images

জাতীয়

আগামী দুই মাসে পেট্রোল-অকটেনের কোনো সংকট হবে না: জ্বালানি বিভাগ

বৃহস্পতিবার, ০৯ এপ্রিল ২০২৬ , ০৭:১০ পিএম

দেশে আগামী দুই মাসে পেট্রোল ও অকটেনের কোনো সংকট হবে না বলে জানিয়েছেন জ্বালানি বিভাগের যুগ্ম সচিব মনির হোসেন চৌধুরী।

বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সচিবালয়ে জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান তিনি। 

মনির হোসেন চৌধুরী বলেন, বর্তমানে দেশে কোনো ধরনের জ্বালানি তেলের সংকট নেই এবং পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। দেশে এখন ১ লাখ ৪৩ হাজার টন ডিজেল, ৯ হাজার ৫৬৯ টন অকটেন এবং ১৬ হাজার ৮১২ টন পেট্রোল মজুত আছে।

এ সময় জ্বালানি তেলে সরকারের ভর্তুকির বিষয়টিও তুলে ধরেন তিনি। জ্বালানি বিভাগের এই সচিব জানান, প্রতি মাসে জ্বালানি খাতে সরকারকে ২ হাজার থেকে আড়াই হাজার কোটি টাকা পর্যন্ত ভর্তুকি দিতে হচ্ছে। বর্তমানে প্রতি লিটার ডিজেল ১০০ টাকায় বিক্রি হলেও প্রকৃতপক্ষে এর দাম হওয়া উচিত প্রায় ১৫৫ টাকা। অর্থাৎ প্রতি লিটার ডিজেলে সরকারকে প্রায় ৫৫ টাকা ভর্তুকি বহন করতে হচ্ছে।

আরও পড়ুন
HAAM

হামের উপসর্গ নিয়ে ২৬ দিনে ১৬৬ শিশুর মৃত্যু

জ্বালানি তেলের অবৈধ মজুতের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে এরপর তিনি জানান, সারা দেশে পরিচালিত ৭ হাজার ৩৪২টি অভিযানে ৪ লাখ ৬৯ হাজার ৪২ লিটার অবৈধভাবে মজুত করা জ্বালানি তেল উদ্ধার করা হয়েছে। তার মতে, বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরির পেছনে অতিরিক্ত কেনা ও মজুত করার প্রবণতা একটি বড় কারণ, যা পরিবর্তন না হলে পরিস্থিতির স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়।

ভবিষ্যৎ প্রস্তুতির বিষয়ে মনির হোসেন চৌধুরী বলেন, অন্তত তিন মাসের জ্বালানি মজুত সক্ষমতা গড়ে তুলতে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। একইসঙ্গে এলপিজির দাম নিয়ে ভোক্তাদের অভিযোগও খতিয়ে দেখা হবে বলে জানান তিনি।

আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির প্রসঙ্গ টেনে জ্বালানি বিভাগের যুগ্ম সচিব আরও বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত সাময়িকভাবে বন্ধ হলেও এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব বৈশ্বিক অর্থনীতিতে পড়বে, যার প্রভাব বাংলাদেশও এড়াতে পারবে না। 

তবে, চলতি এপ্রিল মাসে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হয়নি উল্লেখ করে তিনি বলেন, জনগণের স্বার্থ বিবেচনা করেই সরকার এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। যুদ্ধ পরিস্থিতির উন্নতি হলে সার্বিক অবস্থা পর্যালোচনা করে ভবিষ্যতে জ্বালানি তেলের দাম সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

আরটিভি/এসএইচএম