
এছাড়া ফ্রান্স দূতাবাস থেকে আইজিপি, বিজিবি, কোস্ট গার্ড ও আনসার মহাপরিচালকের সঙ্গে সাক্ষাতের যে অনুমতি চাওয়া হয়েছিল, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে তা অনুমোদন করে চিঠি ইস্যু করা হয়েছে বলেও রাষ্ট্রদূতকে অবহিত করেন মন্ত্রী।
বৈঠকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক-১ শাখার যুগ্মসচিব রেবেকা খান, ফ্রান্স দূতাবাসের ডেপুটি হোমল্যান্ড সিকিউরিটি অ্যাটাচে ক্রিস্টেল ফন্টেইন, পলিটিক্যাল কাউন্সেলর ক্রিশ্চিয়ান বেক প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
আরটিভি/এসএইচএম