রোববার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬ , ০৮:০০ পিএম
বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদারে অভিন্ন ঐতিহ্যের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেছেন, বাংলাদেশ ও ভারতের সাংস্কৃতিক সম্পর্ক জাতীয় সীমানার চেয়েও প্রাচীন ও গভীর।
শনিবার (১৮ এপ্রিল) সন্ধ্যায় ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনের আয়োজনে পহেলা বৈশাখ ও বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে দুই দিনব্যাপী সংগীতানুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন।
‘বাঁধন আছে প্রাণে প্রাণে: অন্তর্লীন ঐক্যের সুর’ শীর্ষক এ আয়োজনটি ১৭ ও ১৮ এপ্রিল ইন্দিরা গান্ধী কালচারাল সেন্টারে অনুষ্ঠিত হয়। এতে বাংলাদেশ ও ভারতের খ্যাতিমান শিল্পীরা অংশ নেন।
বাংলাদেশের বিশিষ্ট রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী অদিতি মহসিন ভারতের প্রখ্যাত শিল্পী শ্রীকান্ত আচার্যের সঙ্গে সংগীত পরিবেশন করেন, যা দুই দেশের অভিন্ন সংগীত ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রতিফলন ঘটায়।
প্রণয় ভার্মা বলেন, তাদের উপস্থিতি আমাদের মধ্যে বিদ্যমান সাংস্কৃতিক ধারাবাহিকতার প্রতীক, যা সংগীত ও সাহিত্যের অভিন্ন ঐতিহ্যের মাধ্যমে দুই দেশের মানুষকে একসূত্রে গেঁথে রেখেছে।
তিনি আরও বলেন, এ ধরনের সাংস্কৃতিক বিনিময় কেবল শিল্পচর্চা নয়; বরং পারস্পরিক বোঝাপড়া বৃদ্ধি, আস্থা গড়ে তোলা এবং জনগণের মধ্যে সম্পর্ক জোরদারের সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করে।
পহেলা বৈশাখকে তিনি বাঙালির পরিচয়, সহনশীলতা ও সম্মিলিত আকাঙ্ক্ষার পুনঃপ্রতিষ্ঠা হিসেবে উল্লেখ করেন, যা বাংলার কৃষিভিত্তিক ঐতিহ্যের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত।
তিনি বলেন, এ ধরনের আয়োজন দুই দেশের জনগণের মধ্যে বিদ্যমান দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করে, যা সমৃদ্ধ ও বিকাশমান সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে।
ভারতীয় হাইকমিশনার জানান, ভারতীয় হাইকমিশনের উদ্যোগে ইন্দিরা গান্ধী সাংস্কৃতিক কেন্দ্র দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশে শিল্প, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক সংলাপের প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করছে এবং এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।
অনুষ্ঠানটি এইচএসবিসি বাংলাদেশের অংশীদারিত্বে আয়োজিত হয়। এতে জ্যেষ্ঠ সরকারি কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী, গণমাধ্যমকর্মী, অ্যাকাডেমিক ব্যক্তিত্ব এবং সাংস্কৃতিক অঙ্গনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রণয় ভার্মা বলেন, এই পহেলা বৈশাখ উদ্যাপনের মাধ্যমে আমরা ভারত ও বাংলাদেশের বন্ধুত্ব ও সহযোগিতাকেও উদ্যাপন করছি।
আরটিভি/এমএইচজে