রোববার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬ , ০৮:৪৮ এএম
সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর জামিন পাওয়া ভালো সিদ্ধান্ত হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর অবসরপ্রাপ্ত হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম।
শনিবার(১৮ এপ্রিল) দুপুরে ভোলা সার্কিট হাউসে স্থানীয় সুধীজনদের সঙ্গে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
স্পিকার বলেন, বিচার বিভাগ স্বাধীন এবং তারা নিশ্চয়ই সবকিছু বিচার বিশ্লেষণ ও আইনগত দিক বিবেচনা করেই এই জামিন প্রদান করেছেন। আমার ব্যক্তিগত মতামত হলো এটি একটি ভালো কাজ হয়েছে। একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে আদালতের প্রতিটি সিদ্ধান্তকে সম্মান জানানোই আমাদের সবার দায়িত্ব এবং আমি মনে করি এই আইনি প্রক্রিয়াটি সঠিকভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
দলীয় রাজনীতির বর্তমান পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমি দলীয় সকল পদ থেকে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেছি। তাই দলীয় রাজনীতির জটিল কোনো বিষয় নিয়ে আমি এখন আর অতটা মাথা ঘামাই না। তবে আমার ব্যক্তিগত প্রত্যাশা হলো বাংলাদেশে যতগুলো রাজনৈতিক দল রয়েছে তাদের সবার মধ্যে একটি শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান থাকুক। রাজনীতির মাঠে পারস্পরিক সম্মান এবং গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় থাকলে দেশের সার্বিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হয়।
গত দুই দশকের দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট নিয়ে স্পিকার বলেন, বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ কোনো স্বৈরশাসককে কখনোই মেনে নেয়নি। আমরা অত্যন্ত ভাগ্যবান যে আমাদের দেশের জনগণ রাজনীতি সচেতন এবং তারা গণতন্ত্রের মূল্য বোঝেন। গত বিশ বছর যাবত এ দেশের মানুষ সত্যিকারের গণতন্ত্রের দেখা পায়নি। অনেক অত্যাচার নিপীড়ন গুম এবং খুনের ভয়ংকর সব অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হয়েও বাংলাদেশের মানুষ দমে থাকেনি। তারা সব নির্যাতন উপেক্ষা করে রাজপথে নেমে এসে গণতন্ত্রকে আবারও প্রতিষ্ঠিত করেছে। ২০২৪ সালের সেই ঐতিহাসিক আন্দোলন সারা বিশ্বের মানুষের নজর কেড়েছে এবং মানবাধিকার সুপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
বর্তমান সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে স্পিকার বলেন, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বর্তমান সরকার দেশের মানুষের জন্য সুখ ও সমৃদ্ধি বয়ে নিয়ে আসবে। রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে একটি রাজনৈতিক দলের প্রধান কাজ হলো অর্থনীতির উন্নয়ন সাধন করা এবং বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পরপরই সে ব্যাপারে কার্যকরী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। আমরা সবাই আশা করি বাংলাদেশে দলমত নির্বিশেষে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হবে। রাজনৈতিক মতাদর্শ ভিন্ন হলেও কেউ যেন কোনো কারণে হেনস্তার শিকার না হয় সেই পরিবেশ আমরা দেখতে চাই।
মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন ভোলার জেলা প্রশাসক ডা শামীম রহমান এবং পুলিশ সুপার শহিদুল্লাহ কাওছার। এছাড়া জেলা পরিষদের প্রশাসক ও ভোলা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক গোলাম নবী আলমগীর এবং জেলা বিএনপির সদস্য সচিব রাইসুল আলমসহ স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
আরটিভি/এআর