images

জাতীয়

দিল্লিতে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করবেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী

মঙ্গলবার, ০৭ এপ্রিল ২০২৬ , ০৫:৩৭ পিএম

আগামী ১০ থেকে ১২ এপ্রিল মরিশাসে অনুষ্ঠেয় ইন্ডিয়ান ওশান কনফারেন্সে যোগ দিতে যাওয়ার পথে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে অংশ নেবেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান।

মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) বিকেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এবং জনকূটনীতি অনুবিভাগের মহাপরিচালক এস. এম. মাহবুবুল আলম এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান দিল্লিতে যাত্রাবিরতিকালে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা এবং পেট্রোলিয়াম মন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

তিনি জানান, সম্মেলনে যোগ দিতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আজ ঢাকা ত্যাগ করবেন। ওই সম্মেলনে আঞ্চলিক সহযোগিতা ও সমুদ্র সংক্রান্ত বিষয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

মাহবুবুল আলম বলেন, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, আস্থা ও অভিন্ন স্বার্থের ভিত্তিতে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদারের লক্ষ্যেই এসব বৈঠক হবে। পাশাপাশি এতে দুদেশের মধ্যে বিদ্যমান সহযোগিতার ধারা ও স্থিতিশীলতার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।

মুখপাত্র আরও বলেন, এই সফরের মাধ্যমে বাংলাদেশ-ভারত সহযোগিতা আগামী বছরগুলোতে আরও ফলপ্রসূ ও টেকসই পর্যায়ে পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দিল্লি সফরে তার সফরসঙ্গী হিসেবে থাকবেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির। পরে তারা উভয়েই মরিশাস সম্মেলনে যোগ দেবেন। 

বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর বাংলাদেশি কোনো মন্ত্রীর এটিই প্রথম দিল্লি সফর।

সোমবার (৬ এপ্রিল) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, সফরটি একটি নতুন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে হতে হচ্ছে। ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতিকে প্রাধান্য দিয়ে ঢাকা, দিল্লির সঙ্গে পূর্বের টানাপোড়েন কাটিয়ে একটি পারস্পরিক লাভজনক ও সম্মানজনক পর্যায়ে সম্পর্ক নিয়ে যেতে চায়।

সফরে শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যা মামলায় অভিযুক্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং ফয়সাল করিম মাসুদসহ অন্যান্য আসামিদের প্রত্যর্পণের বিষয়ে পুনরায় অনুরোধ জানাবে বাংলাদেশ। 

আইনি সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দিয়ে ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা বলেন, এতে সময় লাগতে পারে, তবে আমরা দ্রুততম সময়ে তাদের দেশে ফেরত আনতে চাই।

আরও পড়ুন
Web-Image---Copy

পানিসম্পদ মন্ত্রীর সঙ্গে চীনের রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ

পাশাপাশি বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ভারতীয় ভিসা কার্যক্রম পুরোদমে চালুর বিষয়েও ভারতকে ইতিবাচক হওয়ার অনুরোধ জানাবে ঢাকা। বিশেষ করে চিকিৎসা পর্যটন বা মেডিকেল ট্যুরিজমের সুবিধার বিষয়টিও বৈঠকে তুলে ধরা হবে।

আলোচনায় সীমান্ত ব্যবস্থাপনা বিশেষ গুরুত্ব পাবে। সীমান্তে কোনো প্রাণহানি দেখতে চায় না ঢাকা-এ কথা উল্লেখ করে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সমন্বয় বাড়ানোর আহ্বান জানানো হবে।

জ্বালানি খাতে সহযোগিতা, সীমান্ত দিয়ে বিদ্যুৎ বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহসহ যোগাযোগ ও অর্থনৈতিক সংহতি জোরদার করার বিষয়েও আলোচনা হতে পারে।

দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত তিস্তা চুক্তিসহ অভিন্ন নদ-নদীর পানি বণ্টন ইস্যুটি প্রধান আলোচ্য বিষয় হিসেবে উত্থাপিত হবে। এছাড়া এ বছরের শেষে গঙ্গা পানি চুক্তির মেয়াদ শেষ হতে যাচ্ছে। তাই চুক্তির নবায়নের বিষয়টিও আলোচনায় আসার সম্ভাবনা রয়েছে।

বাণিজ্য সহজীকরণ, অশুল্ক বাধা দূর করা এবং লজিস্টিক যোগাযোগ উন্নতির বিষয়গুলোও বৈঠকের আলোচ্যসূচিতে রয়েছে। উভয় দেশই এখন তাদের বৃহত্তর অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে চায়।

আরটিভি/এমএইচজে