images

জাতীয় / স্বাস্থ্য

কবে নাগাদ মিলতে পারে হামের টিকা, জানালেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী

সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬ , ০৩:৩৬ পিএম

দেশে উদ্বেগজনকহারে বাড়ছে হামের প্রকোপ। গত কয়েকদিনে বেশ কয়েকজন শিশু মারা গেছে হামের উপসর্গ নিয়ে। সমস্যাকে জটিল করে তুলেছে টিকার অপ্রাপ্তি। তবে, দ্রুত এই সংকট মোকাবিলার জন্য এরই মধ্যে বড় ধরনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার; বরাদ্দ দিয়েছে বিশাল অঙ্কের অর্থ। 

এ অবস্থায় সব ঠিকঠাক থাকলে এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহ থেকেই হামের টিকা সরবরাহ শুরু হতে পারে ইউনিসেফ থেকে। আর সেই টিকা এসে গেলে যত দ্রুত সম্ভব সরকারের পক্ষ থেকে শুরু হয়ে যাবে টিকাদান কার্যক্রম। 

সোমবার (৩০ মার্চ) সচিবালয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, হামের সংক্রমণ হঠাৎ বাড়লেও আমরা তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নিয়েছি। মহাখালীতে একটি শিশুর মৃত্যুর পর বন্ধ থাকা আইসিইউ ইউনিট মাত্র ১৮ ঘণ্টার মধ্যে চালু করা হয়েছে। রাজধানীসহ বিভিন্ন স্থানে শিশুদের জন্য আলাদা ওয়ার্ড, আইসোলেশন সুবিধা ও ভেন্টিলেটরের ব্যবস্থা করা হয়েছে। মানিকগঞ্জ ও রাজশাহীতেও নতুন ভেন্টিলেটর পাঠানো হয়েছে এবং আরও ২০টি ভেন্টিলেটর সংযোজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, পরিস্থিতি মোকাবিলায় জরুরি ভিত্তিতে আইসিইউ চালু, ভেন্টিলেটর সরবরাহ এবং বিশেষায়িত ওয়ার্ড প্রস্তুতের মাধ্যমে কাজ চলছে। একইসঙ্গে টিকা সংগ্রহ প্রক্রিয়াও দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। 

আরও পড়ুন
froud

ভুয়া নিয়োগপত্র নিয়ে বিএমইউতে যোগ দিতে গিয়ে ধরা ‘চিকিৎসক’

মন্ত্রী আরও বলেন, গত এক দশকে নিয়মিত টিকাদান কার্যক্রম থাকলেও ২০১৮ সালের পর আর বড় কোনো হামের টিকা ক্যাম্পেইন হয়নি। ফলে, যেসব শিশু টিকার আওতায় আসেনি বা পরে জন্ম নিয়েছে, তাদের মধ্যে সংক্রমণ বেশি দেখা যাচ্ছে। যারা টিকা পায়নি, তাদের মধ্যেই হামের প্রকোপ বেশি।

বিভিন্ন টিকা নেওয়ার জন্য সরকার ৬০৪ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ইতোমধ্যে টিকা ক্রয়ের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে এবং অর্থ আন্তর্জাতিক সংস্থা ইউনিসেফকে পরিশোধ করা হয়েছে। 

স্বাস্থ্যমন্ত্রী এসময় আশা প্রকাশ করেন, আগামী এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহ থেকে টিকা সরবরাহ শুরু হতে পারে।

সচেতন হওয়ার জন্য কোন বার্তা দিবেন কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন জনগণকে আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, আমরা পরিস্থিতি মোকাবেলা করছি। সবাইকে শান্ত থাকতে হবে এবং শিশুদের টিকা নিশ্চিত করতে হবে।

কবে থেকে টিকা কার্যক্রম চালু হবে এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, যত তাড়াতাড়ি সম্ভব আমাদের টিকা আসবে। আসার সাথে সাথে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব আমরা টিকা দেওয়ার ব্যবস্থা করব। জনগণকে আমরা আশ্বস্ত করতে চাই, আমাদের সকল চেষ্টা অব্যাহত থাকবে এবং এই মিজলসের আক্রমণের ভিতরে আমরা যে রেপিডলি ভেন্টিলেটর এবং আইসি ইউনিট এবং ওয়ার্ডের ব্যবস্থা করেছি অতীতে কোনদিন হয়নি।

এ সময় স্বাস্থ্য সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী বলেন, আমাদের এই টিকার যে পেমেন্টটা, এটা কিন্তু আমরা ইউনিসেফকে পেমেন্ট করে ফেলেছি, টাকাটা ইউনিসেফের কাছে আছে। এখন পারচেস কমিটির অনুমোদন পেয়ে গেলে আমরা তাদের শুধু অর্ডার দেব এবং আমাদের কাছে চলে আসবে, ইনশাল্লাহ। আশা করছি, এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহ থেকে আমরা টিকা নিতে থাকব। টিকা আসার সঙ্গে সঙ্গে দেশব্যাপী টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করা হবে।

টিকা কমিটি ছয় মাস থেকে পাঁচ বছর বয়সী শিশুদের অগ্রাধিকার দিয়ে বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলেও এ সময় জানানো হয়েছে।

আরটিভি/এসএইচএম