শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬ , ০৭:০১ পিএম
মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘস্থায়ী উত্তেজনার প্রভাবে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছিল, তার প্রভাব পড়ে বাংলাদেশের জ্বালানি খাতেও। বিশেষ করে আমদানিনির্ভর এলএনজি ও এলপিজি সরবরাহে চাপ সৃষ্টি হয়। তবে সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতির পর আন্তর্জাতিক বাজার কিছুটা স্থিতিশীল হওয়ায় দেশের জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে তৎপর হয়েছে সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলো।
এ প্রেক্ষাপটে আগামী ১৫ এপ্রিলের মধ্যে অন্তত পাঁচটি জ্বালানিবাহী জাহাজ দেশে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, এসব জাহাজ আগমনের ফলে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ বাড়বে, বিদ্যুৎ উৎপাদনে স্থিতিশীলতা ফিরবে এবং শিল্পকারখানা ও গৃহস্থালি খাতে চলমান জ্বালানি সংকট কিছুটা লাঘব হবে।
সূত্র অনুযায়ী, ১০ এপ্রিল মালয়েশিয়া থেকে প্রায় ২ হাজার ৪৭০ টন এলপিজি নিয়ে ‘মর্নিং জেলি’ নামের একটি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। একই দিনে যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রায় ৬৯ হাজার টন এলএনজি বহনকারী ‘ইএমইআই’ জাহাজ মহেশখালীর ভাসমান স্টোরেজ ও রিগ্যাসিফিকেশন ইউনিটে (এফএসআরইউ) ভিড়বে। পরদিন ১১ এপ্রিল একই উৎস থেকে ‘কংটং’ নামের আরও একটি এলএনজি জাহাজ সেখানে পৌঁছাবে।
এছাড়া ১৩ এপ্রিল মালয়েশিয়া থেকে এলপিজি নিয়ে ‘পল’ নামের একটি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। সর্বশেষ ১৫ এপ্রিল অস্ট্রেলিয়া থেকে প্রায় ৬৪ হাজার ৬৭৮ টন এলএনজি বহনকারী ‘ম্যারান গ্যাস হাইড্রা’ জাহাজটি দেশে পৌঁছাবে।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জ্বালানিবাহী জাহাজগুলোকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বার্থিং দেওয়া হচ্ছে, যাতে দ্রুত খালাস কার্যক্রম সম্পন্ন করা যায়। এর আগে ৮ এপ্রিল মালয়েশিয়া থেকে ২৬ হাজার টন অকটেন নিয়ে ‘এমটি সেন্ট্রাল স্টার’ বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছায় এবং পরদিন পতেঙ্গার ডলফিন জেটিতে নোঙর করার পর খালাস কার্যক্রম শুরু হয়। একই সময়ে ‘ইস্টার্ন কুইন্স’ নামের আরেকটি ট্যাংকার উচ্চ সালফারযুক্ত ফুয়েল অয়েল নিয়ে বন্দরে আসে।
অন্যদিকে, এপ্রিলের শুরুতেই যুক্তরাষ্ট্র ও নাইজেরিয়া থেকে দুই দফায় মোট প্রায় ১ লাখ ৩৮ হাজার টনের বেশি এলএনজি দেশে পৌঁছেছে। রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেড (আরপিজিসিএল) জানিয়েছে, পুরো এপ্রিল মাসজুড়ে মোট ৯টি এলএনজি জাহাজ দেশে আসার কথা রয়েছে। এর মধ্যে ইতোমধ্যে দুটি জাহাজ পৌঁছেছে এবং সেগুলোর গ্যাস খালাস প্রক্রিয়া চলমান।
সংশ্লিষ্টদের মতে, ধারাবাহিকভাবে জ্বালানিবাহী জাহাজ আগমনের ফলে দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন, শিল্পখাত এবং গৃহস্থালি জ্বালানি ব্যবস্থায় স্বস্তি ফিরবে। আন্তর্জাতিক বাজার স্থিতিশীল থাকলে এবং সরবরাহ শৃঙ্খল বজায় থাকলে আগামী মাসগুলোতে জ্বালানি পরিস্থিতি আরও উন্নত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
আরটিভি/এসকে