বৃহস্পতিবার, ০২ এপ্রিল ২০২৬ , ১১:৩৯ এএম
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়কল্পে সরকারি অফিসের সময়সূচি পরিবর্তন সংক্রান্ত একটি পরিপত্র সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। যেখানে ২ দিন হোম অফিসের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে পরিপত্রটিকে ভুয়া বলে জানিয়েছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) এক বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়কল্পে সরকারি অফিসের সময়সূচি পরিবর্তন ও সপ্তাহে ৩ দিন অফিস পরিচালনা প্রসঙ্গে গত ১ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে ০৫.০০.০০০০.১১০.২২.০৪৫.২৬.১২০ নম্বর স্মারকে একটি স্মারক পত্র সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ ধরনের কোনো পত্র জারি করা হয়নি। এ বিষয়ে কাউকে বিভ্রান্ত না হওয়ার অনুরোধ জানানো হয়।
ইরানের সঙ্গে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ পরিস্থিতিতে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে। তাই বাংলাদেশ সরকার জ্বালানি সাশ্রয়ের লক্ষ্যে সাপ্তাহিক ছুটি বাড়ানো, কর্মকর্তাদের জন্য ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ বা ঘরে বসে কাজ করার সুযোগ এবং অফিসের সময়সূচিতে পরিবর্তন আনার কথা ভাবছে।
মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের কর্মকর্তারা এ তথ্য জানান। কর্মকর্তারা জানান, জ্বালানি সাশ্রয়ে কমপক্ষে আটটি পদক্ষেপ আলোচনায় রয়েছে। এর মধ্যে সাপ্তাহিক ছুটিতে বাড়তি একদিন যোগ করা অথবা কর্মকর্তাদের সপ্তাহে দুদিন ঘরে বসে কাজ করার সুযোগ দেওয়া। এ ছাড়া অফিসের কাজ দ্রুত শুরু করা অথবা কাজের মোট সময় কমিয়ে আনার প্রস্তাবও রয়েছে।
কর্মকর্তারা আরও জানান, তবে এখন পর্যন্ত এ ব্যাপারে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। মন্ত্রিসভায় ঠিক করা হবে কোন পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করা হবে।
তবে তার আগেই বুধবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে হোম অফিস সংক্রান্ত একটি ভুয়া পত্র ছড়িয়ে পড়ে। যেখানে বলা হয়, আগামী ৫ এপ্রিল থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও সংবিধিবদ্ধ সংস্থাগুলোর কর্মচারীরা সপ্তাহের দুদিন ওয়ার্ক ফর্ম হোম বা বাড়ি থেকে কাজ করবেন। বাকি তিন দিন অফিস খোলা থাকবে। এই তিন দিন হলো রবি, সোম ও মঙ্গলবার। বুধ ও বৃহস্পতিবার কর্মচারীরা কাজ করবেন বাড়ি থেকে। সাপ্তাহিক ছুটি শুক্র ও শনিবার।
তাতে আরও বলা হয়েছে, যে তিন দিন সরকারি দফতর খোলা থাকবে সেই দিনগুলোতে সকাল ৮টায় অফিস শুরু হয়ে চলবে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। বাকি দুদিন দাফতরিক কাজ ডিজিটাল পদ্ধতিতে ঘরে বসে সম্পন্ন করতে হবে।
তবে জরুরি পরিষেবা দানকারী সংস্থাসমূহ (হাসপাতাল, ফায়ার সার্ভিস, বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানি সরবরাহ ইত্যাদি) এই নির্দেশনার আওতামুক্ত থাকবে এবং তাদের নিজস্ব বিধি মোতাবেক নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালনা করবে বলে ওই পত্রে জানানো হয়।
আরটিভি/এসআর